আমসহ কোনো মৌসুমী ফলেই ফরমালিন পায়নি বিএসটিআই

আমসহ কোনো মৌসুমী ফলেই ফরমালিন পায়নি বিএসটিআই

আমসহ কোনো মৌসুমী ফলেই ফরমালিন পায়নি বিএসটিআই

বাংলাদেশের ভোক্তাদের জন্য একটি স্বস্তির খবর দিয়েছে পণ্যের গুণাগুণ-মান নির্ধারক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনসটিটিউট (বিএসটিআই)। হাইকোর্টের সাম্প্রতিক এক নির্দেশ তামিল করতে গিয়ে বাজার থেকে আমসহ ২৬৫টি মৌসুমি ফল পরীক্ষা করেছে বিএসটিআই। কিন্তু এর কোনোটিতেই ক্ষতিকারক রাসায়নিকের উপস্থিতি পায়নি সরকারি এ সংস্থাটি।

বিএসটিআই মনে করে, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, আদালতের চাপ এবং বাজার মনিটরিং তৎপরতা নিবিড় করার ফলে এবার পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে।

এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি আগামী ১৮ জুন বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএসটিআইয়ের কৌঁসুলি ব্যারিস্টার সরকার এম আর হাসান।

তিনি বলেন, ফলমূল, মাছ-মাংস ইত্যাদিতে ফরমালিন বা বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় কি না, তা তদারক করা বিএসটিআইয়ের আইনে অন্তর্ভুক্ত নয়। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশনা ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে বিএসটিআই দীর্ঘদিন যাবত ফলে ফরমালিন মিশ্রণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এর আগে, আমসহ মৌসুমি ফল পাকানোয় ক্ষতিকর কেমিক্যালের ব্যবহার রোধে হাইকোর্টে আবেদন করেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। ওই আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গত ২০ মে হাইকোর্ট আমসহ অন্যান্য ফল পাকানো বা সংরক্ষণে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার রোধে এক সপ্তাহের মধ্যে পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। গঠিত কমিটিকে দেশের সব ফলের বাজার ও আড়তে এ বিষয়ে নজরদারি করতে বলা হয়। আদালতের এই আদেশ বাস্তবায়ন করে ১৮ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বিএসটিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ বিবাদীদের নির্দেশ দেয়।

ওই নির্দেশের পরিপ্রক্ষিতে খোলাবাজার থেকে ২৬৫টি ফলমূলের নমুনা সংগ্রহ করে বিএসটিআই। ৪৮টি মোবাইল কোর্ট/সার্ভিল্যান্স টিমের সাহায্যে এই নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া রমজান মাসে ঢাকা মহানগরের নিউ মার্কেট, মালিবাগ, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর এলাকায় বিভিন্ন মার্কেট ও সুপারশপ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর বিভাগীয় শহরসহ বিভিন্ন জেলা শহরে জনসাধারণের উপস্থিতিতেও ভ্রাম্যমাণ ল্যাবের মাধ্যমে ফরমালিন পরীক্ষা করা হয়েছে। যার কোনটিতেই ফরমালিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর যাত্রাবাড়ীসহ কয়েকটি আড়তে কার্বাইড দিয়ে অপরিপক্ব আম পাকানোয় বিষয়টির প্রমাণ পাওয়ায় প্রায় ৬০০ মণ আম ধ্বংস করার পাশাপাশি ৩০ লাখ টাকা ব্যবসায়ীদের জরিমানা করেছে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিএসটিআই এই অভিযানে অংশ নেয়।

ইতোমধ্যে, আমসহ মৌসুমি ফলে ক্ষতিকর কেমিক্যালের ব্যবহার রোধে র‍্যাব ও জেলা পরিষদ কর্তৃক গঠিত বাজার মনিটরিং টিমে বিএসটিআইয়ের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এদের সঙ্গে বিএসটিআই নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও মনিটরিং কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।

এছাড়াও, ফরমালিন ও কার্বাইডযুক্ত ফল আটকাতে ঢাকার আটটি প্রবেশপথে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। এসব প্রবেশপথে আমসহ অন্যান্য ফল প্রবেশের সময় তা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ক্ষতিকর কেমিক্যালের উপস্থিতি পেলে জরিমানা করা হয় ব্যবসায়ীদের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশ্রিত ফল প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য