গোবিন্দগঞ্জে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবীতে ছেলের বাড়ীতে অবস্থান

গোবিন্দগঞ্জে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবীতে ছেলের বাড়ীতে অবস্থান

গোবিন্দগঞ্জে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবীতে ছেলের বাড়ীতে অবস্থান

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবীতে দুদিন ধরে ছেলের বাড়ীতে অবস্থান নিয়েছে রাভিনা খাতুন নামের এক মেয়ে। এ ঘটনার পর মেহেদী হাসান আত্মগোপনে চলে যায়।

জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ গ্রামের আঃ মতিন প্রধানের ছেলে মেহেদী হাসানের সাথে পার্শ্ববর্তী তালুককানুপুর ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামের রাজু প্রধানের মেয়ে রাভিনা খাতুনের এক বছর পূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয়।

তাদের দুজনের পরিচয়ের সুবাদের বিভিন্ন সময়ে একে অপরের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎও হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্কটি ছেলে এবং মেয়ের পরিবারের মাঝে জানাজানি হয়। এরপর মতিন বিভিন্নভাবে ছেলেকে শাসন-গর্জন করে। তারপরেও মেহেদী রাভিনার সঙ্গে দেখা করতে যায়। এরই একপর্যায়ে মেহেদী ওই মেয়ের বাড়ীতে দেখা করতে গেলে ছেলের মামা রফিকুল ইসলামের উপস্থিতিতে সাড়ে ৪ লাখ টাকা দেন মোহরে বিয়ে সম্পর্ণ হয়।

রাভিনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, গত ২০ মার্চ রেজিট্রির মাধ্যমে মেহেদীর সঙ্গে তার বিয়ে সম্পর্ণ হয়। বিয়ে রেজিট্রির পর পরিক্ষার কথা বলে মেহেদীকে তার মামা রফিকুল ইসলাম সঙ্গে নিয়ে বাড়ীতে চলে যায়। পরবর্তীতে মেহেদী হাসানের মামা তালুককানুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজিকে দিয়ে ওই বিয়ের রেজিট্রি বাতিল করে। এরপর নিরুপায় হয়ে মঙ্গলবার বিকেলে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবীতে ছেলের বাড়ীতে অবস্থান নেন তিনি।

এ ঘটনায় তালুককানুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আতিকের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার মুঠোফোন ০১৭১৩৭৭৬৬৭৮ নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

রাভিনার অভিযোগ অস্বীকার করে মেহেদীর বাবা আঃ মতিন বলেন, তারা বিয়ের বিষয়টি জানেন না। এরপর মেয়েটি যে রেজিট্রির কাগজ হাতে নিয়ে এসেছে সেটাও বাতিল লেখা রয়েছে। তার ছেলে এবারে সদ্য এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তার বিয়ের বয়স হয়নি। মেয়েটি ডিগ্রি ১ম বর্ষে পড়াশুনা করছে আর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। এটা কিভাবে মেনে নেয়া সম্ভব। তারপরেও উভয়পক্ষের অভিভাবকরা বসে এটির একটা সমাধান করতে হবে।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েটির কাছে বিয়ের ডকুমেন্ট দেখতে পান। এরপর পুলিশ সেখান থেকে ফিরে আসে। এটা তাদের পারিবারিক ব্যাপার বলে পুলিশ সেখান থেকে ফিরে আসে।

পাঠকের মন্তব্য