বাজেট অনুযায়ী দাম কমতে পারে যেসব পণ্যের

বাজেট অনুযায়ী দাম কমতে পারে যেসব পণ্যের

বাজেট অনুযায়ী দাম কমতে পারে যেসব পণ্যের

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। অসুস্থতা নিয়েই এতে যোগ দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাজেট পেশের এক পর্যায়ে তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা অবনতি হলে স্পিকারের সম্মতি নিয়ে বাজেট পেশ শুরু করেন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এবারের প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী দাম কমতে পারে যেসব পণ্যের, তা হলো- ক্যান্সারের ওষুধ, রপ্তানিমুখী পোশাক, লিফট, স্বর্ণ, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রাংশ, রড, তথ্য প্রযুক্তিসেবা, দেশে তৈরি ফ্রিজ, বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র, ইট, বাড়ির বাগানে ব্যবহৃত নারকেলের খোসা এবং গুড়া ও বৈদ্যুতিক পাখা ইত্যাদি।

এদিকে বাজেট পেশকালে ক্ষণে ক্ষণেই আটকে যাচ্ছিলেন অর্থমন্ত্রী। একসময় তাকে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়ার জন্য সময় দেন স্পিকার। বিশ্রাম নেয়ার পরও আ হ ম মুস্তফা কামাল অসুস্থতা বোধ করায় প্রধানমন্ত্রী নিজে বাজেট পেশ করার জন্য স্পিকারের কাছে অনুমতি চান। স্পিকার অনুমতি দিলে প্রধানমন্ত্রী তার চেয়ারে বসে বাজেট বক্তব্য পেশ করার অনুমতি প্রার্থণা করেন। এরপর স্পিকার তাকে সেই অনুমতি দিলে অর্থমন্ত্রীর পেশকৃত বক্তব্যের পর থেকে তিনি বাজেট পেশ শুরু করেন। বিকাল ৪:৪০ মিনিটে বাজেট পেশ শেষ হয়।

বাংলাদেশ নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে আজকের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শীর্ষক প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। যা সার্বিকভাবে দেশের ৪৮তম এবং আওয়ামী লীগ সরকারের ২০তম বাজেট হতে যাচ্ছে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে এক বিশেষ বৈঠকে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল ও মন্ত্রিপরিষদের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীগণ।

একাদশ সংসদে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম বাজেট এটি। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ২০০৯-১০ থেকে ২০১৮-১৯ টানা ১০ অর্থবছর বাজেট পেশ করেছেন। গত বছরের ৭ জুন মুহিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার সবশেষ বাজেট পেশ করেন।

আগামী অর্থবছরের জন্য রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় ১৭.৯২ শতাংশ বেশি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের দায়িত্ব পাচ্ছে। এনবিআর-বহির্ভূত রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা। কর-বহির্ভূত খাত থেকে আহরণ করা হবে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। আর বিদেশি অনুদান হিসেবে আসবে ৪ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা।

সবচেয়ে বেশি ৬৯ হাজার ২৬০ কোটি টাকা ব্যয় হবে সরকারি কর্মীদের বেতন-ভাতার পেছনে। উন্নয়ন বাজেট হবে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় ২১.৩৮ শতাংশ বেশি।

বাজেটে থাকা ঘাটতি ১ লাখ ৪১ হাজার ২১২ কোটি টাকা পূরণে সরকার বিদেশি উৎস থেকে ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি এবং দেশি উৎস থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ঋণ নিতে যাচ্ছে।

পাঠকের মন্তব্য