স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদানে যেসব বিভ্রান্তি রয়েছে 

স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদানে যেসব বিভ্রান্তি রয়েছে 

স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদানে যেসব বিভ্রান্তি রয়েছে 

আজ বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদানে উৎসাহিত করতে এ দিবস পালন করা হয়। সেইসঙ্গে সম্মান জানানো হয় লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচানো স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতাদের।

১৯৯৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক রক্তদান দিবস পালন এবং ২০০০ সালে ‘নিরাপদ রক্ত’-এই থিম নিয়ে পালিত বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০০৪ সালে প্রথম এ দিবসটি পালিত হয়। ২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য অধিবেশনের পর থেকে প্রতিবছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ দিবস পালনকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী সব মানুষই স্বেচ্ছায় রক্তদান করতে পারবেন। তবে এতে এমন কিছু শর্ত রয়েছে, যার ফলে রক্তদান নিয়ে ভুল ধারণা বা বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে তেমন কিছু বিভ্রান্তি সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

১. নিরামিষভোজীরা স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে পারেন না বলা হয়ে থাকে। মূলত নিরামিষভোজীদের খাদ্যে আয়রন কম থাকে বলে এমনটা মনে করা হয়। কিন্তু নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ করলে রক্তে আয়রন কম হওয়ার কোনো কারণ থাকতে পারে না।

তবে রক্তে যদি আয়রন সত্যি কম থাকে, তাহলে নিরাপত্তার স্বার্থেই রক্ত না দেওয়া উচিত। বেশির ভাগ দেশে রক্তদানের আগে হিমোগ্লোবিন টেস্ট করে জেনে নেওয়া হয় রক্তদানকারী অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন কি না।

আপনি যদি অন্তঃসত্ত্বা কিংবা প্রসূতি হন, শিশুকে স্তন্যদান করেন, কিংবা আপনার যদি অ্যাবোরশন হয়ে থাকে, তাহলে রক্তে আয়রনের মাত্রা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আপনাকে রক্তদানের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

২. অসুস্থ, অন্তঃসত্ত্বা, শিশু কিংবা বয়োবৃদ্ধের রক্ত দেওয়া নিরাপদ নয়। যারা এইচআইভি পজিটিভ (এইডস আক্রান্ত), হেপাটাইটিস, সিফিলিস, যক্ষ্মা, এবং রক্তবাহিত আরও কিছু রোগে আক্রান্ত তারা রক্তদান করতে পারবেন না।

৩. ঠান্ডা, সর্দিজ্বর, খুসখুসে কাশি, পেট খারাপ থেকে শুরু করে যে কোনো অসুখ থেকে সম্পূর্ণভাবে সেরে ওঠার ১৪ দিন পর আপনি রক্ত দিতে পারবেন। অ্যান্টিবায়োটিক নেওয়া রোগীরা কোর্স শেষ হওয়ার সাত দিন পর রক্ত দিতে পারবেন।

৪. রক্তদানের জন্য ন্যূনতম বয়স হচ্ছে ১৬ বছর। বেশির ভাগ দেশে এই বয়সী তরুণদের রক্তদানের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি লাগে।

রক্ত দেওয়ার সময় এই বয়সী তরুণদের জ্ঞান হারানোর ঝুঁকিও বেশি থাকে। নিয়মিত রক্তদানকারীদের কোনো সর্বোচ্চ বয়সসীমা নেই। কোনো কোনো দেশে এটা ৬০-৭০ বছর।

৫. জীবনে নানা ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। রক্তদানের ক্ষেত্রে সেগুলো সমস্যা হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ‘ঝুঁকিপূর্ণ যৌনাচার’, যেমন বহুগামিতা, অর্থের বিনিময়ে যৌনসংগম, পুরুষ সমকামিতা ইত্যাদি রক্তদানে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরই রক্তদানের অনুমতি দেওয়া হয়। ইনজেকশনের মাধ্যমে যারা নেশা করেন তারাও রক্ত দিতে পারবেন না।

৬. মশা-বাহিত ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু এবং যিকা ভাইরাসের প্রকোপ রয়েছে যেসব দেশে সেখান থেকে আসা কারও দেহ থেকে রক্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে।

৭. রক্তদান করলে কেউ মারা যায় না। দেহের ওজনের বিবেচনায় একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে গড়পড়তা পাঁচ লিটার রক্ত থাকে। প্রতিবার রক্তদানের সেশনে ৫০০ মিলিলিটার করে রক্ত নেওয়া হয়। রক্তদানের পর ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নতুন রক্ত তৈরি হয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করে।

পাঠকের মন্তব্য