বিয়ের মেহেদির শুকায়নি, সড়কে কেড়ে নিলো মামুনের প্রাণ ! 

সড়কে কেড়ে নিলো মামুনের প্রাণ ! 

সড়কে কেড়ে নিলো মামুনের প্রাণ ! 

নওগাঁ প্রতিনিধি : কিছুদিন পূর্বে মামুনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় হাতে লাগানো মেহেদির রঙ এখনো শুকায়নি। কিন্তু, সড়কে কেড়ে নিলো মামুনের প্রাণ! স্বপ্নগুলো সব আজ মামুনের থেমে গেল। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এমন মৃত্যু তার পরিবার ও আত্মীয় বন্ধু-বান্ধবরা যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না।

নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার আল মামুন হোসাইন (২৭) জন্ম। তাঁর জন্ম, বিয়ে ও মৃত্যু একই তারিখে নির্ধারণ করে রেখেছিলেন হয়তো স্রষ্টা।
মামুনের পরিবারের সদস্যরা জানায়, ১৩ তারিখে তার জন্ম, ওই তারিখেই বিয়েও হয়। আবার মহান আল্লাহ্ ডাকে সাড়া দিয়ে ওই ১৩ তারিখেই দুনিয়ার সমস্ত মায়া মহব্বত ত্যাগ করে এবং নববধূকে ছেড়ে পরপারের পথে যাত্রা করেন।

বৃহস্পতিবার (১৩জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি সড়কের ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পাশে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি চট্টগ্রামে ‘স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস’ ঔষধ কোম্পানিতে এমপিও হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে। পিতার নাম আফজাল হোসেন ভাদু।

জানা গেছে, রমজানের কয়েকদিন আগে মহাদেবপুর সদরের পার্শ্বে রামচন্দ্রপুরের মেয়ে শর্মীকে পারিবারিক ভাবে বিয়ে করেন আল মামুন হোসাইন। এরপর ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়িতে আসেন এবং গত ৭ জুন শুক্রবারে আবারো নতুনভাবে তাদের বিয়ে সাজিয়ে অনুষ্ঠান করেন আল মামুনের পরিবার। এরপর ৮ জুন শনিবার বউ ভাত অনুষ্ঠিত হয়। ছুটি শেষে আল মামুন ৯ জুন কর্মস্থল চট্টগ্রামে মা এবং বউকে সঙ্গে নিয়ে যান। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি চট্টগ্রামের মানিকছড়ি থেকে ফটিকছড়ি সদরে যাচ্ছিলেন।

পথিমধ্যে ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পাশে মোটরসাইকেলের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে আল মামুন গুরুতর আহত হন। এসময় তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।ঘটনার পর আল মামুন এর সহকর্মীরা (কলিগ) এবং এলাকাবাসীরা বিভিন্নভাবে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ছবিসহ আপলোড করতে থাকেন। এরপর বিষয়টি জানার পর আল মামুনের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। জানা গেছে, আল মামুনেরা তিন ভাই-বোন। মাহফুজা, মিনি এবং নিহত আল মামুন । সে সবার ছোট। মধ্যবিত্ত পরিবার।

ঝাঙ্গাল পুকুরিয়ায় তার বাবার একটি ছোট মুদি দোকান আছে। অভাবি সংসারে কষ্ট করে পড়াশুনা করেছেন আল মামুন। প্রায় দেড় বছর হলো ঔষধ কোম্পানিতে যোগদান করেন। সংসারে সুখের ছায়া এখনো পুরোপুরি আসেনি। কিন্তু তার আগেই একটি সড়ক দুর্ঘটনায় স্বপ্ন সব কেড়ে নিল। নববধুকে রেখেই না ফেরার দেশে চলে যেতে হলো আল মামুনকে।

আল মামুনের এক কলিগ শাহিন উদ্দিন তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘দেখা হবে না আর, কথা হবে না আর। সড়ক দুর্ঘটনায় কেড়ে নিল। প্রিয় মামুন ভাইকে। আল্লাহ প্রিয় ভাইকে জান্নাত দান করুন। আমিন।’ আরেক সহকর্মী ফরকানুল ইসলাম বলেন, ‘নিজেকে কিভাবে সান্তনা দিব বুঝতেছি না।

এত চেষ্টার পরও আপনাকে বাঁচাতে পারলাম না। আল্লাহ আপনাকে পরপারে ভাল রাখুক। আমিন।’ মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার কাছেই প্রথমে শুনলাম। তবে নিহতের পরিবার কোন ধরণের সহযোগিতা চাইলে সাহায্য করা হবে।

পাঠকের মন্তব্য