পাইকগাছায় উন্নয়ন বঞ্চিত নুনিয়াপাড়া এলাকার বেহাল রাস্তা

পাইকগাছায় উন্নয়ন বঞ্চিত নুনিয়াপাড়া এলাকার বেহাল রাস্তা

পাইকগাছায় উন্নয়ন বঞ্চিত নুনিয়াপাড়া এলাকার বেহাল রাস্তা

পাইকগাছার সোলাদানা ইউনিয়ানের নুনিয়াপাড়া  এলাকা গুলো সকল সময় উন্নয়ন বঞ্চিত রয়েছে। যাদের  ভোট ব্যাংকের উপর ভিত্তি করে একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে নামলেও নির্বাচন পরবর্তীতে তাদের এলাকা উন্নয়নে বেমালুম ভুলে যান নির্বাচিত ব্যক্তিরা। তবে বর্তমান সাংসদ কি করেন,  এটাই দেখার অপেক্ষায়  অবহেলিত পাইকগাছার নুনিয়াপাড়া গ্রামের জনগণ। এ ক্ষেত্রে পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউপির চৌরাস্তা নামক স্থান হতে শিবসা নদীর ওয়াপদা বাঁধ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার নুনিয়াপাড়া গ্রাম। যেখানে  শতভাগ জনগণ হিন্দু । 

কিন্তু অবাক হলেও সত্য গ্রামটির চলাচলের রাস্তাটি আজও কাঁচা ও কিছু অংশ ইটের সোলিং এর জরাজীর্ণ। ড়উক্ত গ্রামটিতে জাতীয় নির্বাচনে নৌকার কোন এজেন্ট না দিলেও শত ভাগ ভোট নৌকায় পড়ে। আওয়ামী অধ্যুষিত এ এলাকায় উন্নয়নের কোন ছোয়া লাগে না।  ইতিপূর্বে সকল নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর বেমালুম ভুলে গিয়েছিল  রাস্তাটির সংস্কার বা মেরামত  কথা। ফলে নুনিয়াপাড়া গ্রামের রাস্তাটি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও কাদা মাটিতে পরিনত হলে চরম দুর্ভোগের স্বীকার হয়  শিক্ষার্থী সহ অত্র এ এলাকার জনগণ। সরেজমিনে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায় পাইকগাছা উপজেলার  সোলাদানা ইউপির চৌরাস্তা নামক স্থান হতে শিবসা নদীর বাঁধ পর্যন্ত দেড়  কিলোমিটার নুনিয়াপাড়া  গ্রামের রাস্তা ইটের সলিং ও কাঁচা রাস্তা। রাস্তাটির ইটের সলিং সরে শত শত গর্তে পরিণত হয়েছে। 

উক্ত সলিংয়ের রাস্তা ও কাঁচা রাস্তার গর্ত গুলোয় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে কর্দমাক্তোয় পরিণত হয়। গ্রামে পি এন কে ছালুবুনিয়া নামক  একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,  পার্শ্ববর্তী সোলাদানা গ্রামে  একটি মাধ্যমিক  বিদ্যালয় ও চৌরাস্তায় একটি কলেজ রয়েছে। গ্রাম হতে শত শত ছেলে মেয়ে বিদ্যালয় দুটি ও কলেজে  যাতায়াত করে। নুনিয়াপাড়া গ্রামটির  রাস্তার বেহাল দশার কারনে কোন যানবাহন সহজে প্রবেশ করতে পারে না। বিশেষ করে প্রাইমারী বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা এতই খারাপ ও সরু, যে স্থান দিয়ে শিক্ষার্থী দুরে থাক সাধারণের চলাচলও অযোগ্য। অথচ বিদ্যালয়ের সামনের এই রশি দুই রাস্তা ঠিক করার মত কেউ নেই।  আবার বর্ষা মৌসুমে উক্ত গ্রামের শিক্ষার্থীদের বই খাতা ভিজে কাদা মাটি মেখে বিদ্যালয়ে ও কলেজে  আসা যাওয়া করতে হয়। এছাড়া উক্ত এলাকায় রয়েছে চিংড়ি চাষের একাধীক মৎস্য লীজ ঘের। ভাংগাচুরা রাস্তার কারণে বাগদা,  গলদা ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ সরবরাহের জন্য কোন যানবাহন নুনিয়াপাড়া গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। সেক্ষেত্রে ব্যাগে অথবা মাথায় করে মাছ বহন করতে হয় এলাকারর জনগণের। যাতে এলাকার লোকজন অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।  

আবার রুটি-রুজি আয়ের জন্য শত শত মটরসাইকেল জীবন বাজী রেখে  চলাচল করে এই ভঙ্গুর রাস্তা দিয়ে। তারা চৌরাস্তা দিয়ে গ্রামে প্রবেশ করতে না পেরে পশ্চিম কাইনমূখ গ্রাম ঘুরে ওয়াপদা রাস্তা দিয়ে ঢুকতে হয় নুনিয়াপাড়া গ্রামে। যা প্রতিনিয়ত তাদেরকে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। প্রতি ইউপি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে সকল প্রার্থীরা রাস্তাটি সংস্কারের জন্য বারংবার প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাস্তাটির কথা আর করোর খেয়াল থাকে না। জনৈক সাবেক ইউপ সদস্য পরিতোষ কুমার মন্ডল  বলেন, আমাদের এই এলাকা আওয়ামী ও হিন্দু  অধ্যুষিত এলাকা। এখানকার শতভাগ  ভোটার নৌকায় ভোট দিয়ে থাকে। আমাদের কাঙ্খিত দলটি দীর্ঘ ১০ বছর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকা স্বত্ত্বেও এ গ্রামের রাস্তা সংস্কার সহ এলাকার কোন উন্নয়ন সাবেক এমপিরা খেয়াল করিনি।  তবে আশা করছি বর্তমান সাংসদ আক্তারুজ্জামান বাবু  তারুন্যের অহংকার হিসাবে কোন ভুল করবেন না। তিনি আপন পর বিবেচনা করে আমাদের দিকে তাকাবেন এবং উন্নয়ন বঞ্চিত রাস্তাটি সংস্কারের ব্যবস্থা করে নিজের রিজার্ভ ভোট ধরে রাখবেন। তপন সানা  বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে আমাদের ছেলে-মেয়েরা বর্ষা মৌসুমে স্কুল-কলেজে যাওয়া প্রায় বন্ধ করে দেয়।  বাংলাদেশে   কোথাও এমন অবহেলিত এলাকা আছে বলে আমি মনে করি না। অথচ আমরা জন্ম সূত্রে নৌকার ভোটার। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে আমাদের উন্নয়ন করুক বা না করুক আমরা আওয়ামীলীগকে দিয়ে যাব। তবে বাবু ভাইয়ের আমলে  আশা করছি। 

কারণ তিনি ছাত্র জীবন থেকে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে পরিক্ষিত সৈনিক হিসাবে এখানে পৌঁছিয়াছেন। তার ভোট ব্যাংক এলাকার উন্নয়ন হবেই। রামপ্রসাদ সরদার বলেন, গত ১০ বছরে আমাদের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ফিরে তাকায় নি  নুনিয়াপাড়া গ্রামের দিকে,  তবে বাবু ভাই এমপি হয়েছে রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে আর জরাজীর্ণ থাকবে না এবং ধান্য ও মৎস্য মৌসুমে আমাদেরকে আর বেশি কষ্ট করা লাগবে না, ছেলে মেয়েরা স্বস্তিতে স্কুল কলেজে যেতে পারবে।  এলাকার শতশত লোকজন রাস্তাটি সংস্কারের জন্য স্থানীয় জন প্রতিনিধি সহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি এলাকার জনগণ বর্তমান সাংসদ তারুণ্যের প্রতীক আক্তারুজ্জামান বাবুর উপর পূর্ণ আস্তা আছে বলে জানিয়েছেন।

পাঠকের মন্তব্য