ডিআইজি মিজানকে গ্রেফতার নয় কেন : দুদককে আদালত 

ডিআইজি মিজানকে গ্রেফতার নয় কেন : দুদককে আদালত 

ডিআইজি মিজানকে গ্রেফতার নয় কেন : দুদককে আদালত 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালককে ঘুষ দেয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশের বিতর্কিত কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আদালত। দুদকের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে আদালত বলেছেন, ‘ডিআইজি (পুলিশের উপমহাপরিদর্শক) মিজানকে এখনও গ্রেফতার করছেন না কেন ? সে কি দুদকের চেয়েও বেশি শক্তিশালী ?

রোববার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ উষ্মা প্রকাশ করেন।

দুদক আইনজীবীর উদ্দেশ্যে আদালত বলেন, ‘আপনাদের একজন পরিচালকের বিরুদ্ধেও ঘুষগ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। যেখানে দুদক দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সেই প্রতিষ্ঠানের একজন পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ সতিই অ্যালার্মিং।’

আদালত আরও বলেন, ‘ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ওই টাকার বিপরীতে বন্ধককৃত সম্পত্তি ছাড়িয়ে নিতে হাইকোর্টে আবার রিট করা হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।’

রোববার হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামের জামিনসংক্রান্ত শুনানির সময় আদালত এসব মন্তব্য করেন। পরে আদালত জেসমিন ইসলামের জামিন বাতিল করে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

এ সময় আদালতে দুদকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। তিনি আদালতকে বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। ডিআইজি মিজানের বিষয়টি তদন্ত চলছে।’

পরে আদালত বলেন, ‘দুদক কর্মকর্তা দুর্নীতিতে জড়িত হওয়ার বিষয়টি অ্যালার্মিং।’

প্রসঙ্গত ‘তুলে নিয়ে বিয়ে করলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার’ শিরোনামে গত বছরের ৭ জানুয়ারি যুগান্তরে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছাপা হয়। বিষয়টি তোলপাড় সৃষ্টি করে। এর পরই ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দফতরের তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এফঅ্যান্ডটি) বর্তমানে অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মইনুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির সদস্যরা হলেন- ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বর্তমানে অতিরিক্ত আইজিপি (এফঅ্যান্ডটি) শাহাব উদ্দিন কোরেশী ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) বিশেষ পুলিশ সুপার মিয়া মাসুদ করিম।

কমিটি গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন মহাপুলিশ পরিদর্শকের কাছে জমা দেন। এর পর নিয়মানুযায়ী প্রতিবেদনটি পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

এতে শুধু ডিআইজি মিজানুর রহমানই নন, তার গাড়িচালক এটিএসআই গিয়াস উদ্দিন ও বাসার অর্ডারলি এএসআই জাহাঙ্গীর আলমকে ডিএমপি থেকে সরিয়ে অন্যত্র পোস্টিংসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

পাঠকের মন্তব্য