গৃহবধূর উপর দিয়ে মোটর সাইকেল চালালো যুবক, গৃহবধূর মৃত্যু 

গৃহবধূর উপর দিয়ে মোটর সাইকেল চালালো যুবক, গৃহবধূর মৃত্যু 

গৃহবধূর উপর দিয়ে মোটর সাইকেল চালালো যুবক, গৃহবধূর মৃত্যু 

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে এক গৃহবধূর উপর দিয়ে মোটর সাইকেল চালিয়ে তাকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বিএস দাখিল মাদ্রাসার সামনে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী থানায় তিনজনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে নিহতের পূত্র।

প্রত্যক্ষদর্শী পশ্চিম বালাটারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৈয়ব আলী, স্থানীয় গৃহবধূ রেজিনা ও রহিমা জানান, ওই ইউনিয়নের বালাটারী গ্রামের মৃত: বাচ্চু মিয়ার বিধবা স্ত্রী আনজু বেগম (৩৮) এর সাথে পার্শ্ববর্তী নবী মিয়ার পূত্র রবিউল ইসলামের (২৫) গোপন সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের জেরে রবিউলকে মোটর সাইকেল ও ১ লাখ টাকা ব্যবসা করতে দেয় আনজু বেগম। পরে তাদের সম্পর্কের অবনতি হলে আনজু বেগম রবিউলের কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে রবিউল তাকে এড়িয়ে চলা শুরু করে এবং মোবাইলে তাকে হুমকী-ধামকী দেয়। রোববার সকালে নাওডাঙ্গা বিএস দাখিল মাদ্রাসার সামনে বালাটারী রাস্তার সামনে রবিউলের মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে তার সামনে দাঁড়ায় আনজু বেগম। এসময় রবিউল সোজা আনজু বেগমের শরীরের উপর দিয়ে মোটর সাইকেল চালিয়ে তাকে আহত করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত গৃহবধূকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী তাকে ফুলবাড়ী হাসপাতালে ভর্তি করায়।

ঘটনার বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার তদন্ত কর্মকর্তা এইআই হাবিবুর রহমান জানান, রবিউল ইসলামের সাথে আনজু বেগমের গোপন সম্পর্ক ছিল। তার এক মেয়ে অসুস্থ্য হওয়ায় তার চিকিৎসার জন্য রবিউলকে বিয়ে ও টাকার জন্য চাপ দেয় আনজু বেগম। এনিয়ে ক্ষিপ্ত ছিল রবিউল। সেদিন সকালে রবিউল তিনজনসহ যাচ্ছিল। এসময় মোটর সাইকেল আটকালে প্রথমে রবিউল তাকে লাত্থি দিয়ে সড়িয়ে দেয়। পরে গিয়ে আনজু বেগম আবার উঠে দাঁড়িয়ে মোটর সাইকেলের হ্যান্ডেল ধরতে চাইলে তাকে ধাক্কা দিয়ে জোড়ে মোটর সাইকেল চালিয়ে পালিয়ে যায়। মোটর সাইকেলের ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় পরে গিয়ে মাথার পিছনটা থেতলে যায় আনজু বেগমের। সেখানেই মৃত্যু ঘটে তার।

এ ব্যাপারে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বালাটারী ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার রফিকুল ইসলাম জানান, আনজু বেগম খুব সকালে আমার বাড়ীতে রবিউলের কাছে ১ লক্ষ টাকা পায় দাবিতে অভিযোগ নিয়ে আসে। লোক মুখে শুনেছি তাদের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের টানাপোড়নের কারণে পাওনা টাকা ফেরৎ দিতে অস্বীকার করে রবিউল। এজন্য আমি আনজু বেগমকে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেই। বিধবা আনজু বেগমের মৃত্যুতে তার ৩ মেয়ে এবং ২ পূত্র এখন এতিম হয়ে গেল। 
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা: আজরিন আক্তার জানান, কয়েকজন গ্রামবাসী আনজু বেগমকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। মেডিকেল অফিসার ডা: কাজী ফায়াদ চেক করে দেখেন তার দেহে প্রাণ নেই। এছাড়াও নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইসিজি করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফুলবাড়ী থানার তদন্ত কর্মকর্তা এইআই হাবিবুর রহমান জানান, নিহতের ছেলে দোদুল মিয়া রবিউলসহ তিনজনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

পাঠকের মন্তব্য