বালিশ মাসুদুল বুয়েট ছাত্রদলের ভিপি ছিলেন : প্রধানমন্ত্রী

বালিশ মাসুদুল বুয়েট ছাত্রদলের ভিপি ছিলেন : প্রধানমন্ত্রী

বালিশ মাসুদুল বুয়েট ছাত্রদলের ভিপি ছিলেন : প্রধানমন্ত্রী

পাবনার রূপপুরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলম এক সময় বুয়েট ছাত্রদলের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন এমন তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৭ জুন সোমবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ছাঁটাই প্রস্তাবের জবাব দিতে গিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী স ম রেজাউল করিমের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বালিশতত্ত্ব নিয়ে আমারও একটা প্রশ্ন আছে। পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র সেখানে গড়ে উঠছে। সেখানে আর কিছু না পেয়ে পেলো বালিশ। এটা কোন বালিশ।  কী বালিশ, সেটাও একটা প্রশ্ন? এটা কী তুলার বালিশ? কোন তুলা? কার্পাস তুলা না শিমুল তুলা; নাকি সিনথেটিক তুলা। নাকি জুটের তুলা। আর বালিশ নিয়ে রাস্তায় আন্দোলন করতে দেখলাম। এত মানুষ, এত বালিশ একদিনে কিনে ফেললো কীভাবে? এই বালিশ কেনার টাকার জোগানদারটা কে? সেটা আর বলতে চাই না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন বালিশতত্ত্ব নিয়ে এসেছেন। পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওই ঘটনায় যিনি দায়িত্বে ছিলেন, তার কিছু পরিচয় আমরা পেয়েছি। একসময় তিনি বুয়েটে ছাত্রদলের নির্বাচিত ভিপিও নাকি ছিলেন। তাকে সেখান থেকে সরানোও হয়েছে।যখনই তথ্য পেয়েছি, সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখানে (বিএনপিতে) এমন এমন লোক রয়ে গেছেন, তারা জন্ম থেকেই তাদের চরিত্র দুর্নীতির। তার কারণও আছে। এই দলটি (বিএনপি) যিনি করেছিলেন, তিনি সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় সংবিধান ও সামরিক আইন লঙ্ঘন করে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনিদের ইনডেমনিটি অর্ডারটাকে ভোটারবিহিন পার্লামেন্টে আইন হিসেবে পাস করিয়ে দিয়েছেন তিনি। অস্ত্রের মুখে সায়েম সাহেবকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে দিয়ে নিজেকে নিজে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে ক্ষমতায় এসেছিলেন জিয়া। ক্ষমতায় দখল করার পর তাদের হাতে যে দল গড়ে ওঠে, তাদের চরিত্রটা জানা উচিত। তাদের উৎসটাই হচ্ছে দুর্নীতি। দুর্নীতির মধ্যে থেকে উঠে আসা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পঁচাত্তরের পর থেকে দুর্নীতিটাকে নীতি হিসেবে গ্রহণ করে যারা দীর্ঘদিন রাষ্ট্রপরিচালনা করেছে সব জায়গায় এই জঞ্ঝাট ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে গেছে।’

বর্তমান সরকার দুর্নীতি করতে ক্ষমতায় আসেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতির অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা আমার বিরুদ্ধে বহুবার হয়েছে। বিএনপি-জামাত জোট আমার নিজের বিরুদ্ধে দিয়েছিল এক ডজন মামলা। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা। কিন্তু একটাও তো প্রমাণ করতে পারেনি। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকও দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিল। প্রমাণ করতে পারেনি। আমেরিকার এফবিআই ও স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে শুরু করে পৃথিবীর এমন কোনও সংস্থা নেই যে, তদন্ত না করেছে। কিন্তু কোনও দুর্নীতি আমার বা আমার পরিবারের বিরুদ্ধে করতে পারেনি। দুর্নীতির কোনও তথ্য না পেয়ে তারা বলতে বাধ্য হয়েছে সব অভিযোগ ভুয়া।’

সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুর্নীতি-জারাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু সরকারি চাকরিতে একবার ঢুকলে সেখান থেকে আর বের করা যায় না। তবে, দুর্নীতি দমন কমিশন এখন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে।’

গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির হোসেনের সুশাসন বিষয়ক বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি যে দল থেকে এসেছেন, তার দলে কি ডিসিপ্লিনটা আছে? সেটাও আমার প্রশ্ন? যার নিজের দলে সুশাসন নেই, গণতন্ত্র নেই, শৃঙ্খলা নেই, যেখানে কেউ কথা বলতে গেলেই বলা হয় খামোশ। তার থেকে কী আসা করা যায়?’ সুশাসন আছে বলেই আর্থ-সামাজিকভাবে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সংরক্ষিত আসনের এক এমপির প্রতিবার সংসদ সদস্য হওয়ার পর প্লট পাওয়ার দাবি প্রশ্নে বলেন, ‘এই প্রস্তাবটা শুনে খুব ভালো লাগলো। আমি ৭ বারের এমপি। এ পর্যন্ত একবারও প্লট পাইনি। মাত্র একবারই একটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি আমার দল কিনে দিয়েছিল। ওটা দিয়েছিল বলেই  ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছিলাম। প্রতিবার নিতে হবে, এটা ঠিক নয়।’

পাঠকের মন্তব্য