ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান করেও হারলো বাংলাদেশ  

ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান করেও হারলো বাংলাদেশ  

ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান করেও হারলো বাংলাদেশ  

১৪ বছরের আক্ষেপ ঘোচানো হলো না বাংলাদেশের। আরও একবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো টাইগারদের। কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে ২০০৫ সালে হাবিবুল বাশারের দল যা করেছিল মাশরাফীর দলও সেই অসাধ্যই সাধন করতেই আজ নটিংহ্যামের ট্রেন্ট ব্রিজে নেমেছিল।

হয়তো শেষ হাসিও হাসতে পারতো সাকিব-তামিম-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহরা। কিন্তু বোলারদের খরুচে বোলিং আর এক সাব্বির রহমানের বাজে ফিল্ডিং আর ব্যাটিংয়েই যেন জয় ফাঁকি দিয়ে চলে যায় টাইগার সমর্থকদের।

৩৮২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছে ৪৮ রানে। তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপে মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরি তাই বৃথাই গেল বলা চলে।   

সুবিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে যেমন শুরু চেয়ে বাংলাদেশ দল তেমনটা পায়নি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউটের শিকার হন ওপেনার সৌম্য সরকার। সঙ্গী তামিমের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে অ্যারন ফিঞ্চের দারুণ এক থ্রোতে রানআউটের শিকার হন তিনি।       

তবুও দারুণ ছন্দে থাকা সাকিব আল হাসানকে নিয়ে লড়াই করা শুরু করেন তামিম। ধীরস্থির ব্যাটিং করে এবারের আসরে প্রথম ফিফটিও তুলে নেন। কিন্তু যখনই মারমুখী হতে গেলেন তখনই মিচেল স্টার্কের বলে হলেন বোল্ড। বল তার ব্যাটের কানায় লেগে ভেঙে দেয় স্ট্যাম্প। ফলে ৬২ রানে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে। 

তামিমের আগে ৪১ রান করে সাজঘরে ফেরেন সাকিবও। বিশ্বকাপে রানের ফুলঝুরি ছুটিয়ে চলা সাকিব হাঁটছিলেন এবারের আসরে টানা পঞ্চম ফিফটির দিকে। তবে  ইনজুরি কাটিয়ে অজি দলে ফেরা মার্কোস স্টোইনিসে স্লোয়ারে ভুল করে বসেন তিনি। ক্যাচ তুলে দেন ওয়ার্নারের হাতে। 

সাজঘরে ফেরার আগে অবশ্য প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপের এক আসরে ৪০০'র বেশি রান করার কৃতিত্ব দেখান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব। এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচ ইনিংস খেলেই ১০৬.২৫ গড়ে ৪২৫ রান সংগ্রহ করে ফেলেছেন তিনি।

এদিকে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি লিটন কুমার দাসও। প্রথম বলেই স্টার্কের মরণঘাতী বাউন্সার হেলমেটে লাগলে খানিকটা যেন চাপে পড়ে যান লিটন। প্রাথমিক সেবা নিয়ে খেলা করলেও তাই বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি। ৩ চারের মারে ১৬ বলে মাত্র ২০ রান করেই লেগ বিফোরের ফাঁদে পা দেন লিটন।  

৪৯ ওভারে দলীয় ৩৬৮/৫ রানের সময় বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির কারণে খেলা আধা ঘণ্টা বন্ধ থাকে। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের শেষ ওভারে মোস্তাফিজের করা ওভারে ১৩ রান আদায় করে নেন মার্কু স্টইনিস ও অ্যালেক্স ক্যারি। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩৮১ রানে ইনিংস সমাপ্ত করে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ দলের হয়ে ৮ ওভারে ৫৮ রানে ৩ উইকেট নেন সৌম্য সরকার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে ৩৮১/৫ (ওয়ার্নার ১৬৬, উসমান ৮৯, ফিঞ্চ ৫৩, ম্যাক্সওয়েল ৩২, স্টইনিস ১৭*, অ্যালেক্স ক্যারি ১১*, স্মিথ ১; সৌম্য ৩/৫৮, মোস্তাফিজ ১/৬৯)।

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ৩৩৩/১০ (মুশফিক ১০২*,মাহমুদউল্লাহ ৬৯, তামিম ৬২, সাকিব ৪১)।

ফল: অস্ট্রেলিয়া ৪৮ রানে জয়ী।

পাঠকের মন্তব্য