ঠেকানো যাচ্ছে না পুলিশ নিয়োগে ঘুষ লেনদেন

ঠেকানো যাচ্ছে না পুলিশ নিয়োগে ঘুষ লেনদেন

ঠেকানো যাচ্ছে না পুলিশ নিয়োগে ঘুষ লেনদেন

সারাদেশে পুলিশে চাকরির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এতে নিয়োগ যেন স্বচ্ছ হয়, সে কারণে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের ৬৪ জেলায় একটি করে টিম গঠন করে দেয়া হয়েছে। ওই টিমের প্রধান হচ্ছে জেলা পুলিশ সুপার। এই টিমের কাজ এলাকার নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে দুর্নীতি বা ঘুষ লেনদেন যাতে না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি করা। কিন্তু এরপরও ঠেকানো যাচ্ছে না পুলিশ নিয়োগে ঘুষ লেনদেন। এক শ্রেণির দালালচক্র নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে তদবির ও লাখ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন করছে। গ্রেফতার ও জেল জরিমানা করেও ঠেকানো যাচ্ছে না এই লেনদেন। 

সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বন্দর নগরী চট্টগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তা সেজে পুলিশে চাকরি দেয়ার নামে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে দুই দালালকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- হাটহাজারী উপজেলার ভবানীপর এলাকার সুকেন্দ বিকাশ দাশের ছেলে চিরঞ্জীব দাশ প্রকাশ রঞ্জীব (৫৬) ও কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানা এলাকার আলতাফ হোসেনের ছেলে দুলাল আহম্মেদ ওরফে শাহ আলম (৫৫)।

অপরদিকে, টাঙ্গাইলে পুলিশে চাকরি দেয়ার কথা বলে টাকা লেনদেনের সময় হাতেনাতে পুলিশের এক এসআইসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।  শুক্রবার রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- জামালপুর সদর আদালতে কর্মরত এসআই মোহাম্মদ আলী ও জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার মো. খায়রুল বাশারের স্ত্রী শাহানাতুল আরেফিন সুমি (৩৫)। এসআই মোহাম্মদ আলী টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামের মৃত ইনছান আলীর ছেলে।

শনিবার (২২ জুন) বিকালে পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় প্রজন্মকন্ঠের স্থানীয় প্রতিনিধি-কে জানান, শেরপুর সদর থানার তারাগড় নামাপাড়া গ্রামের ওয়াজেদ আলী তার ভাতিজা কবির হোসেনকে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি দেবে বলে চুক্তি করে। সেই ১০ লাখ টাকা নিয়ে দুই আসামি ও ওয়াজেদ আলী গাড়িতে করে জামালপুর থেকে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা হয়। গাড়িতে বসেই তারা টাকা লেনদেন করে।

জানা গেছে, টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে প্রাইভেটকারে ওয়াজেদ আলীকে রেখে টাকার ব্যাগ নিয়ে সুমি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যায়। কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে সুমি ব্যাগ থেকে টাকা তার স্বামী কথিত সাংবাদিক খায়রুল বাশারকে দেয়। টাকা নিয়ে খায়রুল বাশার চলে যায়। বিষয়টি ওয়াজেদ আলী দেখে ফেলায় তার মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। ওয়াজেদ আলী পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলে সুমি তাকে জানায়, এসপির গেস্ট এসেছে। তিনি এখন দেখা করতে পারবেন না। এরপর সুমির সঙ্গে ওয়াজেদ আলীর বাকবিতণ্ডা হয়। তখন ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে ডিবি পুলিশের এসআই ফরিদ উদ্দিনসহ কয়েকজন যাওয়ার সময় ভিড় দেখে জানতে চাইলে ওয়াজেদ আলী বিস্তারিত বলেন।

তখন তাদের আটক করে সুমির ব্যাগ থেকে ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, সুমির স্বামীর নামে সাংবাদিক আইডি কার্ড জব্দ করেন। সুমিকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বাকি ৮ লাখ ৫ হাজার টাকা তার স্বামী খায়রুল বাশারের কাছে আছে বলে জানান। শনিবার ওই ৩ জনের নামে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠান।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় প্রজন্মকন্ঠের স্থানীয় প্রতিনিধি-কে বলেন, পহেলা জুলাই টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনে কনস্টেবল পদে লোক নেয়া হবে। সেখানে সরকারি নির্ধারিত ফি ১০০ টাকা ও ফরমের ৩ টাকার বিনিময়ে চাকরি দেয়া হবে। এ বিষয়ে অবৈধ টাকা লেনদেন করলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। এই ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এখানে পুলিশের এসআই মোহাম্মদ আলীকেও ছাড় দেয়া হয়নি।

এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মিজানুর রহমান প্রজন্মকন্ঠের স্থানীয় প্রতিনিধি-কে বলেন, একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে গত শুক্রবার দুপুরে দুই ভুয়া পুলিশের অবস্থান নিশ্চিত করে গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ টিম। চকবাজার গোলজার টাওয়ারের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন পুলিশে চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা করে আসছিল সংঘবদ্ধ একটি প্রতারকচক্র। তাদের পাতানো ফাঁদে পড়ে ইতোমধ্যে অনেক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। প্রতারণার খবর পেয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

পাঠকের মন্তব্য