রেল দুর্ঘটনার দায় সড়ক ও রেলমন্ত্রী এড়াতে পারে না : এনডিপি

রেল দুর্ঘটনার দায় সড়ক ও রেলমন্ত্রী এড়াতে পারে না : এনডিপি

রেল দুর্ঘটনার দায় সড়ক ও রেলমন্ত্রী এড়াতে পারে না : এনডিপি

ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা। সাম্প্রতিক সময়ের এটাই সবচেয়ে বড় ট্রেন দুর্ঘটনা। মৌলভীবাজারের বরমচালে ব্রীজ ভেঙে রেলের বগি খালে পড়লো, মানুষ মরলো এরপরও সবাই চুপ কেন ? এর সকল দায় সড়ক ও রেলমন্ত্রী এড়াতে পারে না বলে দাবী জানিয়েছেন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি- এনডিপি'র চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা ও মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা। 

সোমবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় এই দাবী জানান।

তারা বলেন, ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে এমন ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তিতাস নদীর উপর শাহবাজপুর ব্রীজ নষ্ট হওয়ার ফলে বিগত কয়েক দিন থেকে চরম থেকে চরমতর দুর্ভোগ পোহাচ্ছে যাত্রীরা। ফলে ট্রেনের উপর গিয়ে অতিরিক্ত চাপ পড়েছে। এতোটা চাপ পড়েছে যে, সীট পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি যাত্রী দাঁড়ানোতেও তিল ধারণের মতো অবস্থা নেই। মানুষ ট্রেনে দাঁড়ায়ে, ছাদের উপর উঠে এবং এমনকি বাঁদুড়ঝুলো হয়ে যাতাযাত করছে। কারণ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহন চলছে না। এমনটি অতীতে হয়নি।

 নেতৃদ্বয় বলেন, ট্রেন যতই বড় হোক, তার তো একটা ধারণ ক্ষমতা আছে। ডাবলেরও অনেক বেশি লোক যখন একটা ট্রেনে উঠে, সেই ট্রেন আর কত ভার সইবে। এতো অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে যে ট্রেন যে ব্রীজে উঠবে, সেই ব্রীজ ভেঙে পড়াটা অস্বাভাবিক নয়। অতীতে সিলেট থেকে ঢাকাগামী কোন ট্রেন কিংবা ঢাকা  থেকে সিলেটগামী কোন ট্রেন এতো অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে কখনো চলাচল করেনি। এমনকি কোনো ঈদের সময়ও না। সে হিসেবে বলা চলে, বরমচালের ওই ব্রীজ অতীতে কখনো এতো ভার সহ্য করেনি। এবারই অনেক অনেক বেশি যাত্রী নিয়ে ট্রেন ওই ব্রীজসহ বিভিন্ন ব্রীজের উপর দিয়ে চলাচল করছে। কয়েক দিন  থেকে এই অবস্থা ব্রীজ আর ভার সইতে না পেরে ভেঙে পড়ে।

তারা বলেন, আজকের ট্রেন দুর্ঘটনার জন্য তাই সম্পূর্ণরূপে সড়ক পরিবহন বা মহাসড়ক বিভাগ দায়ী। দায় নিতেই হবে। দেশের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা মহাসড়ক প্রায় সপ্তাহখানেক থেকে বিচ্ছিন্ন একটা ব্রীজের কারণে। এটা কোন কথা? মানুষের চলমান ভোগান্তি আর আজকের ট্রেন দুর্ঘটনার জন্য দায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন এড়াতে পারে না।

নেতৃদ্বয় রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সকারের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন।

পাঠকের মন্তব্য