রোহিঙ্গাদের ফেরালে বিঘ্নিত হতে পারে দেশের নিরাপত্তা 

রোহিঙ্গাদের ফেরালে বিঘ্নিত হতে পারে দেশের নিরাপত্তা 

রোহিঙ্গাদের ফেরালে বিঘ্নিত হতে পারে দেশের নিরাপত্তা 

মায়ানমারে মাটিতে অত্যাচারিত হয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিল বাংলাদেশ। আর তা দিলেও এখন তাদের দ্রুত ফেরত পাঠানো না গেলে বাংলাদেশের নিরাপত্তাই বিঘ্নিত হতে পারে। এমনটাই আশঙ্কা প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ার জন্য মায়ানমারকে দোষারোপও করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মায়ানমার প্রশাসনের মৌলিক অধিকার বঞ্চিত এই সকল বাস্তুচ্যুত অধিবাসীরা স্বাভাবিকভাবেই অসন্তুষ্টিতে ভুগছে। তাদের রয়েছে অনেক অভাব-অভিযোগ। এদেরকে অতিদ্রুত ফেরত না পাঠালে আমাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

মায়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর ২০১৭ সালের অগাস্ট থেকে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তার আগে গত কয়েক দশকে এসেছে আরও চার লাখ রোহিঙ্গা। আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চুক্তি করার পর ২০১৮ সালের নভেম্বরে প্রত্যাবাসন শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মায়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে রোহিঙ্গাদের মনে আস্থা না ফেরায় এবং তারা ফিরে যেতে রাজি না হওয়ায় সেই পরিকল্পনা অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলে রয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নির্ভয়ে বসবাসের পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি। আর তা করতে পারেনি বলেই রোহিঙ্গারা সেখানে ফিরতে চাইছে না বলে দাবি বাংলাদেশ প্রশাসনের। এদিন সংসদে নূর মোহাম্মদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর কাজে কোনও অগ্রগতি আছে কি না ? জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।

২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দু’দেশের সম্মতিক্রমে দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর সম্ভ্যাব্য তারিখ হিসেবে ১৫ নভেম্বর ২০১৮ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু মায়ানমারের অভ্যন্তরে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিকরা স্বেচ্ছায় ফেরত যেতে রাজি হয়নি।”

পাঠকের মন্তব্য