প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন : রূপগঞ্জ থেকে বরগুনা সরকারি কলেজ

প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন : রূপগঞ্জ থেকে বরগুনা সরকারি কলেজ

প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন : রূপগঞ্জ থেকে বরগুনা সরকারি কলেজ

প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন করা হল আওয়ামী লীগের নেত্রী বিউটি আক্তার কুট্টিকে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এই ঘটনাটি ঘটেছে। এদিন সকালে আর পাঁচটা দিনের মতোই উপজেলার চানপাড়া থেকে পশ্চিমগাঁও এলাকার দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন বছর চল্লিশের বিউটি। তখনই মাঝরাস্তায় তাঁর উপর চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে যান তিনি। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে, পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। এদিকে, শরীরে একাধিক আঘাতের জেরে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় ওই আওয়ামী লীগ নেত্রীর। তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। সেখানেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।  

নিহত আওয়ামী লীগের নেত্রী বিউটি আক্তার কুট্টি উপজেলার পশ্চিমগাঁও এলাকার প্রয়াত হাসান মহুরির স্ত্রী। তিনি কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৭, ৮, ৯নং ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য। কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য হাতে পায়নি পুলিশ। 

উল্লেখ্য গত বছরের ২৯ অক্টোবর রাতে রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চানপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিউটি আক্তারের দলের সঙ্গে প্রতিপক্ষের গুলি বিনিময় ও সংঘর্ষ ঘটে। ওই ঘটনায় বিউটির স্বামী হাসান মহুরি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে রাজধানীর ধানমণ্ডির জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভরতি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বছরের ৬ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বিউটি বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছিলেন। সেই ঘটনার জেরেই কি হত্যা করা হয়েছে বিউটিকে? এই প্রশ্নের উত্তরে তদন্ত শুরু করছে পুলিশ।  

অপরদিকে বরগুনায় দিনে-দুপুরে সবার সামনে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এসময় তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তার স্ত্রী। বুধবার (২৬ জুন) সকালে, বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে, কুপিয়ে হত্যার ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, স্ত্রীকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ ও মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ার জেরেই এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে।

নৃশংসভাবে কোপানোর ভিডিওটি বুধবার সকালের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহুর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে, ধারালো রামদা দিয়ে সদর উপজেলার বড় লবণখোলা গ্রামের শাহ নেওয়াজ রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে দুই যুবক। এসময় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা বারবার প্রতিহতের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এলোপাতাড়ি কোপানোর পর রিফাতকে ফেলে পালিয়ে যায় দুই হামলাকারী। গুরুতর আহত অবস্থায় রিফাতকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। পরে তাকে বরিশালের শেবাচিম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিফাতের মৃত্যু হয়।

ডা. মফিজুল ইসলাম বলেন, মাথায় ও ঘাড়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। যেহেতু এটা পুলিশ কেস সেহেতু ময়নাতদন্তের পর বাকিটা জানা যাবে।

স্বজনদের দাবি, স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকাকে কলেজে পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন রিফাত। এসময় তার ওপর অতর্কিত হামলা হয়েছে। অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময় আয়েশাকে উত্যক্ত করত বলে অভিযোগ তাদের।

এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছিলেন বলে জানান এলাকাবাসী।

 

পাঠকের মন্তব্য