তিন লাখ টাকার জন্য বিল আটকে দিলেন সেই বিতর্কিত ইউএনও !

তিন লাখ টাকার জন্য বিল আটকে দিলেন সেই বিতর্কিত ইউএনও !

তিন লাখ টাকার জন্য বিল আটকে দিলেন সেই বিতর্কিত ইউএনও !

তিন লাখ টাকার জন্য পৌণে দুই কোটি টাকার ৩৫ ঠিকাদারের বিল আটকে দিলেন তাহিরপুরের সেই বিতর্কিত ইউএনও !

২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের জুন ক্লোজিং কে সামনে রেখে নিজ বাসভবন মেরামতের তিন লাখ টাকার বিল প্রস্তুত করে না দেয়ায় এবার ৩৫ ঠিকাদারের প্রায় পৌণে দুই কোটি টাকার বিল আটকে দিলেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সেই বিতর্কিত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)।

বৃহস্পতিবার,উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান,উপজেলা প্রকৌশলীর দফতর ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারগণ সকাল ১০টা থেকে সন্ধা ৭টা অবধি অফিস ও বাসভবনে দফায় দফায় ধর্ণা দিলেও এডিপি সহ বিভিন্ন প্রকল্পের প্রস্তুতকৃত ৩৫ বিলে ই্উএনও’র স্বাক্ষর নিতে পারেননি। এ অবস্থায় বিল প্রাপ্তি নিয়ে উৎকন্ঠায় পড়েছেন ঠিকাদার ও প্রকল্প কমিটির সভাপতিগণ।

বৃহস্পতিবার সন্ধায় ্একাধিক ঠিকাদার জানান, ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে এডিপিপ্রকল্পের বাস্তবায়নকৃত ৯৪ লাখ ৪৬ হাজার, স্কুল উন্নয়ন খাতের ৪২ লাক ৫০ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ প্রকল্পের ২৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা সহ মোট ১ কোটি ৬৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকার ৩৫ ঠিকাদার ও বাস্তবায়নকৃত বিল আটকে রাখেন ইউএনও।

বৃহস্পতিবার সন্ধায় ভোক্তভোগীরা জানান, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে এডিপি সহ বাস্তবায়নকৃত বিভিন্ন প্রকল্প সমুহের বিলে জুন ক্লোজিং কে সামনে রেখে ইউএনওর স্বাক্ষর করাতে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কাজের ঠিকাদারগণ ও বিভিন্ন প্রকল্প কমিটির সভাপতিগণ বেশ কয়েকদিন ধরেই ধর্ণা দিয়ে যাচ্ছিলেন ইউএনও’র নিকট। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় এসব বিলে স্বাক্ষর করার প্রতিশ্রুতিও দেন ইউএনও। কিন্তু নিজ কার্যারয়ে এসেই হঠাৎ করে বিলে স্বাক্ষর নিতে হলে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে নিজ বাসভবন মেরামতের তিন লাখ টাকার বিল প্রস্তুত করে নিয়ে আসার শর্ত জুড়ে দেন। 

এরপর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রকৌশলী  ঠিকাদার ও প্রকল্প কমিটিকে হয়ারানী না করতে ইউএন কে বিলে স্বাক্ষর করার অরনুরোধ করলেও তিনি নিজ বাসভন মেরামতের তিনলাখ টাকার বিল প্রস্তুত করে না দেয়া অবধি এসব বিলে স্বাক্ষর করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।  এক পর্যায়ে বেলা তিনটার দিকে বাসভবনে দুপুরের আহারের কথা বলে চলে যাবার পর সন্ধা ৭টা অবধি ইউএনও আর নিজ কার্যালয় মুখো হননি।.

বিলে স্বাক্ষর হবে এ আশায় দিনভর বসে থাকা সানি এন্টারপ্রাইজের স্বতাধিকারী মুজিবুর রহমান বৃহস্পতিবার সন্ধা সাড়ে ৬টায় যুগান্তরকে জানান, ইউএনও’র বাসভবনের বিল প্রস্তুত করা না করার সাথে বাস্তবায়কৃত প্রকল্পের প্রস্তুতকৃত বিলে স্বাক্ষর না করে আমাদের মত ঠিকাদার ও প্রকল্প কমিটির সভাপতিদের জিম্মি করে রাখার কোন যৌওিক কারনই খুজে পাইনি। 

আরেক ঠিকাদার জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, অনেক হয়ারানীর পর চাপে ফেলে এসব বিলে স্বাক্ষর করবেন এ প্রতিশ্রুতিতে ইউএনও’র দফতরের এককর্মচারীর মাধ্যমে প্রত্যেক ঠিকাদার ও প্রকল্প কমিটির সভাপতির নিকট থেকে প্রতিটি প্রকল্পের প্রাক্কলিত বরাদ্দ থেকে চাহিদা মত ১ % হারে উৎকোচ তো আগামই আদায় করেই নিয়েছেন এরপর আবার কেন উনার বাসভবনের কথিত মেরামতের তিন লাখ টাকা বিলের জন্য আমাদের বিল আটকে রেখে ভোগান্তিতে ফেলেছেন?

বৃৃহস্পতিবার সন্ধায় তাহিরপুর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাইদুল্লাহ মিয়া বলেন, ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে দু’বার ২ লাখ ২ লাক করে বাসভন মেরামতের কথা বলে ইউএনও মহোদয় ৪ লাখ টাকা বিল ইতিপুর্বে উক্তোলন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি তিন লাখ টাকা ব্যায়ে কী ধরণের মেরামত বাসভবনে করবেন বা করছেন আদৌ মেরামত করেছেন কীনা এটি আমার কার্যালয়কে অবহিত করেননি কিংবা আমি নিজেও জানিনা কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি বৃহস্পতিবার নতুন করে তিন লাখ টাকার বিল প্রস্তুত করার বায়রনা ধরে ঠিকাদার ও প্রকল্প কমিটির প্রস্তুত কৃত বিল আটকে দিলেন এটির কোন যৌওিক কারন দেখিনা। তিনি আরো বলেন, এক অর্থ বছরে পুরো উপজেলা পরিষদের সরকারি ভবন মেরামতের মোট বরাদ্দ থাকে ৭ লাখ টাকা, আমি কী করে ইউএনও মহোদয়ের একটি বাসভবন মেরামতের নামে দু’দফায় ৪ লাখ টাকার বিল চাড় দেয়ার পর আবার তিন লাখ টাকার ভুয়া বিল প্রস্তুত করে দেব, এ অন্যায় ও দুর্নীতি আমার পক্ষে সম্ভব নয়। বাসভবন মেরামতের কাজ করে থাকলে আগামী অর্থ বছরে বিল নেয়া যাবে বলে দিলেও ইউএনও মহোদয়কে পরামর্শ দিলেও তাতে তিনি সায় না দিয়ে সব বিলে স্বাক্ষর না করে আটকে রেখে হয়রানী করছেন বলেও জানান উপজেলা প্রকৌশলী।  

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, ইউএনও সাহেব উনার বাসভবনে কী ধরনের মেরামত কাজ করেছেন তা পরিষষদের চেয়ার্রান হিসাবে আমার দফতরও অবহিত নয় কিন্তু উনার বাসভবন মেরামতের বিল প্রস্তুত না করার অজুহাতে বৃহস্পতিবার সন্ধা অবধি ঠিকাদার ও প্রকল্প কমিটির বাস্তবায়নকৃত প্রকল্প সমুহের বিলে তিনি স্বাক্ষর না করায় এডিপির বরাদ্দকৃত টাকা ফেরত যাবে ও অন্যান্য প্রকল্প কমিটি বা ঠিকাদারের যে পরিমাণ বিল চলতি অর্থবছরে  পাওনা আছে সেসব বিলের টাকা পেতে আগামী অর্থ বছরে নতুন করে বরাদ্দ পেলে তবেই বিল দেয়া যাবে।  

বৃহস্পতিবার সন্ধায় এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ ইমতিয়াজের সরকারি মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি কল রিসিভ না করায় উনার কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। 

তাহিরপুর ইএনও’র বক্তব্য জানতে বৃহস্পতিবার রাত ০৮টা ৪৪ মিনিটে ই্ইএনও’র সরকারি মুঠোফোনে (০১৭৮৮৫৫০৭১০) ফের কল করা হলে তিনি ফিরতি ক্ষুদে বার্তায় এ প্রতিবেদক জানান প্লিজ টেক্স মি’ পরবর্তীতে আবারো বক্তব্য জানতে চেয়ে চেয়ে ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ করা হয় কিন্তু তিনি ফিরতি কোন বক্তব্য বা কোন ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ করেননি।

রাত ৯টা ০২মিনিটে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের নিকট এ বিষয়ে অবহিত করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে এখনি দেখছি।  পরবর্তীতে  রাত ৯টা ০৫ মিনিটে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ গণমাধ্যমকে  জানান, ইউএনও জানিয়েছেন তিনি সব বিল স্বাক্ষর করে ছেড়ে দিয়েছেন, ওইসব বিল এখন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানে নিকট রয়েছে। 

এরপর রাত ৯টা ১৪ মিনিটে দু’দফা আবারো ইএনওর ব্যবহ্নত (০১৭৩০৩৩১১০৯) অপর এক মুঠোফোনে কল করে বক্তব্য জানার চেষ্টা করলে তিনি আদৌ কল রিসিভ কেরেননি।

প্রসঙ্গত, গত মে মাসে বিয়ে না করে এক বান্ধবীকে নিয়ে সংসার করার অভিযোগ উঠেছিল সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসিফ ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে। বিয়ে না করে বান্ধবীকে নিয়ে সংসার : ফেঁসে যাচ্ছেন তাহিরপুরের ইউএনও শিরোনামে এর আগে দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন নিউজপোর্টালে আসিফ ইমতিয়াজ প্রসঙ্গে সংবাদ প্রকাশিত হলে সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পর্যন্ত গড়িয়েছে। সর্বশেষ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশে অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন। ওই অভিযোগে জানা যায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ময়মনসিংহের ভুক্তভোগী এক নারী। এতে তিনি বলেছেন, বান্ধবীর মাধ্যমে গত বছর এপ্রিল মাসে আসিফ ইমতিয়াজের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই সূত্র ধরে কয়েক দিন ফোনে কথা হয়। এরপর বিয়ের কথা বলে ইমতিয়াজ ভাড়া বাসা, হোটেলসহ বিভিন্ন স্থানে তাকে নিয়ে থাকেন। এরই মধ্যে তার নামে অ্যাকাউন্ড খুলে সেখানে এক মাসেই ২০ লাখ টাকা লেনদেন করেন ইমতিয়াজ।

পাঠকের মন্তব্য