কে কী বলল যায় আসে না, কট্টরপন্থীদের জবাব নুসরতের

কে কী বলল যায় আসে না, কট্টরপন্থীদের জবাব নুসরতের

কে কী বলল যায় আসে না, কট্টরপন্থীদের জবাব নুসরতের

নিজস্ব প্রতিবেদন : কট্টরপন্থীদের ফতোয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার বসিরহাটের সাংসদ নুসরত। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তিনি ঐক্যবদ্ধ ভারতের প্রতিনিধি। সকল ধর্মকে শ্রদ্ধা করেন। আর কী পরবেন, কী বলবেন, সেটা একেবারেই তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়।        

২৫ জুন লোকসভায় সাংসদ হিসেবে শপথগ্রহণ করেন নববিবাহিত নুসরত জাহান। নিখিল জৈনের সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়ার পর শাড়ি, সিঁদুর ও মঙ্গলসূত্র পরে শপথ নিতে গিয়েছিলেন বসিরহাটের সাংসদ। এরপরই নুসরতে আক্রমণ করেন উত্তরপ্রদেশের জামিয়া-শেইখ-উল-হিন্দ মাদ্রাসার প্রধান ইমাম মুফতি আসাদ কাজমি। তাঁর বক্তব্য, একজন অভিনেত্রী হিসাবে তিনি যা করছেন তা ইসলাম বিরোধী। এখন উনি এমন একজনকে বিয়ে করেছেন যিনি মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত নন। লোকসভায় এসেছেন সিঁদুর, মঙ্গলসূত্র পরে।

একইসঙ্গে নিখিল জৈনের সঙ্গে নুসরতের বিয়ে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওই মৌলবি। তাঁর কথায়, ইসলামে স্পষ্ট বলা হয়েছে, একজন মুসলিম শুধুমাত্র মুসলিমকেই বিয়ে করতে পারেন। আমরা এই বিয়ে মানি না।   

ইমামের এই মন্তব্যের মুখ খোলেন নুসরত। বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোনও ফতোয়া জারি করা হয়েছে বলে তো শুনিনি। আমরা নতুন, প্রগতিশীল ভারতে বাস করি, যেখানে সব ধর্ম ও সংস্কারকে শ্রদ্ধা করা হয়। ঈশ্বরের নামে ভেদাভেদ কেন? হ্যাঁ, আমি একজন মুসলিম। আমি ধর্মনিরপেক্ষ ভারতবর্ষের নাগরিক। আমার ধর্ম আমাকে মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ করতে শেখায় না।

তাঁর পোশাকের বিরুদ্ধে ওঠা মন্তব্যেরও উত্তর দেন অভিনেত্রী। বলেন, এটা আমার ইচ্ছা। বাংলায় কথা বলব, সিঁদুর পরব। মন যা বলে তাই করব। ধর্মের নামে কে কী বলল তাতে আমার যায় আসে না। এটা আমার জীবন। আমি ঠিক করব কী করব না করব। আমি যথেষ্ট শিক্ষিত। একজন আধুনিক ভারতীয় নারীর হিসেবে নিজের জীবন চালাব।

টুইটারে নুসরত লিখেছেন, আমি ঐক্যবদ্ধ ভারতের প্রতিনিধি। তা জাতপাত ও ধর্মের বাইরে। সব ধর্মের প্রতিই আমি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু আমি এখনও মুসলিম। আমার পরিধান নিয়ে কারও মন্তব্য অনভিপ্রেত। পোশাকের উপরে বিশ্বাস নির্ভর করে না। বরং প্রতিটি ধর্মের মূল্যবান উপদেশ পালন করাই আসল বিশ্বাস। একইসঙ্গে নুসরত এও মনে করেন, কট্টরবাদীদের মন্তব্যে সাড়া দিলে ঘৃণা ও হিংসার সৃষ্টি হয়। ইতিহাস তার সাক্ষী।     
 
বলে রাখি, তুরষ্কের বোদরুম শহরে বিয়ে সেরে সদ্যই দেশে ফিরেছেন নুসরত। বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট দিনে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকতে পারেননি তিনি। তাই দেশে ফিরেই সোজা চলে যান দিল্লি। ২৫ জুন নবনির্বাচিত সাংসদ হিসাবে শপথ নেন নুসরত জাহান।

পাঠকের মন্তব্য