প্রশাসন, মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার : ফখরুল

প্রশাসন, মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার : ফখরুল

প্রশাসন, মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার : ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রকে বেআইনিভাবে ব্যবহার করে জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। এই ক্ষমতা চিরস্থায়ী হতে পারে না। ক্ষমতা অবশ্যই শেষ হবে।

শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক প্রতীকী অনশনে তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এই প্রতীকী অনশনের আয়োজন করে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ-বিএসপিপি। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, “যেহেতু সরকারের জবাবদিহিতা নাই, তাই তারা একে একে দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা বিচার ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রশাসন, মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এখন তারা সেনাবাহিনীকে পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে।”

“এভাবে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে, তাদের প্রতিপক্ষ করে এবং শুধু রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সফল হওয়া যাবে না” হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, “বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন নয়, এই বিচার ব্যবস্থা পুরোপুরিভাবে আওয়ামী লীগের করায়ত্ত হয়ে গেছে। তা প্রমাণিত হয়ে গেছে পাবনায় ৯৪ সালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। নয়জনকে আদালত ফাঁসির রায় দিয়েছে আর ২৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “ওই ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো ছিল। তার প্রমাণ, একজন লেখক রিন্টু লিখে গেছেন- আওয়ামী লীগ নিজেরাই ওই ঘটনাটি ঘটিয়েছিল। শুধু জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য। বিচার ব্যবস্থাকে রাজনীতিকীকরণের সারা দেশের মানুষ অসহনীয় যন্ত্রণা ভোগ করছে।”

এসময় মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একটি প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। তিনি মুক্তি পেলে মনে করব গণতন্ত্র মুক্তি পাচ্ছে। সেই মুক্তির জন্য শুধু আইনি লড়াইয়ের ওপর নির্ভর করলে আমাদের চলবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি বলেন, “সারা দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করছি। তাদের সঙ্গে নিয়েই আন্দোলন গড়ে তুলে এই সরকারের পতন ঘটাব আমরা।”

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে প্রতীকী অনশনে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, তাঁতি দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির, ডা. রুস্তম আলী মধুসহ সাংবাদিক, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের মন্তব্য