একদিকে আর্জেন্টিনা জয় অপরদিকে মেসির লাল কার্ড  

একদিকে আর্জেন্টিনা জয় অপরদিকে মেসির লাল কার্ড  

একদিকে আর্জেন্টিনা জয় অপরদিকে মেসির লাল কার্ড  

কোপা আমেরিকা ২০১৯ আসরের তৃতীয় স্থান নির্ধারনি ম্যাচেও আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে বজায় থাকলো বাজে রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা।মাঠের খেলোয়াড় থেকে সাইড লাইনের টিম অফিশিয়াল, কেউ বাদ যায়নি এ থেকে। শেষ অবদি সরাসরি এর শিকারে পরিনত হলেন দলের তারকা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি। খেলার প্রথমার্ধের ৪১ মিনিটের মাথায় লাল কার্ডের খড়ায় কাটা পড়েন তিনি। তবে তাতে করে জয় থমকে যায়নি তাদের।

বাংলাদেশ সময় রোববার (৭ জুলাই) মাঝরাতে গত দুইটি কোপা আসরের ফাইনালে আর্জেন্টাইনদের স্বপ্ন কেড়ে নেয়া চিলিয়ানদের বিরুদ্ধে লড়তে নামে দুর্দান্ত ছন্দে ফেরা মেসি বাহিনী। কোটি সমর্থকদের স্বপ্ন পূরণ করতেই যেন এদিন এক সাথে মাঠে আসে মেসি-দিবালা ঝুটি। খেলার শুরু থেকেই দাপুটে ফুটবলের আগ্রাসনে প্রতিপক্ষকে ঠেসে ধরে আলবিসেলেস্তেরা। ফলে গোলের দেখা পেতে খুব একটা দেরি হয়নি তাদের। টানা দুই আসরে ল্যাটিন শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের খুব কাছ থেকে মেসিদের বঞ্চিত করেছিলো সানজেসের চিলি। 

আজ যেন সেই প্রতিশোধের নেশায় উন্মত্ত হয়ে ওঠে গোটা আর্জেন্টিনা দল। প্রথমার্ধের মাত্র ১২ মিনিটের মাথায় দুর্দান্ত এক গোল করে এদিন দলকে এগিয়ে নেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার আগুয়েরো। তার ১০ মিনিট পরেই দ্বিতীয়বারের মত প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠান দলটির তরুণ তারকা  পাওলো দিবালা। আর দুটি গোলেরই কারিগর ছিলেন ফুটবল বিশ্বের বিস্ময়, দ্য লিটল ম্যাজিসিয়ান খ্যাত মেসি।

কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে আসে বিপত্তি। মাঠের ডানপ্রান্ত দিয়ে এসময় ক্ষিপ্রগতিতে চিলির রক্ষনভাগে হানা দেন মেসি। আর তাকে আটকানোর জন্য বার বার মেসির হাত ও জার্সি টেনে ধরে রাখার প্রচেষ্টা চালান চিলির অধিনায়ক গ্যারি মেডেল। এক পর্যায়ে তার সাইড ডেসে বিপজ্জনকভাবে মাঠের বাইরের দিকে ছিটকে যান মেসি। তাতে কিছুটা ক্ষুব্ধ্ব হয়েই মেডেলের দিকে তেড়ে আসেন তিনি। কিন্তু এ সময় উলতো মেসিকেই একের পর এক ধাক্কা মেরে মাঠের একপ্রান্তে নিয়ে যান মেডেল। তাকে একবার ঠেকানোর চেষ্টা করা ছাড়া পরের সময়টুকু নিরবেই ধাক্কা সহ্য করেন মেসি। এ সময় দুপক্ষের খেলোয়াড়েরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামলে নিয়ে ভিএআর প্রযুক্তির স্মরণাপন্ন হন রেফারি। দুবারের রিপ্লেতেই পরিষ্কার দেখা যায় কি ঘটেছিলো। কিন্তু সবাইকে হতবাক করে দিয়ে মেসিকেই লাল কার্ড দেখান রেফারি! এরপর কিছু সময় নিরব দাঁড়িয়ে দেখে মাঠ ছাড়েন মেসি।

শেষ পর্যন্ত এই দশজনের আর্জেন্টিনা দলটিই চিলির বিরুদ্ধে ২-১ গোলের জয় তুলে নেয়। দ্বিতীয়ার্ধে এক গোল পরিশোধ করে চিলি তবে তাতে যেন আরো ক্ষিপ্র হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। মুহূর্মুহূ আক্রমণে তারা বার বার কাঁপিয়ে দেয় চিলির রক্ষনভাগ। ম্যাচের শেষ মুহূর্তের বঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্কোলানির সেনাদের হাত থেকে যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে ল্যাটিন রেডসরা।

স্বাগতিক ব্রাজিলের বিরুদ্ধে সেমি ফাইনাল ম্যাচটিতে দারুন খেলেও নোংরা রেফারিংয়ের কাছে হার মেনেছে আকাশি নীল-সাদারা। তা না হলে হয়তো অন্যরকম হতে পারতো এবারের ল্যাটিন শ্রেষ্ঠত্বের ইতিহাস।

পাঠকের মন্তব্য