এটাই শাস্তি পরবর্তীতে তাকে আর মন্ত্রী-এমপি বানাব না

 ওবায়দুল কাদের

ওবায়দুল কাদের

যে সকল এমপি-মন্ত্রী নৌকার বিদ্রোহ করতে মদদ দিয়েছে তাদের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘একজন মন্ত্রী বা এমপি যদি বিদ্রোহে মদদ দিচ্ছে বা দিয়েছে, তার শাস্তি পরবর্তীতে তাকে আর মন্ত্রী-এমপি বানাব না। শাস্তি শুধু দল থেকে বহিষ্কার করলে হয় না, এটাও তার জন্য শাস্তি।’     

রোববার দলের এক সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কাযালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় আলোচিত কয়েকটি বিষয় নিয়ে কথা বলেন কাদের।
 
যারা বিভিন্ন নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, দলের ডিসিপ্লিন ব্রেক করার বিষয়টি যেন আসকারা না পায়, এজন্য আমরা এর রাশ টেনে ধরতে চাই। সেজন্য আমরা সম্পাদকমণ্ডলীতে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি, নেত্রীর কাছে বিষয়টি তুলে ধরব, যে এই এই কারণে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ হচ্ছে এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের আসকারা পাচ্ছে। সেটার লাগাম টেনে ধরা দরকার, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন। সে বিষয়ে এবারের দলের কার্য়নির্বাহী কমিটির বৈঠকের আগেই আমরা আমাদের সভাপতিকে অবহিত করব। এটাই সিদ্ধান্ত হয়েছ। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন যথাসময়ে করার বিষয়ে প্রস্তুতির ঘাটতি নেই বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি। 

বৈঠকে দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দলের সাংগঠনিক কিছু সমস্যা রয়েছে। দলের বিভিন্ন পর্য়ায়ে মেয়াদোত্তীর্ণ যে কমিটি, এগুলো করার বিষয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করেছি।’ ‘বিভিন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেউ কেউ কাজ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দলের এসব বিষয় নিয়ে কিছুটা হলেও অস্থিরতা রয়েছে। আমরা  বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছি। এসব সংকট আমরা নিরসন করতে চাই।’ ‘আমাদের দলের জাতীয় সম্মেলনের আগে এটা হলো সাংগঠনিক প্রস্তুতিমূলক সভা। এ সভার পর আমাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে দলের কার্য়নির্বাহী সভায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এর আগে বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় ও কিছু কর্মসূচি আমরা নেত্রীর সামনে উপস্থাপন করবো।’ 
     
আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ অভিযান প্রসঙ্গে কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহের জন্য কেন্দ্র থেকে তৃণমূলকে বই সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই এ সদস্য সংগ্রহ অভিযানের তারিখ দেয়া হয়েছে। তারপরও আমরা এ বিষয়ে নেত্রীর সঙ্গে আলাপ করব। সদস্য সংগ্রহ অভিযান যেন আমরা সফলভাবে শেষ করতে পারি, যেন ফ্রেশ ব্লাড, নতুন যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, গত নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের পার্টিতে এসেছে, নৌকা মার্কার পক্ষে স্লোগান দিয়েছে। যে নতুন ভোটাররা আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে, তাদেরকে অন্তঃভুক্ত করাই এবার আমাদের সদস্য সংগ্রহ অভিযনের মূল লক্ষ্য। নেত্রীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে আমরা পুরোদমে অভিযান শুরু করব।

দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, একেএম এনামুল হক শামীম, দলের আইন বিষয়ক সম্পাদক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর, শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, কেন্দ্রীয় সদস্য এসএম কামাল হোসেন, রিয়াজুল কবির কাউসার, মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ।

পাঠকের মন্তব্য