হত্যাকাণ্ডের খবর ভাইরাল না হলে প্রশাসন নড়েচড়ে না 

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা

সম্প্রতি বরগুনায় রিফাত ফরাজী হত্যাসহ গত এক মাসে ২২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

তিনি বলেছেন, 'হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে না আসা পর্যন্ত সেটার প্রতি প্রশাসনের তেমন কোনো মনযোগ থাকে না। পুলিশ প্রশাসন আর আদালত যদি তাদের নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করত তাহলে বিচার চাইবার প্রশ্ন উঠত না।'

রোববার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের (বিধি-৭১) আওতায় নোটিশ উত্থাপনকালে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, 'হত্যাকাণ্ডের পর ফেসবুক-টুইটারে না আসা পর্যন্ত সেটার প্রতি প্রশাসনের তেমন কোনো মনোযোগ থাকে না। ঘটনা ঘটলেই এখন দেখতে পাই, প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই। প্রধানমন্ত্রী তো নির্বাহী বিভাগের প্রধান। বিচার করার জন্য আইন-আদালত আর বিচার বিভাগ আছে। বিচার চাইতেই হবে কেন?'

তিনি বলেন, 'যদি পুলিশ-প্রশাসন, আদালত তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে তাহলে তো বিচার চাইবার প্রশ্নই ওঠে না।

সম্প্রতি বরগুনায় রিফাত হত্যাকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাঞ্চল্য তৈরির পর প্রধানমন্ত্রী খুনিদের ধরার নির্দেশ দিয়েছেন, অথচ অপরাধী ধরার কথা পুলিশের এবং এটা তাদের রুটিন কাজ। এজন্য তারা জনগণের টাকায় বেতন পেয়ে থাকে। রিফাত সৌভাগ্যবান যার হত্যার ভিডিও ফেসবুকে এসেছে। গত এক মাসে ২২ জন কুপিয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তাদের খুনিদের ধরতে তেমন কোনো তৎপরতা দেখি না।'

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, 'সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পেরিয়ে গেছে, তদন্ত প্রতিবেদন দেবার সময় ৬৫ বার পিছিয়েছে। সম্ভবত এই হত্যার সঙ্গে এমন সব ক্ষমতাসীনরা জড়িত যাদের ধরার ক্ষমতা সরকারের নেই। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড ছিল বীভৎস একটি ঘটনা।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে মূল আসামিরা মৃত্যুদণ্ডের বাইরে থেকে যায়। ইতিমধ্যে খবর আসছে রিফাত হত্যাকারীদের রক্ষার জন্য বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সহসভাপতি অত্যন্ত তৎপর আছেন। জনগণের ম্যান্ডেটবিহীন ক্ষমতায় থাকার ফলস্বরূপ পুলিশকে পুরোপুরি দলীয়করণ করা হয়েছে।'

পাঠকের মন্তব্য