ভূরুঙ্গামারীতে ভারতীয় গরু সিন্ডিকেটে নিলামে বিক্রি, রাজস্ব ফাঁকি 

ভূরুঙ্গামারীতে ভারতীয় গরু সিন্ডিকেটে নিলামে বিক্রি, রাজস্ব ফাঁকি 

ভূরুঙ্গামারীতে ভারতীয় গরু সিন্ডিকেটে নিলামে বিক্রি, রাজস্ব ফাঁকি 

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়ে আসা ভারতীয় গরু সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিলামে বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
 
প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, কাস্টমস কর্মকর্তা ও বিজিবির বিরূদ্ধে সিন্ডিকেট তৈয়ারীর অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

জানা গেছে, করিডোর ব্যবস্থা না থাকার পরেও প্রতিদিন উপজেলা ধলডাঙ্গা, শালঝোড়, উত্তর ধলডাঙ্গা, উত্তর ধলডাঙ্গা (নতুন ক্যাম্প), পাথরডুবী, মইদান, দিয়াডাঙ্গা, ভাওয়ালগুড়ি, শিংঝাড় ও বাগভান্ডার সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে ভারতীয় গরু বাংলাদেশে আসচ্ছে। পাচার কালে বিজিবি সীমান্তে এসব গরু আটক করতে না পারলেও মাঝে মধ্যেই উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও বিভিন্ন ব্যক্তির বাড়ী থেকে কিছু কিছু ভারতীয় গরু আটক করে। অপর দিকে রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অনেকেই ভারতীয় গরু আটক করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আটককৃত গরূ বিজিবির নিকট হস্তান্তর করে। পুলিশ ও বিজিবি ছাড়াও কয়েক জন ব্যক্তিকে প্রত্যেক হাটবারে উপজেলা বিভিন্ন সড়কে গরু আটক করে। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৪ জুলাই বাগভানডার বিজিবি ক্যাম্পে ৭ টি বড় গরূ ৫ লক্ষ টাকা সিজার মূল্য নির্ধারণ করে নিলামে তোলা হয় যার বাজার মূল্য প্রায় ৬ লক্ষ টাকা। গরু গুলো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আঃ রউফ মোল্লা ২ লক্ষ ৬০ হাজার ৭শ টাকায় ক্রয় করেন। 
অপর দিকে দিয়াডাঙ্গা ও মইদাম বিজিবি ক্যাম্পে ১৮ টি গরূ ৮ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা সিজার মূল্য নির্ধারণ করে নিলামে তোলা হয়। যার মূল্য প্রায় ১১ লক্ষ টাকা। 

যা দুই ব্যাক্তির নিকট মাত্র ৪ লাক্ষ ৫৭ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রয় করা হয়। এ ছাড়া ২৯ জুন ধলডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পে ১৭ টি বাছুর গরু নিলামে বিক্রয় করা হয়, যার সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৪ লাক্ষ ৩০ হাজার টাকা। স্থানীয় নেতা মামুন ২ লাক্ষ ২০ হাজার টাকায় গরূ গুলি নিলামে ক্রয় করেন। পরে ক্যাম্পের রাস্তাতেই স্থানিয়ীয় গরু ব্যবসায়ীর নিকট ৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রয় করেন।
ভাওয়ালগুড়ি বিজিবি ক্যাম্পে ১৮ জুন ১৬ টি গরু নিলামে বিক্রয় করা হয়, সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৪ লক্ষ টাকা। স্থানীয় নেতা রোকন ১ লাক্ষ ৮৯ হাজার ৫শ টাকায় নিলামে গরূ গুলো ক্রয় করেন। পরক্ষনই গরূগুলো ৩ লক্ষ ৩০০শ টাকায় গরূ ব্যবসায়ী মকবুলের নিকট বিক্রয় করেন। 

বাগভান্ডার বিজিবি ক্যাম্পে ২৬ জুন ৩ টি গরূ নিলাম সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। যা জাহাঙ্গীর মন্ডল ভ্যাট সহ ৯৪ হাজার ৫ শ টাকায় ক্রয় করেন। যার বাজার মূল্য ২ লাক্ষ ৫০ হাজার টাকা। পরে নিলাম স্থলের কাছেই গরূ গুলো ১ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকায় স্থানীয় এক গরুর ব্যাসায়ীর নিকট বিক্রয় করেন। 

একই দিনে দিয়াডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্প ৫ টি বাছুর গরু নিলামে বিক্রয় করে, যার সিজার মূল্য ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। পাথরডুবি আওয়ামীলীগের সভা পতি আঃ করিম গরু গুলো ভ্যাট সহ ৭৫ হাজার ৩৫০ টাকায় নিলামে কিনে নেন। নিলামের স্থলের কাছেই স্থানীয় এক গরূর ব্যবসায়ীর নিকট ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রয় করেন। 

অপর দিকে নিলাম আয়োজনকারী প্যান্ট হাউজ রংপুর নামক প্রতিষ্ঠানের বিরূদ্ধে এলাকাবাসির অভিযোগ কোন রকম প্রচার- প্রচারনা ছাড়াই গোপনে নিলাম কার্য সম্পদনা করে প্রতিষ্ঠানটি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীরা জানান, সম্প্রতিকালে শাহ আলম কাস্টমস কর্মকর্তা নিলাম কার্যক্রমে আসার পর থেকে কিছু অসাধু বিজিবি সদস্যের যোগ সাজস্বে সিন্ডিকেটের কারণে প্রকৃত গরু ব্যবসায়ীরা নিলামে অংশ গ্রহন করতে পারছে না।  

এলাকাবাসির অভিযোগ কাস্টমস কর্মকর্তা ও অসাধু বিজিবি সদস্য গরু প্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার করে টাকা নেন। এ ব্যাপারে কাস্টমস কর্মকর্তার শাহ আলম মিয়ার নিকট জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন মাইকিং বিজিবি ক্যাম্পের আশে পাশে করা হয়, এতে নিলামে কেউ অংশ গ্রহন না করে তা হলে আমাদের করার কিছুই নাই। 

এ ছাড়া অধিকাংশ গরু নিলাম সীমান্তবর্তী বিজিবি ক্যাম্পে হওয়ায় নিরাপত্তার অভাবে অনেকেই নিলামে অংশ গ্রহন করেন না। এতে বাড়তি সুবিধা ভোগ করিতেছেন সিন্ডিকেট কারীরা। 

এলাকার সচেতন মহল বিষয়টি সরে জমিনে তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন।

পাঠকের মন্তব্য