কুড়িগ্রামে পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়া ছিল পুরোপুরি স্বচ্ছ 

কুড়িগ্রামে পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়া ছিল পুরোপুরি স্বচ্ছ 

কুড়িগ্রামে পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়া ছিল পুরোপুরি স্বচ্ছ 

কুড়িগ্রামে ৩৩ জন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ ঘুষ ছাড়াই মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হয়েছে। এদিকে নিয়োগ বাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তাৎক্ষণিক ভাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিপন কুমার মোদককে খাগড়াছড়ি, এস আই আবু তালেবকে বরিশাল রেঞ্জে বদলি করা হয়।

বরখাস্ত করা হয়েছে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে হিসাব রক্ষক আব্দুল মান্নান ও উচ্চমান সহকারী ছকমল এবং রংপুর ডিএসবি’র এএসআই রুহুলকে। এছাড়া ডিআইজি অফিসে ক্লোজ করা হয়েছে স্প্রিড বোর্ড ড্রাইভার সাইদুর রহমান সায়েম ও রেশন স্টোরের ওজনদার আনিছুর রহমানকে। একই সঙ্গে প্রায় ২৩ লাখ ঘুষের টাকা উদ্ধার করে ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান বিপিএম। তিনি সাংবাদিকদের নিয়োগপ্রাপ্ত ৩৩ জন পুলিশ সদস্যের নামের তালিকা দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন ‘এখনও কারো বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ের অভিযোগ পেলে নিয়োগ বাতিল করা হবে। এর সাথে পুলিশের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারে দায়িত্ব প্রাপ্ত মেনহাজুল আলম (সদ্য পদন্নতি প্রাপ্ত এসপি), ওসি সদর মাহফুজার রহমান, ডিএসবি ওসি শাহ-আলম প্রমুখ।

কুড়িগ্রামের নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান বিপিএম-এর ঐকান্তিক চেষ্টায় হতদরিদ্র পরিবারের ৩৩ জনের বাড়িতে এখন আনন্দের বন্যা বইছে। এই প্রথমবার ব্যতিক্রম ধর্মী এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে অভিনন্দনের জোয়ার। ফিরে পাচ্ছে পুলিশ তার হারানো ঐতিহ্য ও গৌরব। সবার মুখে-মুখে এবং হাটে মাঠে, চায়ের স্টোলে একটিই আলোচনা পুলিশ নিয়োগের স্বচ্ছতা।

কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার কার্যালয়ের একটি সুত্র জানায়, কুড়িগ্রাম পুলিশ লাইন মাঠে জেলা পুলিশের তত্বাবধানে বাংলাদেশ পুলিশ ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয় গত ২৯ জুন। লিখিত, মৌখিক এবং শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ করে পুলিশ বিভাগ। গত বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচিতদের ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান ও মিষ্টিমুখ করান পুলিশ সুপার।

এর আগে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান বিপিএম কুড়িগ্রামে যোগদানের পরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে পুলিশের নিয়োগ নিয়ে জনগণকে কোনো রকম প্রতারণার ফাঁদে পা না দিতে সতর্ক করে দেন। এছাড়া পুলিশের কোন সদস্য আর্থিক লেনদেনে জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুসিয়ারিও দেন। তা সত্বেও একটি চক্র পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তার যোগ সাজসে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অবৈধ অর্থ লেনদেন করেন। গোয়েন্দা নজরদারীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে তাদেরকে সনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে এ এসপি হেডকোয়াটার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) রিপন কুমার মোদককে খাগড়াছড়ি, আর ও এর দায়িত্বপ্রাপ্ত এস আই আবু তালেবকে বরিশাল রেঞ্জে বদলি করা হয়। ঘুষের টাকা ২৩ লাখ উদ্ধার করে বরখাস্ত করা হয়েছে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে হিসাব রক্ষক আব্দুল মান্নান ও উচ্চমান সহকারী ছকমলকে। এছাড়া ডিআইজি অফিসে ক্লোজ করা হয়েছে স্প্রিড বোর্ড ড্রাইভার সাইদুর রহমান ও রেশন স্টোরের ওজনদার আনিছুর রহমানকে। এছাড়া রংপুর ডিএসবি শাখার এএসআই রুহুলকে ১০ লাখ টাকাসহ কুড়িগ্রামে আটক করা হয়। পরে রংপুর এসপি’র হাতে তাকে হস্তান্তর করা হলেও তাকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, প্রতিবারই পুলিশের নিয়োগকে কেন্দ্র করে লক্ষ লক্ষ টাকা লেনদেন হয়। পুলিশের সদস্য, বহিরাগত দালাল, তদবিরবাজ, রাজনৈতিক নেতা ও প্রতারকরা এই নিয়োগে মোটা অংকের টাকা পকেটস্থ করেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশে এবার শুরু থেকে এসব ব্যাপারে সতর্ক পদক্ষেপ নেয়া হয়। তদন্তে প্রার্থীদের মধ্যে কারা কারা জমি বিক্রয় করেছেন, তাদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই বাছাই করা হয়। এরপর প্রমাণ পাওয়ায় কয়েকজনকে বাদ দেয়া হয়। এছাড়া দালালদের কাছ থেকে অর্থ উদ্ধার করে প্রার্থীদের ফেরত দেয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি একেএম সামিউল হক নান্টু বলেন, ‘এবারের পুলিশের নিয়োগ পুরোপুরি স্বচ্ছভাবে হয়েছে। এর আগে কখনই এমন নিয়োগ দেখা যায়নি। সেই দিক থেকে বর্তমান পুলিশ সুপার ইতিহাস সৃষ্টি করলেন।’

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম টুকু পুলিশের নিয়োগ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সুন্দরভাবে পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এতে দরিদ্রদের বিনা খরচে চাকুরি পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’

 

পাঠকের মন্তব্য