জলবায়ু সমন্বয়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বাংলাদেশ

বাংলাদেশকে ‘অলৌকিক’ হিসেবে দেখছেন বান কি-মুন 

বাংলাদেশকে ‘অলৌকিক’ হিসেবে দেখছেন বান কি-মুন 

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এবং এর সঙ্গে নিজেদের সমন্বয় করে বা পরিবর্তিত অবস্থায় খাপ খাইয়ে চলার প্রশ্নে বাংলাদেশকে ‘অলৌকিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন। তিনি বলেছেন, জলবায়ু সমন্বয়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এ দেশ।

বুধবার (১০ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন’ বিষয়ে ঢাকা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের সমন্বয় ও এর প্রভাব মোকাবিলায় ধারণার উন্নয়নে গঠিত এ কমিশনের চেয়ারম্যান বান কি মুন।

তিনি বলেন, ‘আমরা ঢাকায় এসেছি, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও দুরদর্শিতা থেকে শিখতে। যথার্থ আবহাওয়া পূর্বাভাস, কমিউনিটিভিত্তিক পূর্ব সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও সাইক্লোন সেন্টার থাকার ফলে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগেই ১৬ লাখ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছে।

সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’তে ১২ জনের প্রাণহানির সঙ্গে ৫ লাখ মানুষের প্রাণ নেয়া ১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের তুলনা করেন বান কি-মুন।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন করে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যে প্রজ্ঞা ও কার্যকারিতার উদাহরণ দেখিয়েছে, তা আমাদের সবাইকে অনুপ্রেরণা যোগায়। ২০০৯ সালে জাতীয় অভিযোজনের কর্মপরিকল্পনা সৃষ্টি করে এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হয়েছিল।

এই উদ্বোধনী সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার অত্যন্ত ভালো আলোচনা হয়েছে জানিয়ে বান কি-মুন বলেন, আমরা ঢাকায় একটা অভিযোজন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। ১০ দিন আগে আমরা চীনের বেইজিংয়ে একটি অভিযোজন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছি।

এই সম্মেলনের জন্য ঢাকাকে বেছে নেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, অনেক দেশ আছে যেগুলো বাংলাদেশের চেয়ে নাজুক। কিন্তু তাদের নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা নেই।

নেদারল্যান্ডসের সাহায্যে ডেল্টা প্লান ২১০০ এর আওতায় দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি বলেন, এসব অভিযোজন অনুশীলন বিনিময় করতে হবে। যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সহায়তায় আমরা জরুরি ভিত্তিতে ব্যয়সাশ্রয়ী উপায়ে পদক্ষেপ নিতে পারি। ভাবনার চেয়ে অনেক অনেক দ্রুত গতিতে জলাবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। এক্ষেত্রে আমাদের নষ্ট করার সময় নেই।

পাঠকের মন্তব্য