সকল বধ্যভূমি চিহ্নিত করে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে 

সকল বধ্যভূমি চিহ্নিত করে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে 

সকল বধ্যভূমি চিহ্নিত করে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে 

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে গৃহীত সব উন্নয়ন প্রকল্প সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যথাসময়ে সম্পন্ন করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আসন্ন মুজিব বর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের অংশ হিসেবে এসব প্রকল্প সম্পন্ন করতে হবে। এলক্ষ্যে অর্থ বছরের প্রথম থেকেই কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে লক্ষ্য ভিত্তিক কাজ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আজ বুধবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মাসিক সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

‘অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন প্রকল্পের’ বিষয়ে আলাপ কালে তিনি বলেন, ‘১৬ হাজার অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাকে ১৫ লক্ষ টাকার মধ্যে বাসস্থান নির্মাণ করে দেয়া হবে। এ লক্ষে বাস্তবসম্মত নকশা প্রণয়ন পূর্বক মুজিব বর্ষের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শেষ করতে হবে।’

‘সকল জেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ’ ও সকল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ’ প্রকল্প দুটি নিয়ে আলোচনাকালে মোজাম্মেল হক বলেন, প্রকল্প দুটির অগ্রগতি সন্তোষজনক হলেও অবশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সগুলো যথাসময়ে সম্পন্ন করতে হবে। বিভিন্ন কমপ্লেক্স ও জাদুঘরে বিকৃত প্রতিকৃতি নির্মাণের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতির পিতাসহ অন্যান্য জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বর্গের প্রতিকৃতি ও মূরাল নির্মাণ কালে সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

‘মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থানসমূহ সংরক্ষণ ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ প্রকল্প’ বিষয়ক আলোচনাকালে মোজাম্মেল হক বলেন, জাদুঘর নির্মাণের ডিজাইন প্রস্তুতকালে জমির দুষ্প্রাপ্যতার কথা মাথায় রাখতে হবে। শহর থেকে দূরে জনহীন প্রান্তরে জাদুঘর নির্মাণ করলে সেটা সাধারণ মানুষের কোনো কাজে আসবে না।

১৯৭১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার জন্য ব্যবহৃত ‘বধ্যভূমিসমূহ সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ’ প্রকল্প বিষয়ে আলোচনা কালে তিনি বলেন, দেশের সকল বধ্যভূমি চিহ্নিত ও সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে।

সভায় ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থল সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’, ‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ’, ‘নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধকরণ’, ‘মুক্তিযুদ্ধের স্থাপনাসমূহ সংরক্ষণ ও পুন:নির্মাণ’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধকালে শহীদ মিত্রবাহিনীর সদস্যদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের অগ্রগতি ও করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এসময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এসএম আরিফুর রহমান, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের মন্তব্য