আদালতে এসে অজ্ঞান হয়ে পড়েন নুসরাতের মা

আদালতে এসে অজ্ঞান হয়ে পড়েন নুসরাতের মা

আদালতে এসে অজ্ঞান হয়ে পড়েন নুসরাতের মা

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসে আদালতে অজ্ঞান হয়ে পড়েন মা শিরিন আক্তার। সাক্ষ্য ও জেরার শেষ পর্যায়ে এসে বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে তিনি প্রথমে উত্তেজিত হয়ে কাঁপতে থাকেন। পরে অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তাকে ফেনী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দশম দিনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে। বুধবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে পূর্ব নির্ধারিত নুসরাতের মা শিরিন আখতার ও মাদ্রাসা শিক্ষক আবুল খায়ের সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন। নুসরাতের মা অসুস্থ হয়ে পড়লে বিচারক আর শিক্ষকের সাক্ষ্য গ্রহণ করেননি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার মাদ্রাসা শিক্ষক আবুল খায়ের সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন। এ পর্যন্ত ১২ জনের সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয়েছে।

শিরিন আক্তারের ছেলে মাহমুদুল হাসান নোমান ও মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু জানান, বুধবার মামলার ১২ নম্বর সাক্ষী, নুসরাতের মা শিরিনা আক্তারের সাক্ষ্য ও জেরার ধার্য তারিখ ছিল। এদিন সকাল সোয়া ১১টায় তিনি সাক্ষ্য দেয়া শুরু করেন। সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর সাক্ষ্য শেষ হলে তাঁকে জেরা করেন আসামি পক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু, কামরুল হাসান, মাহফুজুল হক, ফরিদ উদ্দিন খান নয়ন, নুরুল ইসলাম ও আহসান কবির বেঙ্গলসহ কয়েকজন আইনজীবী। দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত একটানা জেরা চলছিল। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে কাঁপতে থাকেন শিরিন। এসময় তিনি অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।

অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর ছেলে নোমান, বাদি পক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজুসহ সেখানে থাকা কয়েকজন স্বজন তাকে বহন করে নীচে নিয়ে আসেন এবং সোনাগাজী থানা পুলিশ ও আদালত পুলিশের সহযোগিতায় আইনজীবীর গাড়িযোগে ফেনী সদরের রাজাঝীর দিঘীর পাড়ের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের ফেনী শাখার জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তিনি (শিরিন) অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। অতিরিক্ত উত্তেজিত হবার ফলে এমনটা হতে পারে। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কিছু সময়ের মধ্যেই তার জ্ঞান ফিরে আসে। তিনি সুস্থ আছেন।

চিকিৎসক বলেন, কয়েক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার পর তার বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হবে এবং অপরাপর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে পরামর্শক্রমে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ইচ্ছে করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে পারেন। তবে তার কয়েকদিনের বিশ্রাম প্রয়োজন বলে মতামত দেন ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন। শিরিনার ছেলে নোমান বলেন, মা কিছুটা ভালো আছেন। তবে আরও কিছু সময় তাকে হাসপাতালে থাকতে হবে। এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানান তিনি।

নুসরাতের পিতা এ কে এম মুসা স্ত্রীর অসুস্থ হবার খবর পেয়ে ফেনী হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে আসেন। তিনি বলেন, উনি গত কয়েকদিন ধরে অসুস্থ। ইতোমধ্যে তাকে ফেনীর শহীদ শহিদুল্লা কায়সার সড়কের আল কেমী হাসপাতালে দুই দিন রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

বাদি পক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু বলেন, উনি আগে থেকেই কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। কথা বলতে কষ্ট হচ্ছিল। তাই বিচারক তাকে সাক্ষীর ডকে দাঁড় না করিয়ে নিজের কাছাকাছি একটি স্থানে বসান এবং অত্যন্ত যত্নের সাথে তার সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। কিন্তু আসামি পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে কয়েকজনের কিছু প্রশ্নে তিনি উত্তেজিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এর আগে গত ২৭ জুন মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। পরে রাফির বান্ধবী নিশাত সুলতানা ও সহপাঠী নাসরিন সুলতানা, মাদ্রাসার পিয়ন নুরুল আমিন নৈশ প্রহরী মো. মোস্তফা, কেরোসিন বিক্রেতা লোকমান হোসেন লিটন, বোরকা দোকানদার জসিম উদ্দিন ও দোকানের কর্মচারী হেলাল উদ্দিন ফরহাদ, নুসরাতের ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান,জহিরুল ইসলাম ও নুসরাতের মা শিরিন আখতারের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।

 

পাঠকের মন্তব্য