ফাইনালের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়া

ফাইনালের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়া

ফাইনালের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়া

প্রথম সেমি-ফাইনালের উত্তেজনার রেশ থাকতেই মাঠে গড়াতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনাল। মুখোমুখি দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। বার্মিংহ্যামের এজবাস্টনে এই লড়াইয়ে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামতে যাচ্ছে অজি দল।

বিশ্বকাপ শুরুর আগেও সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন কে হবে এমন প্রশ্নের জবাবে অস্ট্রেলিয়ার কথা খুব বেশি ক্রিকেট অনুরাগীরা বলেননি। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া তাদের চিরাচরিত রুপে ফিরেছে।

উল্টোদিকে ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের আগে আসরের সবচেয়ে ফেভারিট দল হিসেবে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু মাঝপথে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার সাথে হেরে গিয়ে ইংল্যান্ডের সেমি-ফাইনাল খেলাই হুমকির মুখে পড়ে গিয়েছিল।

লিগ পর্বে লর্ডসে ইংল্যান্ডকে কচুকাটা করে অস্ট্রেলিয়া। লিগের সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৬৪ রানে হারিয়েছিল অজিরা। তবে এতে আশ্চর্যের কিছু ছিল না, কারণ সাউথহ্যাম্পটনে প্রস্তুতি ম্যাচেও ইংল্যান্ডকে ১২ রানে হারিয়েছিল তারা।

বিশ্বকাপে আলো ছড়াচ্ছেন দুদলের পেসাররা। তবে সংখ্যার বিচারে তা সীমিত। অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক ৯ ম্যাচে নিয়েছেন ২৬ উইকেট। এক আসরে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার রেকর্ডে স্বদেশী গ্লেন ম্যাকগ্রাকে ছুঁয়ে ফেলেছেন তিনি।

তার পাশাপাশি প্যাট কামিন্স ৯ ম্যাচে পেয়েছেন ১৩ উইকেট। তবে দলের বাকিরা খুব বেশি কিছু করতে পারছেন না বল হাতে। ইংল্যান্ডের অবস্থাও প্রায় একই রকম।

গতি তারকা জোফরা আর্চারের ওপর খুব নির্ভরশীল ইংলিশরা। তিনি ৯ ম্যাচে পেয়েছেন ১৭ উইকেট। আরেকটি নির্ভরতার নাম মার্ক উড। ৮ ম্যাচে তার শিকার ১৬ উইকেট। কিন্তু বাকিরা ততটা সফল হননি। দলে মইন আলি, আদিল রশিদের মতো স্পিনার থাকলেও তাদের কাছ থেকে সেরাটা পায়নি ইংল্যান্ড।

বিশ্বকাপে দুদল মুখোমুখি হয়েছে আটবার। এর ছয়টিতে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া, দুটিতে ইংল্যান্ড। ১৯৯২ সালের পর অবশ্য বিশ্বকাপের মঞ্চে অজিদের হারাতে পারেনি ইংলিশরা। হেরেছে টানা চার ম্যাচ (২০০৩, ২০০৭, ২০১৫ ও ২০১৯ আসরে)।

তবে ২০১৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দুদলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া ম্যাচগুলোর অধিকাংশ জিতেছে ইংল্যান্ড। গেল বছর জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৪-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল তারা। এরপর একই বছরের জুনে নিজেদের মাঠে অসিদের ৫-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল ইংল্যান্ড।

বার্মিংহামের এজবাস্টনে ইংলিশদের সাম্প্রতিক রেকর্ড ঈর্ষনীয়। তিন ফরম্যাটের ক্রিকেট মিলিয়ে এই মাঠে সবশেষ দশ ম্যাচের সবগুলোতেই জিতেছে তারা। লিগ পর্বে এজবাস্টনেই ভারতকে হারিয়ে সেমির দৌড়ে ফিরে এসেছিল দলটি।

একেবারে বিপরীত চিত্র অস্ট্রেলিয়ার। গেল ২৬ বছরে এই মাঠে কোনো ম্যাচ জেতেনি তারা। লিগ পর্বে এখানে কোনো ম্যাচও খেলেনি দলটি। অসিদের জন্য এ যেন বাড়তি পরীক্ষা।

ম্যাচটিতে অনুমিতভাবেই একটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে অস্ট্রেলিয়া। চোটের কারণে ছিটকে যাওয়া টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান উসমান খাওয়াজার জায়গায় ডাক পেয়েছেন পিটার হ্যান্ডসকম্ব। অন্যদিকে, কোনো পরিবর্তন নেই ইংল্যান্ড একাদশে।

অস্ট্রেলিয়া একাদশ: ডেভিড ওয়ার্নার, অ্যারন ফিঞ্চ (অধিনায়ক), স্টিভেন স্মিথ, পিটার হ্যান্ডসমস্ব, মার্কাস স্টয়নিস, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, অ্যালেক্স কারেই (উইকেটকিপার), প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জেসন বেহরেনডর্ফ, নাথান লায়ন

ইংল্যান্ড একাদশ: জেসন রয়, জনি বেয়ারস্টো, জো রুট, ইয়ন মর্গান (অধিনায়ক), বেন স্টোকস, জস বাটলার (উইকেটকিপার), ক্রিস ওকস, লিয়াম প্লাঙ্কেট, জোফরা আর্চার, আদিল রশিদ, মার্ক উড

পাঠকের মন্তব্য