ঘুষ আদানপ্রদানে মামলায় ফেঁসে যাচ্ছেন মিজান-বাছির  

ঘুষ আদানপ্রদানে মামলায় ফেঁসে যাচ্ছেন মিজান-বাছির  

ঘুষ আদানপ্রদানে মামলায় ফেঁসে যাচ্ছেন মিজান-বাছির  

মামলা থেকে বাঁচিয়ে দেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন পরিচালককে ঘুষ দিয়েছেন দাবি করে অডিও প্রকাশ করে মামলায় ফেঁসে যাচ্ছেন পুলিশের সাময়িক বরখাস্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান। বাদ যাচ্ছেন না ঘুষ নেওয়ায় অভিযুক্ত দুদকের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পরিচালক এনামুল বাছিরও। এই দুজনের বিরুদ্ধে শিগগিরই মামলা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দুদকের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্র।

তবে এ বিষয়ে দুদকের কেউ উদ্ধৃত হতে রাজি হননি। চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের কাছে জানতে চাইলে তিনিও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। বলেছেন, অনুসন্ধান চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পরই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনা অনুসন্ধান ইতিমধ্যেই শেষ করে এনেছে দুদকের অনুসন্ধান দল। খুব দ্রুত অনুসন্ধান প্রতিবেদন কমিশনে উপস্থাপন করা হবে। কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে শিগগিরই মামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্রমতে, মামলায় ডিআইজি মিজান ও দুদক পরিচালক এনামুল বাছির দুজনই আসামি হচ্ছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রমাণ অনুসন্ধান দলের হাতে চলে এসেছে।

অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার গেটে ডিআইজি মিজানুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদকের অনুসন্ধান দল। আদালতের আদেশ নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর আগে ডিআইজি মিজানের অফিসের আর্দালি সুমনকে ২৬ জুন, দেহরক্ষী হৃদয় হাসান ও গাড়িচালক সাদ্দাম হোসেনকে ৭ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদ করে অনুসন্ধান দল। অন্যদিকে এনামুল বাছিরকে গত ১০ জুলাই দ্বিতীয় দফায় তলব করা হলেও তিনি হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে দুদকে লিখিত বক্তব্য জমা দেন। দুদক সূত্র জানিয়েছে, বাছিরের লিখিত বক্তব্যকে আমলে নিয়ে অনুসন্ধান কাজ শেষ করা হবে। তাঁকে আর জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না।

সূত্র বলছে, ডিআইজি মিজান যে অডিও রেকর্ড প্রকাশ করেছেন সেটার ফরেনসিক প্রতিবেদনও দুদকের হাতে এসেছে। সেই প্রতিবেদনও বিশ্লেষণ করে দেখেছে দুদকের দলটি। গত ৪ জুলাই ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) থেকে ফরেনসিক প্রতিবেদনটি দুদকে আসে। সেই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে দুদক অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছে মিজান ও বাছিরের কথোপকথনের বিষয়ে।

অন্যদিকে এনামুল বাছির দুদকে যে বক্তব্য জমা দিয়েছেন তাতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, যে প্রক্রিয়ার ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়েছে তা যথাযথ নয় বলে দাবি করেছেন তিনি। এ ছাড়া পরীক্ষার জন্য তাঁর কোনো ‘স্যাম্পল ভয়েস’ নেওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করেন বাছির। তাঁর দাবি, তাঁকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে।

ডিআইজি মিজানের সরবরাহ করা অডিও রেকর্ডের সূত্র ধরে দুদকের পরিচালককে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার সংবাদ প্রকাশ করে বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজ।

দুদকের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্র বলছে, এনামুল বাছির ঘুষ নিয়েছেন এটা অডিও রেকর্ডে প্রমাণ আছে। আর ডিআইজি মিজান নিজেই ঘুষ দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলে নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিজেই প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সূত্রের তথ্যমতে, এনটিএমসির বিশেষজ্ঞ দল সময় নিয়ে ওই কথোপকথন ছাড়াও এ সংক্রান্ত পারিপার্শ্বিক অন্যান্য বিষয় পরীক্ষা করে দেখেছে। তাদের মধ্যে কতবার কথা হয়েছে, কোথায় কোন টাওয়ারের অধীনে কথা হয়েছে, দুদকের মামলা থেকে রেহাই পেতে ডিআইজি মিজান কী কী করেছেন, অনুসন্ধান কর্মকর্তার সঙ্গে একান্ত বৈঠকে কী কী বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন, তারা কতবার এসএমএস বিনিময় করেছেন ইত্যাদিও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অডিও রেকর্ডের নিবিড় পরীক্ষায় দুজনের কথোপকথনের প্রমাণ মেলায় তাদের দুজনের বিরুদ্ধেই মামলা করা হবে বলে সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

পাঠকের মন্তব্য