ফাইভ জি নেটওয়ার্ক নিয়ে কেন এতো উদ্বেগ ? 

ফাইভ জি নেটওয়ার্ক নিয়ে কেন এতো উদ্বেগ ? 

ফাইভ জি নেটওয়ার্ক নিয়ে কেন এতো উদ্বেগ ? 

ব্রিটেনের কিছু শহরে সম্প্রতি ফাইভ জি মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করা হয়েছে। ফাইভ জি নেটওয়ার্ক স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর সে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এখন। পৃথিবীর কয়েকটি দেশে এরই মধ্যে ফাইভ জি নেটওয়ার্ক হয়েছে।

এসব দেশের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন, সুইজারল্যান্ড এবং আমেরিকার কিছু অংশে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আরো অনেক দেশে ফাইভ জি নেটওয়ার্ক চালু হবে। সুতরাং ফাইভ জি নিয়ে কেন এতো উদ্বেগ? এমন কি প্রমাণ রয়েছে যে ফাইভ জি নেটওয়ার্ক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো?

ফাইভ জি'র ব্যতিক্রম কোথায় ?

পুরাতন মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের মতো ফাইভ জি নেটওয়ার্কও নির্ভর করে এমন এক সিগন্যালের উপর যেটি রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে ছড়িয়ে যায়। অ্যান্টেনা এবং মোবাইল ফোন সেটের মধ্যে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম প্রবাহিত হয়। আমরা সবসময় ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশনের মধ্যেই বসবাস করছি। টেলিভিশন এবং রেডিওর সিগন্যাল, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতির মাধ্যমে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম ছড়িয়ে যাচ্ছে।

এমনকি সূর্যের আলোতে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম রয়েছে। ফাইভ জি মোবাইল নেটওয়ার্কে অনেক হাই ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে একই সময়ে অনেক মোবাইল ফোন সেটে দ্রুত গতিতে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়। ফাইভ জি নেটওয়ার্কে যে তরঙ্গ থাকে সেটি শহরাঞ্চলে খুব বেশি দূর যায়না।

এই তরঙ্গ ছড়িয়ে দেবার জন্য অনেক বেশি ট্রান্সমিটার ব্যবহার করতে হয় এবং সেগুলোর অবস্থান হতে হয় মাটির কাছাকাছি।

উদ্বেগ কোথায়?

দক্ষিন কোরিয়ায় পুরো দেশে ফাইভ জি নেটওয়ার্ক আছে। মোবাইল ফোন প্রযুক্তিতে যে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন ব্যবহার করা হয় সেটির কারণে বিশেষ কয়েক ধরণের ক্যান্সার হতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে। ২০১৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি।

যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার যৌথভাবে সব ধরণের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়শেনকে শ্রেণীবিন্যাস করে বলেছে এর মাধ্যমে ক্যান্সারের সম্ভাব্য ঝুঁকি রয়েছে। মোবাইল ফোন সিগন্যালের একটি অংশ হচ্ছে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি রেডিশনের শ্রেণীবিন্যাস করার কারণ হচ্ছে, এই রেডিয়েশনের মাধ্যমে মানবদেহে ক্যান্সার হতে পারে - এর পুরোপুরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কৃত্রিম উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করা সবজি এবং ট্যালকম পাউডার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমান ঝুঁকি রয়েছে।

অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস ক্যান্সারের উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করে।

২০১৮ সালে মার্কিন স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব পুরুষ ইঁদুর উচ্চমাত্রার রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়েশনের সংস্পর্শে এসেছে তাদের হৃদপিণ্ডে ক্যান্সারাস টিউমার হয়েছে। এ গবেষণার জন্য কিছু ইঁদুরকে দুই বছর যাবত প্রতিদিন নয়-ঘণ্টা করে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের উচ্চমাত্রার রেডিয়েশনের সংস্পর্শে রাখা হয়েছিল। এটা করা হয়েছিল তাদের জন্মের আগে থেকেই।

সেক্ষেত্রে মেয়ে ইঁদুরদের মধ্যে রেডিয়েশনের সাথে ক্যান্সারের কোন সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ইঁদুর রেডিয়েশনের সংস্পর্শে এসেছে তারা অন্য ইঁদুরের তুলনায় বেশি সময় বেঁচে ছিল।

পাঠকের মন্তব্য