মায়ের পরকীয়ার নৃশংসভাবে খুন হলো শিশু সিয়াম  

মায়ের পরকীয়ার নৃশংসভাবে খুন হলো শিশু সিয়াম  

মায়ের পরকীয়ার নৃশংসভাবে খুন হলো শিশু সিয়াম  

মায়ের পরকীয়া দেখা ফেলায় নৃশংসভাবে খুন করা হয় পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জর সুলতানাবাদ গ্রামের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সিয়াম মাহমুদকে (১১)। 

দীর্ঘ তদন্ত, বিভিন্ন সাক্ষ্য প্রমাণাদির ভিত্তিতে সিয়াম হত্যার এ রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে উপজেলার সুলতানাবাদ থেকে সাইফুল ইসলাম ওরফে জামাল মেম্বার নাম এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছ পুলিশ।

গ্রেপ্তার আসামি মির্জাগঞ্জ উপজেলার মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডর বর্তমান ইউপি সদস্য। মির্জাগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি গ্রহণ করে তাকে পটুয়াখালী জেলহাজতে প্রেরণ করে।  

পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মঈনুল হাসান জানান, মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুলতানাবাদর জনৈক শাহজাহান গাজি ও একই বংশের ইসমাইল গাজির সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে শাহজাহান গাজির বাড়িতে ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম ওরফে জামাল মেম্বারের অবাধ যাতায়াত ছিল। এক পর্যায়ে শাহাজাহান গাজির স্ত্রী শিল্পি আক্তারের সঙ্গে জামালের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠ।

তিনি বলেন, ২৫ জানুয়ারি শাহজাহান গাজি ঘরে না থাকায় জামাল মেম্বার শিল্পির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক লিপ্ত হন। এ সময় শিল্পির শিশুপুত্র সিয়াম মাহমুদ তা দেখে ফেলায় ওই দিন রাতেই সিয়ামকে ঝালমুড়ি খাওয়ানোর কথা বলে ডেকে নেয় জামাল। দুই লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি দিয়ে সিয়ামকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রথমে খুনিরা সিয়ামের দুই হাতে কবজি কেটে নেয়। পরে জবাই করে হত্যা করা হয় তাকে। এ ছাড়া সিয়ামের শরীরের একাধিক স্থানে আঘাত করে খুনিরা। সিয়ামের মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা প্রতিবেশী আমজদ আলী আকনের বাড়ির পাশের ধানখেতে ফেলে যায়। ঘটনার পরদিন ২৬ জানুয়ারি পুলিশ সিয়াম মাহমুদর লাশ উদ্ধার করে। ২৭ জানুয়ারি সিয়ামের বাবা শাহজাহান গাজি বাদী হয় মির্জাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়র করেন। 

মির্জাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)  মাসুমুর রহমান বিশ্বাস জানান, পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মাঈনুল হাসান পিপিএম’র নির্দশনা ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন অফিসারদের তত্ত্বাবধানে মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনে সক্ষম হয়েছি। শিশু সিয়াম খুনের ঘটনায় অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পাঠকের মন্তব্য