পাইকগাছায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ -২০১৯ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন

পাইকগাছায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ -২০১৯ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন

পাইকগাছায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ -২০১৯ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন

"মাছ চাষে গড়ব দেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ"ও "সুনীল অর্থনীতি, মৎস্য সেক্টরের সমৃদ্ধি"- এই শ্লোগান ও  মুল প্রতিপাদ্য কে সামনে রেখে উৎযাপিত হতে যাচ্ছে এবারের মৎস্য সপ্তাহ। গত বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন  কক্ষে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউএনও জুলিয়া সুকায়না। সিনিয়ার উপজেলা মৎস্য অফিসার পবিত্র কুমার দাস' র সভাপতিত্বে   জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ- ২০১৯ উপলক্ষে একমত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন  মুখ্য বৈজ্ঞানিক  কর্মকর্তা (রু. দা.) ড. মোঃ লতিফুর ইসলাম,কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুজিত মন্ডল, সহকারী  মৎস্য অফিসার মোঃ শহীদুল্লাহ,ক্ষেত্র অফিসার রণধীর সরকার,প্রেসক্লাবের সম্পাদক মোঃ মোসলেম উদ্দীন,সহ-সভাপতি তৃপ্তি রঞ্জন সেন সহ সাংবাদিকবৃন্দ।
 
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষনা ইনস্টিটিউট লোনাপানি কেন্দ্রের উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক  কর্মকর্তা দেবাশীষ  কুমার মন্ডল  জানান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে এবং সরকারের সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় ও দিক নির্দেশনায় দেশ আজ মাছে স্বয়ংসম্পূর্নতা অর্জন করেছে। সারা বিশ্বে মাছ উৎপাদনকারি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৪র্থ স্হান এবং মুক্ত জলাশয় হতে মাছ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় স্হান অর্জন করেছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ১ কোটি ৯০ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জিডিপিতে ৩.৫৭ শতাংশ অবদান রয়েছে।

গবেষণায় নিয়োজিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষনা ইনস্টিটিউট লোনাপানি কেন্দ্র যা খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার পৌরসদরে অবস্হিত। এই কেন্দ্র ৩২হেঃ এলাকার মধ্যে ০.১ হেঃ হতে ১.০ হেঃ আয়তনের ৫৩ টি লোনাপানির পুকুর ও ৫ টি স্বাদুপানির পুকুর রয়েছে। মৎস্য রোগ, মাটি ও পানি পরীক্ষা, মাছের খাদ্য তৈরী এবং মাছের বায়োলজী সংক্রান্ত গবেষণার জন্য ৪ টি পৃথক গবেষণাগার ও অতি সম্প্রতি একটি কাঁকড়া হ্যাচারী নির্মিত হয়েছে যেখানে কাঁকড়ারর পোনা উৎপাদন সংক্রান্ত নিবিড়  গবেষণা চলমান রয়েছে।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণের নিমিত্তে লোনাপানি কেন্দ্র তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নিরবিচ্ছন্ন গবেষণায়  মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া ও উপকূলীয় পরিবেশের উপর- বাংলাদেশ চিংড়ি এবং অন্যান্য জলজ সম্পদের  জরীপ, ঘেরে শীলা কাঁকড়ার ফ্যাটেনিং কলাকৌশল, ফসল চক্রের ভিত্তিতে বাগদাদ ও গলদা চিংড়ি চাষ পদ্ধতি, ঘেরে বাগদাদ চিংড়ি  ও গিফট মাছের চাষ, চিংড়ি ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ দ্রুত সনাক্তকরণ পদ্ধতি, ঘেরে ও খাঁচায় শীলা কাঁকড়ার যুগপৎ ফ্যাটেনিং কলাকৌশলের উন্নয়ন, ঘেরে উন্নত পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ কলাকৌশল, লোনাপানির চিংড়ি  ও মাছের পোনা উৎপাদনে লাইভ ফিড চাষ পদ্ধতি, রূপান্তরিত আবদ্ধ পদ্ধতিতে আধা নিবিড় চিংড়ি চাষ, নোনা টেংরার কৃত্রিম প্রজনন ও পোনা উৎপাদন কৌশল, উপকূলীয় ঘেরে চিংড়ি চাষে সর্বাধিক অনুকূল  উৎপাদনশীলতার লক্ষ্যে পদ্ধতি বহুমুখীকরন, গলদা চিংড়ির আগাম ব্রূড উন্নয়ন কলাকৌশল, পারশে মাছের প্রজনন ও পোনা উৎপাদন,। উপকূলীয় অঞ্চলের চিত্রা ও  দাতিনা মাছের প্রজনন ও পোনা উৎপাদন,শীলা কাঁকড়ার প্রজনন ও পোনা উৎপাদন কৌশল( চলমান),উপকূলীয় এলাকায় কাঁকড়া সম্পদের  জরীপ ও উপকূলীয় ঘেরে বাগদাদ ও ভেনামীর বিকল্প হিসাবে হরিণা চিংড়ি চাষের সম্ভাবনা উপর সফল উদ্ভাবন করেছে যা উপকূলীয় মৎস্যখাত দ্রুততম সময়ে এগিয়ে চলেছে।

লোনাপানি কেন্দ্র হতে উদ্ভাবিত সফল গবেষণা প্রযুক্তি সফল গবেষণা প্রযুক্তি সমূহের উপর প্রতি বছর স্বল্প পরিসরে চাষী ও সুফলভোগীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে।বিগত ২০১০ ইং সাল হতে অধ্যাবধি ১৭৬৫ জন সফল ভোগিকে প্রশিক্ষণ  প্রদানকরা হয়েছে, যার মধ্যে ২০১৮ সালেই ২০৫ জন প্রশিক্ষণ গ্রহন করে।

উপজেলা সিনিয়ার মৎস্য অফিসার পবিত্র কুমার দাস জানান, ২০১৮-১৮ অর্থবছরে মৎস্য দপ্তর উৎপাদনে সাফল্যে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।পাইকগাছা উপজেলার মৎস্য সম্পদের উৎসের মধ্যে নদীর সংখ্যা ১০ টি আয়তন ২০০০ হেঃ, খাল ১৩২ টি আয়তন ২১৪০ হেঃ,পুকুর দীঘির সংখ্যা ৬০১৮ টি আয়তন ৩৫৭.২২ হেঃ, বাণিজ্যিক খামার ৫০টি, ২০.০০ হেঃ আয়তন, বাগদা ঘের ৩৯৪০ টি আয়তন ১৭০৭৫.০০ হেঃ,গলদা ঘের ২২৫ টিআয়তন ৭০.০০ হেঃ, কাঁকড়া ঘের ৩৯৪০ টি আয়তন ২০০.০০ হেঃ,বরোপিট ১০৭ টি আয়তন ১০১.৮০ হেঃ, ধান ক্ষেতে মাছচাষ ৬ টি আয়তন ৩.৫৩ হেঃ। অর্থাৎ মোট  উৎসের সংখ্যা ১০৪৮৮টি এবং আয়তন ২১৭৬৭.৫৫ হেঃ।

২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে মোট ১৩৬২৪.১৩ মে. টন উৎপাদন করে। তারমধ্যে  চিংড়ি প্রজাতি ৫৫১৮.৫০ মে. টন, মাছ ৩৯৯৫.৬৩ মে. টন, কাঁকড়া ৪১১০.০০ মে.  টন। উপজেলার বাৎসরিক মাছের চাহিদা ( গড়ে প্রতিদিন জনপ্রতি ৫৬ গ্রাম) ৫১০০.০০ মে. টন। উদ্বৃত্ত ৮৫২৪.১৩ মে. টন থাকে। রাজস্ব খাতে ০.৫০ মে. টন ১০.৩৩ হেঃ আয়তনে মোট ৩১ টি প্রাতিষ্ঠানিক পুকুর/ জলাশয়। ইউনিয়ান পর্যায়ে মৎস্যচাষ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পে ৩৬ জনের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং ৬ টি প্রদর্শনী বাস্তবায়ন, ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম -ফেজ ওও প্রজেক্টের ১০৭০ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং ২০ টি প্রদর্শনী বাস্তবায়ন হয়েছে এবং এআইএফ -২ এর মাধ্যমে ২ টি সেচ পাম্প এবং ১ টি পিকআপ ভ্যান ক্রয় করে। সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্টঃ ২০০জন জেলেকে এবং ২৫ জন চাষীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করে। 

মৎস্য সম্পদ রক্ষারনের স্বার্থে এবং উৎপাদনের বৃদ্ধির জন্য পাইকগাছায় সারা বছর ব্যাপী ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের ৫টি মোবাইল কোর্ট ও ৬০ টি মৎস্য বিভাগীয় অভিযান পরিচালনা করেন। এ অভিযানের মাধ্যমে ৪৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে জব্দকৃত ১২০ কেজি পুশকৃত চিংড়ি পুড়িয়ে নষ্ট করে এবং ৪ লক্ষ প্রাকৃতিক উৎসের বিভিন্ন প্রজাতির পোনা আটক করে বিভিন্ন নদীতর অবমুক্ত করেন।

এছাড়া বিজ্ঞান সম্মত ভাবে  মাছ চাষের লক্ষ্যে ২৬ টি প্রদর্শন বাস্তবায়ন করা হয় এবং রাজস্ব খাতে ৪০ জন প্রশিক্ষণ গ্রহন করেন।

 

 

পাঠকের মন্তব্য