ফুটবলার লুৎফরের চিকিৎসায় ৩০ লাখ টাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী 

প্রধানমন্ত্রী 

প্রধানমন্ত্রী 

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যখন থমকে গেছে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অন্যতম সদস্য লুৎফর রহমানের চিকিৎসা, ঠিক তখনই পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত সোমবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে লুৎফর রহমানের স্ত্রী সাজেদা রহমানের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্র ও ৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ ব্যাপারে লুৎফর রহমানের স্ত্রী সাজেদা রহমান বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী আজ তার যোগ্য সম্মান দিয়েছেন। এছাড়া তার ব্যাপারে রিপোর্ট করার জন্য যমুনা টিভিসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রশংসা করেন।

লুৎফর রহমান যশোর শহরের লোন অফিস পাড়ায় ১৯৫১ সালে জন্মগ্রহণ কারেন। বাবা বরকতুল্লাহ ও মাতা রাবেয়া বেগম। লুৎফর রহমান ছোটবেলা থেকে ফুটবল এবং হকি খেলায় আগ্রহী ছিলেন। যশোর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় ফুটবল খেলায় শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান।

তিনি ১৯৬৫ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত যশোর জেলা ফুটবল দলের হয়ে নিয়মিত খেলায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি ১৯৬৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান বোর্ড দলের পক্ষে পশ্চিম পাকিস্তানের সম্মিলিত বোর্ডের বিরুদ্ধে খেলেছিলেন। ১৯৬৯ এ ঢাকা ওয়ারী ক্লাবে যোগ দেন এবং ১৯৭০ সালে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

এরই মধ্যে দেশে স্বাধীনতা যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে। তখন দেশের স্বাধীনতার স্বপক্ষে জনমত সৃষ্টিতে খেলোয়াড়দের ডাক দিয়ে সংঘবদ্ধ করার উদ্যোগ নিলেন কয়েকজন তরুণ- আলী ইমাম, প্রতাপ, প্যাটেল, জাকারিয়া পিন্টু, আশরাফ ও মুজিবনগরে গঠিত বাংলাদেশ ক্রীড়া সমিতির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান। ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ১৬টি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলে ভারতীয় মুদ্রার ৩ লাখ টাকা তুলে তৎকালীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের কাছে দিয়েছিলেন। ১৬টি খেলার মধ্যে ১২টি খেলায় জয়লাভের স্মৃতিচারণ করেন তিনি।

পাঠকের মন্তব্য