ডায়রিয়া হলে কোন কোন খাবারগুলো খাওয়ানো যাবে না 

ডায়রিয়া হলে কোন কোন খাবারগুলো খাওয়ানো যাবে না 

ডায়রিয়া হলে কোন কোন খাবারগুলো খাওয়ানো যাবে না 

ডায়রিয়া অনেক বেশি অসহনীয় হয়ে উঠে যখন লুজ মোশনের পাশাপাশি বমি ও পেটে ক্রমাগত ব্যথা হয়। তাই ডায়রিয়ার নিরাময়কে ত্বরান্বিত করার জন্য এই সময় কোন খাবারগুলো খাওয়া উচিৎ নয় তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই খাবারগুলোর তালিকা জেনে নেই আসুন।

১। শুকনো ফল : শুকনো ফলে প্রচুর ফাইবার থাকে বলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। এই একই কারণে ডায়রিয়া হলে বাদাম, আলুবোখারা, এপ্রিকট, কিসমিস জাতীয় শুকনো ফলগুলো খাওয়া এড়িয়ে যেতে হবে।

২। শাকসবজি : ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রোকলি এবং পেঁয়াজ গ্যাস উৎপন্ন করে যা পাকস্থলির যন্ত্রণা বৃদ্ধি করে। তাই ডায়রিয়া হলে এই খাবারগুলো খাওয়া বন্ধ করতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না এর লক্ষণগুলো প্রশমিত হয়।

৩। ফল : উচ্চমাত্রার ফাইবার সমৃদ্ধ ফল যেমন- আপেল, নাশপাতি ইত্যাদি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে খেতে নিষেধ করা হয়। কারণ এগুলো লুজ মোশনের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

৪। চিনি যুক্ত খাবার : চকলেট, চুইংগাম, ক্যান্ডি জাতীয় খাবারগুলো হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে। ফলে পেট ফাঁপা ও পাকস্থলির যন্ত্রণা বৃদ্ধি করে। তাই ডায়রিয়া হলে এই ধরণের খাদ্য না খাওয়া ভাল।

৫। দুগ্ধ জাতীয় খাবার ও ডিম : দুধ, মেয়নেজ, পনির ও ডিম খাওয়া বাদ দিতে হবে ডায়রিয়া হলে। যদিও দই এর প্রোবায়োটিক  অন্ত্রের উপকারি ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ডায়রিয়া বৃদ্ধি পেলে আপনার শরীর লেক্টোজ অসহনীয় হয়ে পরে তাই এই সময় দুধ না খাওয়া উপকারি।    

৬। ডাল ও বীজ : মসুর ডাল সহ বিভিন্ন প্রকারের ডাল বীজ যেমন- সিমের বিচি, ডায়রিয়া হলে খাওয়া বন্ধ রাখতে হবে। কারণ এগুলো গ্যাস উৎপন্ন করে এবং ডায়রিয়ার পরিস্থিতি খারাপ পর্যায়ে নিয়ে যায়।

৭। ক্যাফেইন : পাকস্থলির অভ্যন্তরীণ প্রাচীরকে উদ্দীপিত করে ক্যাফেইন যার ফলে মল নির্গমনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তাই চা, কফি এমনকি গ্রিনটি পান করাও বাদ দিন। তবে অরগানিক গ্রিনটিতে ক্যাফেইন থাকেনা বলে এটি পান করতে পারেন।

৮। চর্বিযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাদ্য : চর্বিযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার খেলে পাকস্থলির সংকোচন বৃদ্ধি পায় এবং উপসর্গের মাত্রা বৃদ্ধি করে। যতক্ষণ পর্যন্ত না পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠছেন ততক্ষণ নিজেকে জাঙ্ক ফুড খাওয়া থেকে বিরত রাখুন।

৯। মসলাযুক্ত খাবার : ডায়রিয়ার সময় মসলা যুক্ত তরকারী খাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। পাকস্থলির প্রাচীরকে উদ্দীপিত করার পাশাপাশি মলের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে ডায়রিয়ার পরিস্থিতিকে খারাপ করে দিতে পারে।

খাদ্য তৈরি ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিরাপদ না হলে আপনি ডায়রিয়া সহ গুরুতর পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হতে পারেন। তাই খাওয়ার সময় ও খাদ্য প্রস্তুতের সময় হাত ভাল করে ধুয়ে নিন।সকল কাঁচা শাকসবজি ও ফলমূল ভাল করে ধুয়ে নিন।খাদ্য প্রস্তুতের আগে ও পরে স্থানটি ভালভাবে সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। ৬০ ডিগ্রী তাপমাত্রায় সব খাবার রান্না করুন।খাওয়ার পর অবশিষ্ট খাদ্য দ্রুত ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন।

কেলগেরিস হেলথ স্ট্যান্ড নিউট্রিশন এর পরিচালক এবং রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ান এন্ড্রিয়া হোলওয়েগনার বলেন,"শিশু ও বয়স্করা ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে স্পর্শকাতর কারণ তারা খুব দ্রুতই পানিশূন্য হয়ে পড়েন এবং যদি চিকিৎসা করা না হয় তাহলে তা বিপদজনক হতে পারে"।  

মোঃ সারোয়ার হোসেন : কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডার, পঞ্চবটী কমিউনিটি ক্লিনিক, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ  

পাঠকের মন্তব্য