ঝিনাইদহে মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীর শ্লিলতাহানী, পলাতক শিক্ষক 

ঝিনাইদহে মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীর শ্লিলতাহানী, পলাতক শিক্ষক 

ঝিনাইদহে মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীর শ্লিলতাহানী, পলাতক শিক্ষক 

ঝিনাইদহে দিনের পর দিন মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক তৃতীয় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর শ্লিলতাহানীর ঘটনা ঘটেছে। তদন্তে এই ঘটনার প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ, দিয়েছে চার্জশীট । তবে ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে শিক্ষক। এদিকে মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে শিশু শিক্ষার্থীর শ্লিলতাহানীর ঘটনা ধামাচাপা দিতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ঐশিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার হরিন্দিয়া গ্রামে হাজী আলতাফ হোসেন হরিন্দিয়া আলিম মাদ্রাসার ক্বারী শিক্ষক আবু তাহের তৃতীয় শ্রেণী পড়–য়া এক শিক্ষার্থী কে স্কুলে ৩দিন ধরে শ্লিলতাহানী ঘটায় । 

চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে জুন মাসের ১৮, ১৯ ও ২০ তারিখে। শিক্ষক স্কুল শেষে শিশুটিকে ক্লাসে বসিয়ে তার পেট, যৌনাঙ্গ সহ শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। এ ঘটনায় শিশুটি শরীরে ব্যাথা অনুভব করতে থাকলে আর মাদ্রাসায় যেতে অস্বীকৃতি জানায় বাবা-মা কে। কেন যেতে চায় না তা জানতে চাইলে শিশুটি এমন ভয়াবহ এক বিষ্ফোরক তথ্য দেয় বাবা-মা কে। তবে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ঐ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে। 

স্কুলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েও হরিন্দিয়া গ্রামের ভ’ক্তভোগী পরিবার পায়নি কোন প্রতিকার। এমনটি জানিয়েছে শিশুটির বাবা জামির হোসেন। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এলাকাবাসীও এঘটনার বিচার দাবি করেছেন। এদিকে মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ মুহা: আবদুর রশিদ বলছেন শিক্ষকরা নৈতিক চরিত্রের অধিকারী বলে জানতেন। কিন্তু হঠাৎ এমনটি ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে ম্যানেজিং কমিটি বৈঠক করেছে এবং পরবর্তী বৈঠকে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এটি ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ বলছেন ঐ শিক্ষকের একটি পদত্যাগপত্র পাওয়া গেছে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। 

এদিকে ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবি করছেন মাদ্রাসার বেশকিছু শিক্ষকও। অন্যদিকে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় কোটচাঁদপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছে শিশুটির বাবা। পুলিশ তদন্তে নামে ঘটনাটির, তদন্তে শিশুটির সাথে যৌন হয়রানী ও শ্লিলতাহানীর সত্যতা পায় তারা। কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ মাদ্রাসার ক্বারী শিক্ষক আবু তাহেরের বিরুদ্ধে চার্জশীট দিয়েছে। কোটচাঁদপুর থানার ওসি( তদন্ত) ইমরান হোসেন জানান এই শিক্ষক ইতিপূর্বেও শ্লিলতাহানি ও নানা অসামাজিক কার্যক্রমের সাথে জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। শিক্ষা মন্ত্রনালয় সহ সংশ্রিষ্ট শিক্ষা দফতরগুলোতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও তদন্ত রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।

পাঠকের মন্তব্য