দেশের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, রেডক্রিসেন্টের উদ্বেগ

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

কয়েক দিনের মৌসুমী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় উত্তরের জেলা কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়ায় ও সিরাজগঞ্জ, জামালপুর ও টাঙ্গাইল বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। পদ্মা ও যমুনার পানি বৃদ্ধির ফলে নতুন করে পাবনা, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জে ও পদ্মাপাড়ের ফরিদপুর অংশে গ্রাম ও ফসলি জমি প্লাবিত হচ্ছে।

উত্তরের বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে বাস্তুচ্যুত মানুষ এখনো ঘরে ফিরতে না পারায় সংকট বাড়ছে। বাস্তুচ্যুতরা গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে বা কোন উচু স্থানে ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে থাকছে। দুর্গত এলাকায় চলছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। বেশকিছু এলাকায় এখনো সরকারি-বেসরকারি কোনো ত্রাণসহায়তা পৌঁছেনি বলে অভিযোগ করেছেন বন্যাদুর্গত মানুষেরা।

পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মধ্যাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ও ভারত আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশের উজানের প্রদেশগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় কমতে পারে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং সুরমা-কুশিয়ারা নদ-নদীগুলোর পানি।

এদিকে, আজ আবহাওয়ার পূর্বাভাষে বলা হয়েছে, সোমবার থেকে সারাদেশে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। ফলে আবারো নদীর পানি বাড়তে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, পানি বৃদ্ধির কারণে মধ্যাঞ্চলের মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও মুন্সিগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

এদিকে, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, কয়েকদিনের ব্যাপক বৃষ্টিতে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ৪০ লাখের বেশি মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে পড়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্যা ও ভূমিধসের কারণে সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েক লাখ মানুষ বিদ্যুত্হীন অবস্থায় রয়েছে। ৬৬ হাজারের বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে।

বিস্তীর্ণ কৃষি অঞ্চলে বন্যায় খাদ্যশস্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে খাদ্য সংকটের হুমকি তৈরি হয়েছে। এর ফলে শিশু, প্রসূতি, গর্ভবতী ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে আইএফআরসি।

পাঠকের মন্তব্য