খালেদা জিয়া বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রতীক : মীর্জা ফখরুল

খালেদা জিয়া বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রতীক : মীর্জা ফখরুল

খালেদা জিয়া বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রতীক : মীর্জা ফখরুল

চট্টগ্রামে বিএনপির মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন কেন্দ্রীয় মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম।
 
খালেদা জিয়া কেবল বিএনপির নয় উল্লেখ করে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘তিনি সারা দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের নেতা। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তিনি এদেশে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে আসছেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরশাসনের পতন ঘটিয়ে তিনি দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন’।

শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামে বিএনপি বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। চট্টগ্রাম নগরীর নুর আহমদ সড়কে বিকেল দুইটা থেকে সন্ধ্যা পৌনে সাতটা পর্যন্ত এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর চট্টগ্রামে এটি ছিল প্রথম কোন বড় কর্মসূচি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ছলচাতুরী করে ক্ষমতায় আসার পর বারবার দেশকে একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় নিয়ে যেতে চাইলে বেগম খালেদা জিয়া তা রুখে দাঁড়িয়েছে। তাই মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে তাঁকে কারা প্রকোষ্ঠে বন্দী করে রেখেছে। অসুস্থাবস্থায় তিনি এখন ঠিকমতো খেতে পারেন না, হাঁটাচলা করতে পারেন না। বিজ্ঞ আইনজীবীরা বলছেন, এ মামলায় তাকে জামিন না দিয়ে আটকের রাখার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু সরকার তাকে মুক্তি দিচ্ছে না।

ভোট ডাকাতির মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসেছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলে দেশের মানুষের কাছে এ সরকারের কোন জবাবদিহি নেই। তিনি বলেন, দেশের মানুষ চরম নিরাপত্তাহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। দিনে দুপুরে আদালতের ভেতরে কুপিয়ে মানুষ খুন করা হচ্ছে, সাত বছরের শিশু থেকে শুরু করে সত্তর বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে জনগণকে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে বর্তমান নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারে না। তাই নির্বাচন কমিশন বাতিল করে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচন দিতে হবে।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে বিএনপি দুই সপ্তাহ আগে এ মহাসমাবেশের ঘোষণা দিলেও পুলিশের অনুমতি পেতে বিলম্বের কারণে আদৌ সমাবেশ হবে কিনা তা নিয়ে দোলাচলে ছিল দলীয় নেতাকর্মীরা। সমাবেশের মাত্র ২১ ঘণ্টা আগে শুক্রবার বিকেল ৫টায় শর্ত সাপেক্ষে সমাবেশ করার অনুমতি মিললেও কোন ধরনের প্রচার-প্রচারণা ছিল না। তারপরও শনিবার দুপুর থেকে চট্টগ্রাম মহানগর, জেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপি নেতা–কর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুনসহ মিছিল নিয়ে সমাবেশে উপস্থিত হন। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে তোলেন সমাবেশস্থল। সমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুলিশ প্রশাসনও। নুর আহমদ সড়ক ও আশপাশে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিপুল পরিমাণ পুলিশ সদস্য। কাজীর দেউড়ি মোড় থেকে নুর আহমদ সড়কের একপাশে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, মীর মো. নাসির উদ্দিন, আবদুল আউয়াল মিন্টু, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, জয়নাল আবেদীন ফারুক, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম সমাবেশ সঞ্চালনা করেন।

 

পাঠকের মন্তব্য