সারাদেশে ছেলেধরা সন্দেহে নারীসহ সাতজনের মৃত্যুর খবর

সারাদেশে ছেলেধরা সন্দেহে নারীসহ সাতজনের মৃত্যুর খবর

সারাদেশে ছেলেধরা সন্দেহে নারীসহ সাতজনের মৃত্যুর খবর

স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা ও রক্ত লাগবে-এমন একটি গুজব সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়ে। যদিও এর ভিত্তি পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেতু কর্তৃপক্ষ একে গুজব হিসেবেই দেখছে। অবশ্য এর মাঝে সারা দেশে ছেলেধরা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি জেলায় ছেলেধরা সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে পিটিয়ে হত্যাও করা হয়। গত এক সপ্তাহে সারা দেশে ছেলেধরা সন্দেহে নারীসহ সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

যদিও তাদের অধিকাংশই মানসিক ভারসাম্যহীন কিংবা সন্দেহের বশবর্তী হয়ে নিহত কিংবা আহত হন গণধোলাইয়ে। তারপরও থেমে নেই ছেলেধরা সন্দেহ এবং গণনির্যাতন। এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি অপরাধী চক্র এমন গুজব ছড়িয়ে যেকোনো হত্যাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। পদ্মা সেতুর স্বপ্নকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা করছে।

তবু রাজধানীসহ সারা দেশে ছেলেধরা আতঙ্কে রয়েছেন অভিভাবকরা। প্রাইমারি ও হাই স্কুল এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রশাসন, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎকণ্ঠা। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো থেকে বিরত থাকছেন। বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ কয়েকটি জেলার কিছু স্কুলে শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি কমে গেছে বলেও জানা গেছে।

এর মাঝেও গতকাল শনিবার রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে বোরকা পরিহিত এক নারীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে জনতা। এদিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে উত্তর বাড্ডার কাঁচাবাজারের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বাড্ডা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ছেলেধরা সন্দেহে এক নারী গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। পুলিশ গিয়ে ওই নারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দুই ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক স্থানে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরো এক নারী। গতকাল সকাল পৌনে ৯টায় ও বেলা পৌনে ১১টায় সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পূর্বপাড়া ও পাইনাদী শাপলা চত্বর এলাকায় এ দুই ঘটনা ঘটে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক সাখাওয়াত জানান, ৬-৭ বছরের এক মেয়েশিশুর হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছিলেন ওই যুবক। এ সময় শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে দুই যুবকের সন্দেহ হয়। তারা ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিশুটি নিজের বলে দাবি করেন ওই যুবক। ইতোমধ্যে শিশুটির বাবা ঘটনাস্থলে গেলে শিশুটি তার বাবার কাছে চলে যায়। এ ঘটনায় উপস্থিত লোকজন ওই যুবককে গণপিটুনি দেয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত যুবকের পরিচয় উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

অন্যদিকে শহরের শাপলা চত্বর এলাকায় ২২ থেকে ২৫ বছরের এক নারী খেলনা ও খাবার দিয়ে এক শিশুকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের সন্দেহ হলে তারা শিশুটি কার জিজ্ঞেস করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে এলাকাবাসী তাকে গণপিটুনি দেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

একই দিন কেরাণীগঞ্জে শিশুচোর সন্দেহে অজ্ঞাতপরিচয় দুই যুবককে গণপিটুনি দেন স্থানীয়রা। হাসপাতালে নেওয়া হলে একজন মারা যান। গতকাল শনিবার সকাল ৮টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার হজরতপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অপরিচিত দুই যুবককে গ্রামের মধ্যে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। এ সময় তারা শিশুদের সঙ্গে কথা বলে এবং বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করে। পরে এলাকাবাসী তাদের দুজনকে ধরে গণপিটুনি দেন। পুলিশ একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে এবং গুরুতর আরেকজনকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সর্বশেষ তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

আরেক ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার ছয় থেকে সাত বছর বয়সী এক শিশুর কাটা মাথা ব্যাগে ভরে ঘোরাফেরা করার সময় নেত্রকোনা শহরের নিউ টাউন এলাকায় এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেন স্থানীয়রা। এদিন দুপুরে শহরের নিউ টাউন পুকুরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে শিশুর কাটা মাথাসহ অজ্ঞাতপরিচয় ওই যুবক হরিজন পল্লী এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন। বিষয়টি হরিজনদের দৃষ্টিগোচর হয়। পরে তাকে ধাওয়া করে নিউ টাউন পুকুরপাড়ে ধরে গণপিটুনি দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়।

নেত্রকোনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুল ইসলাম জানান, গলাকাটা ওই শিশুর নাম সজীব মিয়া। তার বাবা রইস উদ্দিন পেশায় রিকশাচালক। তারা শহরের কাটলি এলাকার বাসিন্দা। সজীবদের গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার আমতলা এলাকায়।

গত ১৩ জুলাই রাজধানীর আদাবর এলাকায় গণপিটুনিতে মারা যান এক যুবক। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, স্থানীয় নবোদয় হাউজিং এলাকায় ওই লোক সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ কারণে লোকজন তাকে ছেলেধরা হিসেবে আখ্যায়িত করে আটক করে। লোকজনের মারপিটে মারা যান লোকটি।

অন্যদিকে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুর ঘোনার কাঠালিয়া বাজারে গত ১০ জুলাই রাতে ছেলেধরা সন্দেহে লোকজন অজ্ঞাত এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ডুমুরিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। আটকরা হলেন স্থানীয় মেহেদী মোড়ল ও মধুসুধন মণ্ডল।

ডুমুরিয়া থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব জানান, নিহত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন।

এছাড়া সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা শহরে ছেলেধরা সন্দেহে অজ্ঞাতপরিচয় ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গণপিটুনিতে নিহত হন। আরেক ঘটনায় গত শুক্রবার বান্দরবান জেলা শহরের বালাঘাটা এলাকার পাহাড়ি অঞ্চলে ছেলেধরা সন্দেহে এক রোহিঙ্গা তরুণীকে (১৮) পিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। আহত তরুণীর দাবি, তিনি ধর্ষণ থেকে বাঁচতেই পালাচ্ছিলেন। এক কিশোরকে দেখে তার সাহায্য পেতে ডাক দেন।

স্থানীয়রা জানান, বালাঘাটার লেমুঝিরি ও অক্ষ্যংঝিরির মাঝামাঝি পাহাড়ে গরু চরাচ্ছিল বিজয় ইসলাম শুভ (১৫) নামের এক কিশোর। এ সময় আটক তরুণী ও আরো তিন তরুণ তাকে ধাওয়া করেন। পরে কিশোরের চিৎকারে এলাকাবাসী ওই তরুণীকে ধরে ফেলেন।

বিজয় ইসলাম জানায়, সে গরু চরানোর সময় হঠাৎ ওই তরুণী এসে তাকে ডাক দেয় এবং সঙ্গে যাওয়ার জন্য বলে। কিন্তু সে যেতে অস্বীকার করলে তরুণী তাকে ধাওয়া করে। এ সময় আরো তিন তরুণ এসে তাকে ঘেরাও করার চেষ্টা করে। বান্দরবান সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই রোহিঙ্গা তরুণীর নাম রোকেয়া বেগম (১৮)। তার দাবি, তিনি ছেলেধরা নন। তিনি উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে থাকেন। বিবাহিত এ তরুণীর স্বামীর নাম হামিদ উল্লাহ।

অন্যদিকে গতকাল গাজীপুরে ছেলেধরা সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে এলাকাবাসী পিটিয়ে আহত করেছেন। ৪৫ বছর বয়সী এই নারীর বাড়ি নেত্রকোনার দুর্গাপুর এলাকায়। তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরেক ঘটনায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাটে শিশু চুরির অভিযোগে রেহেনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীকে আটক করেন স্থানীয়রা। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আটক রেহেনা আলীপুর এলাকার হারুনের স্ত্রী। তার বাবার নাম ইউনুচ মিয়া।

উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম আরফাতুল ইসলাম সিফাত (৫)। সে নোয়াখালীর সুবর্ণচর থানার জাহাজমারা গ্রামের সজল ইসলাম ও পারুল আক্তারের ছেলে। তারা দীর্ঘদিন সলিমপুরের বাংলাবাজারের পুরাতন দাইয়া বাড়ির আলমগীরের ভাড়া বাসায় বাস করছেন।

একই দিন দুপুরে ছেলেধরা সন্দেহে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ধামসুর এলাকায় এক নারীকে গণধোলাই দেন স্থানীয়রা। পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে ভালুকা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। ওই নারী ভালুকার পাঁচগাঁও গ্রামের শাহ আলমের স্ত্রী মালেকা (৩৫)। তিনি স্থানীয় একটি মোটরসাইকেল কারখানায় কাজ করেন।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহীর বাগমারায় মিজানুর রহমান মিজান নামে ছয় বছরের এক শিশুকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। গভীর রাতে উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌর এলাকার সূর্যপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। ওই সময় একই ঘরে শিশুটির মা-বাবাও ঘুমিয়েছিলেন। আহত মিজান ওই এলাকার আতিকুর রহমানের ছেলে। রাতেই মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এরই মধ্যে এসব ঘটনা তদন্ত করতে মাঠে নেমেছে পুলিশ। অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা খবর পাওয়ার আগেই স্থানীয় মানুষ সন্দেহজনক ব্যক্তি বা নারীকে আটক করে পিটুনি দিয়ে হত্যা করছেন। প্রকাশ্যে এভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি কতখানি দোষী বা ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা প্রমাণ করার সুযোগ থাকছে না। আইন হাতে তুলে নিয়ে মানুষ অন্যের ওপর এভাবে ঝাঁপিয়ে পড়লে নিরপরাধ মানুষও মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হতে পারেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

তবে বিষয়টিকে গুজব হিসেবেই দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কয়েকটি এলাকায় জনসাধারণকে সচেতন করতে তাদের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে।

এছাড়া পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজের জন্য মানুষের মাথা লাগবে-এমন গুজবের বিরুদ্ধে সতর্ক হতে বলেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া গুজবের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকতে বলা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর এ নিয়ে নাগরিকদের উদ্দেশে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গুজবে বিভ্রান্ত হবেন না। পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা ও রক্ত লাগবে-এটা গুজব। এরই মধ্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণ নিয়ে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।

র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান ভূঁইয়া জানান, পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে গুজব ছড়ানোর দায়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অন্যদিকে মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট এলিনা খান এসব ঘটনাকে সম্পূর্ণ গুজব বলে মনে করেন। তিনি গুজব প্রতিরোধে সচেতন নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পাল্টা সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর সুপারিশ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের গুজব মানুষ হত্যার হাতিয়ার। গুজব ছড়িয়ে মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটছে। এর আগে আমরা ধর্মসহ বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে মানুষ হত্যা করতে দেখেছি। কিন্তু এ ধরনের গুজব এই প্রথম। গুজবকারীদের যেভাবেই হোক ধরে আইনের আওতায় আনতে হবে। তার আগে তাদের সতর্ক করতে হবে। আমাদের ডিজিটাল আইনেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

অপরাধ বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, একটা গোষ্ঠী যারা বাংলাদেশের উন্নয়নকে বিশ্বাস করে না, তারা ওত পেতে থাকে, কখন কোন গুজব ছড়ানো যায়।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা ও রক্ত লাগবে বলে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে। এটি পুরোপুরি মিথ্যা ও গুজব। যারা এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সারা দেশে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এআইজি সোহেল রানা বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের সঙ্গে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি জড়িত। একটি মহল এ উন্নয়ন ব্যাহত করতে এ ধরনের গুজব রটিয়ে দেশবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, যা গুরুতর অপরাধ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, সেতু তৈরিতে মানুষের মাথা বা রক্ত লাগার এমন কাল্পনিক বানোয়াট কথা অনেক আগে থেকেই সমাজে রটে আছে। সম্প্রতি নতুন করে দেশের গৌরবের স্মারক পদ্মা সেতু নির্মাণেও এমন ধরনের গুজব কোনো সামাজিক বিশৃঙ্খলার উদ্দেশ্যেই ছড়ানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ গুজব প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হতে হবে। কেননা এ ধরনের গুজব থেকে অনেক সময় সমাজে বা রাষ্ট্রে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা হতে পারে। এ ধরনের গুজব মানুষ হত্যারও হাতিয়ার। এ ছাড়া এ গুজবকে অনেক সময় সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে পারে অপরাধী বা অপহরণকারী চক্র।

জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে : গুজবে কান দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রবিরোধী কাজের শামিল। এছাড়া গণপিটুনি দিয়ে মানুষ মারাকে বড় ধরনের অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে এগুলো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। গতকাল শনিবার বিকেলে এক বার্তায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, পদ্মা সেতু নির্মাণে মাথা লাগবে- একটি মহল এমন গুজব ছড়ানোর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকজন গণপিটুনিতে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। পুলিশ সদর দপ্তর আরো জানায়, ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি একটি ফৌজদারি অপরাধ। আইন নিজের হাতে তুলেন নেবেন না। গণপিটুনির ঘটনা তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে’ বলে একটি গুজব ছড়ানোকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে মর্মান্তিকভাবে কয়েকজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গুজব ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রবিরোধী কাজের শামিল এবং গণপিটুনি দিয়ে মৃত্যু ঘটানো ফৌজদারি অপরাধ। তিনি আরো বলেন, ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়ে এ পর্যন্ত যতগুলো নিহতের ঘটনা ঘটেছে পুলিশ প্রত্যেকটি ঘটনা আমলে নিয়ে তদন্তে নেমেছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

পাঠকের মন্তব্য