ডেঙ্গু রোগী ভর্তিতে রেকর্ড : এক দিনে ৪০৩ জন ভর্তি

ডেঙ্গু রোগী ভর্তিতে রেকর্ড

ডেঙ্গু রোগী ভর্তিতে রেকর্ড

ঢাকায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে৷ জুলাই মাসের ২২ দিনেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন পাঁচ হাজার ৫০ জন ডেঙ্গু রোগী৷

একদিনে সর্বোচ্চ রেকর্ড৷ শুধু সোমবারেই ভর্তি হয়েছেন ৪০৩ জন৷  তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সংখ্যা আরো অনেক বেশি হবে৷

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আক্রান্তের সংখ্যা কমিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেখানোর প্রবণতার প্রমাণও আছে৷ বিভিন্ন সূত্র ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে, এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২৬ জন৷ আর এখনও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানুয়ারি থেকে এপর্যন্ত ৫ জন মারা গেছেন বলে জানাচ্ছে৷ তাদের হিসেবে এপ্রিলে দুইজন এবং জুন ও জুলাইতে মারা গেছেন একজন করে৷ এই তথ্যে ডেঙ্গুতে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. শাহাদাত হোসেনের মৃত্যুর হিসাব নেই৷ তিনি রোববার (২১ জুলাই) ডেঙ্গু জ্বরে মারা যান৷ হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ রথীন্দ্র চন্দ্র দেব নিজেই ডেঙ্গুতে ডাঃ শাহাদাতের মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমকে৷

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার এন্ড কন্ট্রোল রুমের দেয়া সর্বশেষ তথ্য জানুযায়ী জানুয়ারি থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশের হাসপাতালগুলো মোট সাত হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন৷ তার মধ্যে জুন-জুলাই মাসেই ভর্তি হয়েছেন ছয় হাজার ৮৬৪ জন৷ আর জুলাই মাসের ২২ দিনে এটা সর্বোচ্চ৷ জানুয়ারি থেকে হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর ৭০ ভাগই ভর্তি হয়েছেন জুলাই মাসের ২২ দিনে৷ গত ২৪ ঘন্টায়(২২ জুলাই) ভর্তি হয়েছেন ৪০৩ জন৷ এটা  এবছরে সর্বোচ্চ৷ ২১ জুলাই ভর্তি হয়েছেন ৩১৯ জন, ২০ জুলাই ৩০৮ জন এবং ১৯ জুলাই ২৬৯ জন৷ এখন আক্রান্তের ঊর্ধ্বগামী প্রবণতা আরো তীব্র হচ্ছে৷

ঢাকার হাসপাতালগুলোতে যত রোগী এখন ভর্তি হচ্ছেন, তার এক-তৃতীয়াংশ ডেঙ্গু রোগী৷ আর সরকারি হাসপাতালগুলো রোগীর অবস্থা খুব খারাপ না হলে ভর্তি নিচ্ছে না৷ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, আমরা দুই-তৃতীয়াংশ রোগীকেই আউটডোর থেকে চিকিৎসা পরামর্শ দিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছি৷ আর তাদের একটি অংশ আছে যারা আতঙ্কে হাসপাতালে আসেন৷ অবস্থা ক্রিটিক্যাল না হলে আমরা ভর্তিই করছি না৷

তিনি জানান, আমার হাসপাতালে প্রতিদিন ৭০০ রোগী ভর্তি হচ্ছে৷ তার মধ্যে ১০ ভাগেরও বেশি ডেঙ্গু রোগী৷ এখন মোট সাড়ে তিনশ'র মত ভর্তি আছে৷ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন মারা গেছেন৷ এবার ডেঙ্গুটা ক্রিটিক্যাল হওয়ায় আমাদের ওপর দিয়ে চাপ যাচ্ছে৷ বেডের চেয়ে ২০ ভাগ বেশি রোগী ভর্তি আছেন৷ অনেককেই ফ্লোরে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে৷

ঢাকায় সরকারি হাসপাতালের চেয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে  ডেঙ্গু রোগী  ভর্তি হচ্ছেন বেশি৷ বেসরকারি মেট্রোপলিটন হাসপাতালের রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ গুলজার হোসেন উজ্জ্বল বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে সরকারি হাসপাতালের চেয়ে রোগীও কম আসে, বেডও কম৷ তারপরও এখন যারা ভর্তি হচ্ছেন তাদের শতকরা ৫০ ভাগই ডেঙ্গু রোগী৷ আর ভর্তির হিসাবের চেয়ে বাস্তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হবে৷ দুই-তিনগুণ৷

তিনি বলেন, এবার মৃত্যুর হারও অনেক বেশি৷ যে হিসাব সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যাচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি হবে৷

বাংলাদেশে গত ১০ বছর ধরে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যাচ্ছে৷ ডাঃ গুলজার বলেন, ডেঙ্গু ভাইরাসের চরিত্রের  পরিবর্তন হয়েছে৷ আর এবার যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের বড় একটি অংশ আগেই আক্রান্ত হয়েছেন৷ ফলে দ্বিতীয়বার বা তৃতীয়বারে প্রতিক্রিয়া হচ্ছে ভয়বাহ৷ ফলে মৃত্যুর হার বেশি৷

নাসির উদ্দিন বলেন, এবার তাপমাত্রা কম থাকে ১০১ ডিগ্রীর মতন৷ জ্বর চলে যাওয়ার ৫-৬দিন পর প্রতিক্রিয়া হয়৷ ফলে অনেকে বুঝতেই পারেন না৷ শেষ পর্যায়ে হাসপাতালে আসেন৷ প্রসঙ্গত, সারা দেশে সাত হাজার ১৭৯ জন ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে বেসরকারি হাসপাতালে ৩,৩৬৭ জন আর সরকারি হাসপাতালে তিন হাজার ৮১২ জন রয়েছেন৷

পাঠকের মন্তব্য