বিরাজমান সামাজিক অস্থিরতায় সর্তক আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগ

দেশে বিরাজমান সামাজিক অস্থিরতায় সর্তক অবস্থানে রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দেশের মধ্য যারা গুজবের মাধ্যমে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে তাদের বিষয়ে দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকরা।

একইসঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বিরাজমান অন্য সামাজিক অস্থিরতা নিয়ে দলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিকভাবে কোনো কর্মসূচি দেয়া যায় কি না সে বিষয়েও ভাবছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, দেশে বিরাজমান সামাজিক অস্থিরতা, নৈতিকতার অবক্ষয় রোধ ও সমাজিক সচেতনতা তৈরিতে কাজ করবে দল। দেশের সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির জন্য দলের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে প্রচার বাড়ানো হবে। সমাজ থেকে অস্থিরতা দূর করতে প্রশাসনকে সহায়তা করে যাবে দল।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের চলতি মাসে বলেন, এ বিষয়গুলো আমাদের গত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদের সভায় বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে। নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং সামাজিক অস্থিরতা- এ বিষয়গুলোর যে অবনত রূপ। এটাকে ট্যাকেল করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, সাংগঠনিকভাবে আমাদের নিজেদের অবস্থানকে তুলে ধরা এবং প্রশাসনিকভাবে কঠোর হস্তে দমনের জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিরো টলারেন্সের বিষয়টি জানিয়েছেন। সেসময় ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, যা সত্য- সেটাকে স্বীকৃতি দিয়েই মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রশাসনের সামাজিক অস্থিরতা প্রতিরোধে ও গুজবের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে তৎপর হয়ে উঠেছেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতা ও সংসদ সদস্যরা। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, দেশের বর্তমান সামাজিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দলের পক্ষ থেকে সামাজিক সতেচতনতা বাড়াতে প্রচার আরও বাড়ানো হবে। এছাড়া দলীয়ভাবে সকল স্তরের নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হবে। তবে গুজব ছড়ানোর বিষয়টি কেউ অবশ্যই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করছে বলেই সন্দেহ করছেন তারা। এ ছাড়া দলের প্রচার উপ-কমিটির সভা ডেকেও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করা হতে পারে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বর্তমানে চলমান সামাজিক অস্থিরতা নিয়ে আমাদের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোথাও এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে নেতাদের সচেষ্ট থাকার জন্য বলা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে এ ধরনের ঘটনার জন্য আরো সচেতন করতে হবে। এসব বিষয়ে দলীয়ভাবে বৈঠক হবে। বৈঠকের পর পরবর্তী নির্দেশনা আসতে পারে।

বুধবার (২৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ জানিয়েছেন, যারা গুজবের মাধ্যমে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এবং আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে, তাদের দলীয়ভাবে প্রতিরোধ করতে সারা দেশের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, যারা গুজব ছড়িয়ে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে তারা চায় না দেশের উন্নয়ন হোক ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসুক। এ জন্যই তারা গুজব ছড়াচ্ছে। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বুধবার (২৪ জুলাই) দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এক সভায় আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব রটনাকারীদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।

এদিকে সামাজিক অস্থিরতা নিরসন ও প্রতিরোধে পাড়া-মহল্লায় সতর্ক অবস্থানে থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা কারার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ এমন তথ্য জানিয়েছেন। মুরাদ জানান, থানা-ওয়ার্ড এবং প্রতিটি ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সর্তক থাকতে মৌখিকভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য দলীয় নেতাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বুধবার (২৪ জুলাই) বঙ্গবন্ধু জয় বাংলা লীগ নামের একটি সংগঠন নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ছাত্র ও পথচারীদের মাঝে গুজববিরোধী সতর্কতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছে। এসময় সেখানে নেতৃত্ব দিয়েছেন ওই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাউল করীম চৌধুরী বাবুল। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি আহসানউল্লাহ মনি, প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস আকবর ও আবদুল মজিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির প্রমুখ। এর আগে গত মঙ্গলবারও সকালে মতিঝিল-আরামবাগ ও পল্টন, বিজয়নগর, সেগুনবাগিচা, গুলিস্তানসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তারা এ লিফলেট বিতরণ করেন।

জানতে চাইলে অধ্যক্ষ সুজাউল করীম চৌধুরী বাবুল বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী দেশকে যখন বহির্বিশ্বে একটি উন্নয়নশীল ও রোল মডেল হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে কুচক্রী মহল এই উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে দেশজুড়ে ছেলেধরাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানাভাবে গুজব সৃষ্টি করছে। এতে গত কয়েক মাসে অনেক ব্যক্তি নিহত ও আহত হয়েছে। রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। তাই নিজ উদ্যোগে আমরা রাস্তায় নেমেছি জনগণকে সচেতন করতে।

পাঠকের মন্তব্য