পরশ্রীকাতরতা ও বিশ্বাসঘাতকতা আমাদের রক্তের মধ্যে

সিবিএ সভাপতি মশিকুর রহমান

সিবিএ সভাপতি মশিকুর রহমান

“বিমান কর্মীদের বিশেষ সুযোগের আওতায় ১০ বছরে ৭০ কোটি টাকার ৪৮ হাজার টিকেট দিয়েছে বাংলাদেশ বিমান” বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিমান, সিবিএ সভাপতি মশিকুর রহমান। সোমবার ফেসবুকে পোস্ট করা এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেছেন। একইসাথে তিনি বলেছেন, যারা সপ্তাহে দুইদিন সারা রাত জেগে গড়ে ২৪ ঘন্টায় ১৫০ টি উড়োজাহাজ আকাশে উড়ায় তাদের জন্য বছরে গড়ে ১৮৫২৯ টাকা খরচ কি খুব বেশী হয়ে যায়? 

বাংলাদেশ বিমান, সিবিএ সভাপতি মশিকুর রহমান এর স্ট্যাটাসটি এখানে হুবহু দেওয়া হলো–   

“বিমান কর্মীদের বিশেষ সুযোগের আওতায় ১০ বছরে ৭০ কোটি টাকার ৪৮ হাজার টিকেট দিয়েছে বাংলাদেশ বিমান।”

বিমান সংসদীয় কমিটির একজন সন্মানিত সদস্য (আমাদের এক বিমান কর্মীর প্রিয় ভায়রা ভাই)’র জিজ্ঞাসার উত্তরে এ তথ্য দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এখবরে অনেকেরই চোখ উঠেছে কপালে। এজন্যই বিমান ডুবেছে বলে রাষ্ট্রের কর্তা জনতা টিআইবি অনেকেই ভ্রু কুচকে মন্তব্য করেছেন। পরশ্রীকাতরতায় তাদের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। সে দাহ ছড়িয়ে পড়েছে প্রিন্টিং মিডিয়া, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া বা সোস্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু প্রকৃত ঘটনাটা কি ? 

তথ্যটি বিশ্লেষনে দেখা যায়-

১) ৩৪০০ জন বিমান কর্মী ১০ বছরে ৪৮ হাজার টিকেট নিয়েছে। প্রতিজন বছরে গড়ে (৪৮০০০/ ৩৪০০জন /১০বছর ) ১.৪১টি করে টিকেট নিয়েছেন।

২)৪৮ হাজার টিকেটের মূল্য ৭০ কোটি টাকা। জনপ্রতি গড়ে বছরে খরচ হয় (৭০০০০০০০০ টাকা/৩৪০০জন/১০বছর) ২০৫৮৮ টাকা।

৩)২০৫৮৮ টাকার ১০% টাকা কর্মীরা নিজেরাই পরিশোধ করেছেন। অর্থাৎ মোট (২০৫৮৮-২০৫৮.৮ ) ১৮৫২৯.২ টাকা বছরে ব্যয় হয়েছে জন প্রতি। উল্লেখ্য শুধুমাত্র সিট খালি থাকলেই বিমান কর্মীরা এসব টিকেটে ভ্রমন করতে পারে।

তাহলে কি দাঁড়াল ?

একজন বিমান কর্মী বছরে ১.৪১ বা ২ টি টিকেট ব্যবহার করে যার বাৎসরিক মূল্য মান ১৮৫২৯ টাকা। 

যারা সপ্তাহে দুইদিন সারা রাত জেগে গড়ে ২৪ ঘন্টায় ১৫০ টি উড়োজাহাজ আকাশে উড়ায় তাদের জন্য বছরে গড়ে ১৮৫২৯ টাকা খরচ কি খুব বেশী হয়ে যায়? তাও আবার সিট খালি থাকা সাপেক্ষে।

আসলে কি জানেন ? আমরা কেউই এখন আর নিজের চেহারা আয়নায় দেখিনা। সবাই টিভি মিডিয়ায় নিজেকে দেখাতে পছন্দ করি। অন্যকে ছোট করে নিজের দাপট দেখাবার এক অশুভ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। যার মূলে রয়েছে পরশ্রীকাতরতা। বঙ্গবন্ধু তার আত্মজীবনীতে( পৃষ্টা ৪৭) লিখেছেন,” আমাদের বাঙালির মধ্য দুইটা দিক আছে। একটা হল ‘আমরা মুসলমান, আর একটা হল আমরা বাঙালি’। পরশ্রীকাতরতা এবং বিশ্বাসঘাতকতা আমাদের রক্তের মধ্যে রয়েছে। বোধহয় দুনিয়ার আর কোন ভাষায়ই এই কথাটা পাওয়া যাবেনা, ‘পরশ্রীকাতরতা’। পরের শ্রী দেখে যে কাতর হয়, তাকে ‘পরশ্রীকাতর’ বলে। ঈর্ষা, দ্বেষ সকল ভাষায়ই পাবেন, সকল জাতির মধ্যেই কিছু কিছু আছে, কিন্তু বাঙালিদের মধ্যে আছে পরশ্রীকাতরতা। ভাই, ভাইয়ের উন্নতি দেখলে খুশি হয় না। এই জন্যই বাঙালি জাতির সকল রকম গুণ থাকা সত্ত্বেও জীবনভর অন্যের অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। সুজলা সুফলা বাংলাদেশ সম্পদে ভর্তি। এমন উর্বর জমি দুনিয়ার খুব অল্প দেশেই আছে। তবুও এরা গরিব। কারণ, যুগ যুগ ধরে এরা শোষিত হয়েছে নিজের দোষে। নিজেকে এরা চেনে না, আর যতদিন চিনবে না এবং বুঝবে না ততদিন এদের মুক্তি আসবে না।”

ফেসবুক স্ট্যাটাস লিঙ্ক : সিবিএ সভাপতি মশিকুর রহমান

পাঠকের মন্তব্য