লেখিকাকে ধর্ষণ মামলায় লোটনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা 

লেখিকাকে ধর্ষণ মামলায় লোটনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা 

লেখিকাকে ধর্ষণ মামলায় লোটনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা 

ধর্ষণ মামলায় জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর সিকদার লোটনের (৫৩) বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

রোববার ঢাকার ১ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু নাসের মো. জাহাঙ্গীর এ পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে আদালত আগামী ১ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য করেন।

২৮ জুলাই আদালতে লোটনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন ঢাকার মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা। এরপর বাদীপক্ষের আইনজীবী কাজী হুমায়ুন কবির আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

গত ১১ জুলাই ওই নারীর করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, লোটন ‘সিকদার অ্যান্ড পাবলিকেশন’ ও ‘আকাশ পাবলিকেশন’ এর মালিক। বাদী একজন লেখিকা হওয়ায় আসামির সঙ্গে পরিচয় হয়। বাদী ‘সংগঠক ও সংগঠন’ বই লিখতে আসামি লোটনের সঙ্গে সহকারী লেখিকা হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে আসামির প্রতিষ্ঠান ‘আকাশ পাবলিকেশন’ থেকে প্রকাশিত ‘সময়ের আয়নায় পল্লীবন্ধু’ ছবি অ্যালবামের অঙ্গসজ্জা করেন তিনি। সে সময় কাজের জন্য বাদী আসামির সঙ্গে দেখা করতেন। তখন আসামি বাদীকে ইভটিজিং করতেন। আসামি বাবার বয়সি ভেবে বাদী বিষয়টি এড়িয়ে যেতেন। এ ছাড়া, আসামি বিভিন্ন সময় ফোনে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ম্যাসেঞ্জারে বাদীর কাছে নোংরা ছবি পাঠাতেন এবং ভিডিও কলে নোংরা প্রস্তাব দিতেন। বাদী কঠোরভাবে প্রতিবাদ করতে পারতেন না। কারণ, তাকে কাজের জন্য আসামির কাছে যেতে হতো।

মামলায় বলা হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি আসামির জন্মদিনে তার অনুরোধে রাজধানীর কোতয়ালী থানাধীন বিউটি বোর্ডিংয়ে আসেন বাদী। সেখানে জন্মদিনের কেক কাটার পর আসামি বাদীকে বাসায় পৌঁছে দেয়ার কথা বলে গাড়িতে তোলেন। পথে ড্রাইভার ও তার সহযোগীদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে ঘুরতে ঘুরতে রাজধানীর মোহাম্মাদপুর এলাকার একটি নিরিবিলি স্থানে গাড়ি থামিয়ে রাত ৯টার দিকে গাড়িতেই বাদীকে ধর্ষণ করেন এবং সে সময় মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। 

এরপর বাসায় পৌঁছে দেয়ার সময় হুমকি দেন- বিষয়টি কাউকে জানালে ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেয়া হবে। আসামি সেই ছবি ও ভিডিও দিয়ে বাদীকে ব্ল্যাকমেইল করেন। এরপর বিভিন্ন সময় আসামির পাবলিকেশন ও বিউটি বোর্ডিংয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। সর্বশেষ আসামি বাদীকে বিয়ে করার কথা বলে ডেকে এনে গত ৩০ জুন ১২টা থেকে ২টার মধ্যে বিউটি বোর্ডিংয়ের দোতলার একটি কক্ষে ধর্ষণ করেন।

পাঠকের মন্তব্য