ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক বরখাস্ত

ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক বরখাস্ত

ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক বরখাস্ত

বগুড়ার শাজাহানপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মালীপাড়া আর আর এম ইউ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুল মজিদকে (৫০) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০জুলাই) ম্যানেজিং কমিটির এক জরুরি সভায় তাকে বরখাস্ত করা হয়। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জুয়েল জায়দার সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি দৈনিকশিক্ষা ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন। 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই ১ম পিড়িয়ডে ষষ্ঠ শ্রেণির গণিত ক্লাস চলাকালীন অংক বুঝিয়ে দেয়ার কথা বলে এক ছাত্রীকে কাছে ডেকে নেন সহকারি শিক্ষক আব্দুল মজিদ। এরপর ক্লাসের মধ্যে সব শিক্ষার্থীর সামনেই ওই ছাত্রীকে হাত ধরে কাছে টেনে নিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দেন।

তখন ওই ছাত্রী কান্নাকাটি করে বিষয়টি সহকারি শিক্ষিকা সুরাইয়া আক্তারকে জানায়। শিক্ষিকা সুরাইয়া অপর শিক্ষিকা মেরিনা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অবহিত করেন।

অপরদিকে ঘটনার শিকার ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়। এ বিষয়ে যৌন হয়রানী ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার ওই ছাত্রীর মা বাদি হয়ে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এক অভিযোগপত্র দেন।

ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ম্যানেজিং কমিটির জরুরি সভা বসে। এতে অভিযোগ সম্পর্কে বাদি-বিবাদী ও স্বাক্ষীদের বক্তব্য শোনা হয়। শুনানী শেষে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সহকারি শিক্ষক আব্দুল মজিদকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি।

জানা গেছে, এর আগেও শিক্ষক আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে একাধিকবার যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় ম্যানেজিং কমিটির নিকট ভুল স্বীকার করায় তাকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছিল বলে দৈনিকশিক্ষা ডটকমকে জানান প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিন খোন্দকার।

প্রধান শিক্ষক বলেন, আব্দুল মজিদের দুশ্চরিত্রের কারণে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়দের ক্ষোভ এবং প্রাথমিক শুনানীতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি শিক্ষক আব্দুল মজিদকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

পাঠকের মন্তব্য