ন্যূনতম সান্ত্বনাটুকুও পেল না বাংলাদেশ | প্রজন্মকন্ঠ

ন্যূনতম সান্ত্বনাটুকুও পেল না বাংলাদেশ

ন্যূনতম সান্ত্বনাটুকুও পেল না বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কা সফর থেকে ন্যূনতম সান্ত্বনাটুকুও পেল না বাংলাদেশ। প্রথম দুই ওয়ানডের পর সিরিজের শেষ ম্যাচটায়ও অসহায় আত্মসমর্পণ করল টাইগাররা। বিশ্বকাপ শেষ হতেই যে সিরিজকে ধরা হয়েছিল ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্র, সেই সিরিজটা কিনা ‘লজ্জার’ অধ্যায় হয়ে যোগ হলো দেশের ক্রিকেটে। হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ।

বুধবার তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে ১২২ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। টস জিতে আগে ব্যাটে ৮ উইকেটে ২৯৪ রানের পুঁজি গড়ে শ্রীলঙ্কা। জবাব দিতে নেমে ১৪ ওভার বাকি থাকতেই মাত্র ১৭২ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ।

তারকা ক্রিকেটারদের বিদায়ের পর যে শ্রীলঙ্কার প্রায় পথ হারানোর দশা, সেই শ্রীলঙ্কা কিনা বাংলাদেশকে নামিয়ে আনল সাধারণ সারিতে। প্রথম ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে লাসিথ মালিঙ্গাকে রঙিন বিদায় দিয়েছিল স্বাগতিকেরা। আর এদিনের ম্যাচটি দলটি উৎসর্গ করল সদ্যই সব ধরনের ক্রিকেটকে বিদায় বলা নুয়ান কুলাসেকারাকে। বাংলাদেশের সব হারানোর সিরিজে কত প্রাপ্তি শ্রীলঙ্কার!

দেয়ালে পিঠ ঢেকে গেলে নাকি বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ায় প্রবল দাপটে। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এদিন সেরকম কোনো গল্পের আশাতেই ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুরাগীরা। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিম ইকবাল সদলবলে ব্যর্থ হলেন। তামিম নিজে পারলেন না ধারাবাহিক ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরোতে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বোধ হয় দল থেকে বাদ পড়ার কাজটা শ্রীলঙ্কাতেই সেরে ফেললেন। এই সিরিজে তার তিনটি ইনিংস ৩, ৬, ৯।

বোলিং কিংবা ব্যাটিং- মনের মতো কিছুই হলো না কোথাও। ২৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তাই ৮৩ রানের মধ্যে ৫ উইকেট নেই বাংলাদেশের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই তামিম ফিরে যান মাত্র ২ রান করে। এক বছর পর দেশের জার্সিতে খেলতে নেমে বিজয় ১৪ রানের বেশি করতে পারলেন না। তিনিও সেই রাজিথার শিকার।

তিনে নামা সৌম্য সরকার একমাত্র ব্যতিক্রম হয়ে থাকলেন। অন্যপাশে চলল শুধুই আসা যাওয়া। মুশফিক ১০, মোহাম্মদ মিঠুন ৪, মাহমুদউল্লাহ ৯ ও সাব্বির রহমান ৭ রানেই প্যাভিলিয়নে। মিডল অর্ডারে থেকে কিছুই পেল না বাংলাদেশ।

এর মধ্যে সৌম্য এগোতে থাকলেও তার একার ব্যাটে আসলে কখনোই জয়ের স্বপ্ন দেখতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৮৬ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৬৯ রান করে অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন তিনি আকিলা ধনঞ্জয়ার শিকার হয়ে।

এর আগে মিরাজ ফিরেছিলেন ৮ রান করে। পরে শফিউল ১ ও রুবেল হোসেন ২ রান করে ফিরতেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। তাইজুল ইসলাম অবশ্য ব্যাটসম্যানদের লজ্জা দিয়ে অপরাজিত থাকলেন ৩৯ রানে। ২৮ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান তিনি।

শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বাধিক ৩ উইকেট নেন দাসুন শানাকা। ২টি করে উইকেট নেন কাসুন রাজিথা ও লাহিরু কুমারা।

এর আগে শ্রীলঙ্কা বড় পুঁজি পায় সম্মিলিত ব্যাটিংয়ে। যেখানে সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল অ্যাঞ্জেলো ম্যথুস। ৯০ বলে ৮৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি ৮ চার ও ১ ছক্কায়। ফেরেন শেষ ওভারে। চতুর্থ উইকেটে কুশল মেন্ডিসকে নিয়ে ১০১ ও পঞ্চম উইকেটে শানাকার সঙ্গে যোগ করেন ৫২ রান।

ম্যাথুস ৫৮ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন। দিমুথ করুনারত্নে ৪৬ ও কুশল পেরেরার ব্যাট থেকে আসে ৪২ রান। শানাকা ১৪ বলে ৩০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন।

বাংলাদেশের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন শফিউল ইসলাম ও সৌম্য সরকার। ১টি করে উইকেট নেন রুবেল হোসেন ও তাইজুল ইসলাম। ম্যাচসেরা হয়েছেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস।

পাঠকের মন্তব্য