সত্য ঘটনা অবলম্বনে ছোট গল্প : 'টুনির কি অপরাধ' 

সত্য ঘটনা অবলম্বনে ছোট গল্প : 'টুনির কি অপরাধ' 

সত্য ঘটনা অবলম্বনে ছোট গল্প : 'টুনির কি অপরাধ' 

সত্য ঘটনা অবলম্বনে ছোট গল্প : 'টুনির কি অপরাধ' 

গ্রামের নাম শাহী পাড়া।
কুড়িগ্রাম জেলার ভারত বর্ডার সীমান্ত ঘেঁষা একটি গ্রাম। গ্রামটি ছিল ঘনবসতিপূর্ণ। শিক্ষার হারও ছিল অতি নগণ্য।  

সেই গ্রামে হঠাৎ একদিন আবির্ভাব হয় পাকা গোব ভর্তি দাড়ি ষাট থেকে সত্তর বয়সের একজন বৃদ্ধ লোকের। গ্রামের মাতাব্বর আবু মোল্লা'র বাড়ীর আঙ্গিনায় এসে মাতব্বর এর নিকট সাহায্যের জন্য হাত পাতে বয়স্ক ঐ লোকটি। সামনে দু'হাত গুটিয়ে দাঁড়িয়ে দেখে মাতাব্বর জিজ্ঞাসা করে- 

তোমাকে তো এই গ্রামে আগে কখনো দেখিনি ? 
বৃদ্ধ লোকটি বলল- জ্বি জনাব; আমি নছুমুদ্দিন। -যমুনা পাড়ে বাড়ী ছিল।নদী সর্বস্ব হারিয়েছি। আল্লাহ পাক এই জীবনটা-ই বাঁচিয়ে রেখেছেন। দুহাত পেতে সাহায্য যা পাই তাই খেয়ে বেঁচে আছি। 

মাতাব্বর বলল- বুঝলাম,
(নছুমুদ্দিনের পা থেকে মাথা পর্যন্ত ভাল করে তাকিয়ে দেখলেন মাতাব্বর) 

নছুমুদ্দিন আবার জিজ্ঞাসা করে- কিছু বললেন জনাব ?  
মাতাব্বর - না, ঠিক আছে। 
(তাচ্ছিল্য করে) তুমি তো আমার বয়সে বড় হবা না। আমি এখনো গায়ে খাটতে পারি হাল চাষ করি কিন্তু তুমি কেন পারো না ?  
নছুমুদ্দিন - জ্বি জনাব। হালকা কাজ করতে পারি।

মাতাব্বর - তুমি রাজি থাকলে আমি তোমার কাজের ব্যবস্থা করতে পারি।
নছুমুদ্দিন - থাকার ব্যবস্থাটা যদি হয়.... 
মাতাব্বর - সব হবে সব হবে।
 
(এই বলে মাতাব্বর বাড়ির ভেতর চলে যায় এবং কিছুক্ষণ পর সতের- আঠারো বয়সী একটি মেয়ে নছুমুদ্দিন'কে ডেকে কাচারীতে  খাবার খেতে দিয়ে যান।)

খাবার খেয়ে নছুমুদ্দিন আশ্রয়ের আশা খোঁজে। আর মনে মনে ভাবে, একটা থাকার ব্যবস্থা হলে বাঁচার আশাটুকু নিশ্চিত হয়। অবশ্য সেই রাতের সময়টুকু মাতাব্বরের কাচারীতেই কেটে যায় নছুমুদ্দিনের। 
                                        
এদিকে রাতের রাত শেষে হয় ভোর। সকাল জেগে উঠেন মাতাব্বর। নিয়মিত নামাজ পড়েন মসজিদে। মাতাব্বর নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে ফিরে এসে বাড়ির আঙ্গিনায় নছুমুদ্দিন'কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে, মাতাব্বর নছুমুদ্দিন'কে ডেকে বললেন-

- শোন নছুমুদ্দিন, আমার ঐ বাশঁ বাগানের পাশেই ছোট একটি খোলা জায়গা রয়েছে। সেখানেই থাকার জায়গা করে নাও। আর, বাড়ী-বাড়ী কাজ খুঁজে কাজ করে খাও।   

তারপর : (কিছুদিন না যেতেই সবার সাহায্য সহযোগীতায় মাতাব্বরের কথা মতই ছোট একটি ঘর উঠাতে পারলেন। অার, সেখানেই খেটে খুটে দিন শেষে পেট ভরে খেয়ে একাকীত্ব কাটাতে গভীর রাত পর্যন্ত গান গাইতে গাইতে ঘুমিয়ে পড়েন নছুমুদ্দিন। এভাবে কাটতে থাকে নছুমুদ্দিনের জিবনযাপন।
                                        
মাতাব্বর আবু মোল্লা'র চার বৌ। 

অঢেল সম্পত্তির মালিক। মাতাব্বরের চার বৌকে চারটি বাড়ী করে দিয়েছেন। মাতাব্বর তার ছোট বৌয়ের সাথে থাকেন। ছোট বৌ'য়ের ৪ মেয়ে ১ ছেলে। চার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট ছেলেটি কলেজে পড়ে। মাতাব্বর ছেলেটিকে পড়া লেখায় সুশিক্ষিত করতে চাইলেও ছেলেটি মাতাব্বরের অনেকটাই চিন্তার বিপরীত। 
ডাক নাম বাদল। বাবার কথায় কোনো তোয়াক্কা সে করে না। 

বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আড্ডা বাজি, মেয়েদের ইভটিচিং করাই তাঁর যে নিত্যদিনের কাজ।  প্রভাবশালী মাতাব্বরের ছেলে বলে বিচার শালিশ নিয়ে কেউ আসে না। ছেলের বাবা গ্রামের মাথা বলে তো কথা।

একদিন মাতাব্বর নিজের চোখেই কাজের মেয়ে আলেয়ার প্রতি ছেলে বাদলের কু-নজর দেখতে পায়। সম্মান রক্ষার্থে ছেলের দোষ গোপন করতে কাজের মেয়ে আলেয়া'কে ডেকে মাতাব্বর ভয় দেখিয়ে শাসিয়ে দেয়-

মাতাব্বর শাসিয়ে আলেয়া'কে বলেন : কখনো এ কথা প্রকাশ হলে তোকে গ্রাম ছাড়া করবো। পিঠের চামরা থাকবে না; বলে রাখলাম। 

আলেয়া আশ্রয়হীন, অসহায় এতিম। ছোট বয়সেই মা বাবা হারিয়ে দিনরাত কাজ করে বেঁচে আছে মাতাব্বরের বাড়ীতেই। তাই সব কথা নিরবে সহ্য করে যায় অালেয়া। প্রতিবাদটুকু করার সাহস তাঁর নেই।

এরি মাঝে মাতাব্বর বুদ্ধি আঁটে মেয়েটিকে বাড়ী থেকে না সড়ালে বেপরোয়া ছেলেটি দ্বারা বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটতে পারে।  মাতাব্বরের ছোট বৌ'য়ের সাথে ব্যাপারটি নিয়ে সলাপরামর্শ করতে গেলে মাতাব্বরের ছোট বৌ মাতাব্বর'কে বলেন- 

ঐ লোকটা অর্থ্যাৎ নছুমুদ্দিন এর সাথে ওকে বিয়ে দিয়ে দিলে কেমন হয় ? তাতে তো মনে হয়, সমস্যাটাও দূর হবে আর আলেয়া'কেও তাড়াতে হয় না। কাজের মেয়ে পাওয়াটা আজকাল খুব মুসকিল।

মাতাব্বর ও মাতাব্বরের ছোট বৌ সলা পরামর্শ করে এই সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করে বসে। এবং মাতাব্বর বলেই বসে, আগামী শুক্রবারই ওদের বিয়ে হবে। যে কথা সেই কাজ। মাতাব্বরের সাথে একপর্যায় গ্রামের অন্যান্য লোকজনও মাতাব্বরের কথায় সাই দিয়ে যায়। এবং বিয়েতে বাধ্য করে আঠারো বয়সী যুবতী আলেয়া ও বৃদ্ধ নছুমুদ্দিন'কে।

বিয়ের সময় নছুমুদ্দিনের হাতে কোনো সঞ্চয় ছিল না। এতিম আলেয়ার বিয়েতে গ্রামের উৎসুক গ্রামবাসীরা নিজেরাই চাঁদা তুলে হাজার পাঁচেক টাকা এই দম্পতির হাতে কুলে দেয় মাতাব্বর সহ গ্রামবাসী। 

এই নিয়ে তাদের শুরু হয় এতিম আলেয়া আর নছুমুদ্দিনের নতুন দাম্পত্য জিবন। প্রথম দিকে আলেয়া স্বামী হিসাবে বৃদ্ধ নছুমুদ্দিন'কে মেনে নিতে না পারলেও একটা সময় মেনে নিতে হয় আলেয়া'কে। নছুমুদ্দিন বাড়ী বাড়ী কৃষি কাজ করে আর আলেয়া মাতাব্বরের বাড়ীতেই কাজ করতে থাকে। এভাবে চলতে থাকে তাদের সংসার জিবন।                    

দুই বছর পর... 

আলেয়া-নছিমুদ্দিনের ঘরে একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। 
নাম রাখে তাঁর "টুনি"। 
দেখতে দেখতে টুনির বয়স যখন ছয় কোঠায় । হঠাৎ একদিন নছুমুদ্দিন গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়ে। চলাচলের অক্ষম তাই কাজ করতে পারে না বৃদ্ধ নছুমুদ্দিন।

অসুস্থ স্বামী'কে দেখাশুনা করতে গিয়ে আলেয়া নিজেও একটা সময় মাতাব্বরের বাড়ীতে অনিয়মিত হয়ে পড়ে। আলেয়ার একার পক্ষে সংসারের খরচ, অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা, মেয়ের ভরনপোষন অসম্ভব হয়ে পড়ে।

গ্রামবাসীর কাছে সাহায্য কামনা করেও সাড়া পায়নি আলেয়া। হতভাগী আলেয়া বড় দুর্শ্চিন্তায় পড়ে যায়; এই বিপদমুহুর্তে কি করবে কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছে না।
আর, তখনি আলেয়ার অসহায়ত্বের সুযোগ নিতে অসৎ উদ্দ্যেশে হাত বাড়িয়ে দিতে চায় মাতাব্বরের ছেলে বাদল।

সময়টা ছিল ঠিক "ঈদ-উল-আযহা" কোরবানি ঈদের দুদিন আগে। 
আলেয়াকে মাতাব্বরের ছেলে লম্পট বাদলের কু-প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায়, রাতের অন্ধকারে অসহায় আলেয়ার ঘরে মাতাব্বরের ছেলে বাদল তারঁই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু'কে ঢুকিয়ে দেয়। 

আলেয়া রাতের অন্ধকারের ভিতর পর-পুরুষের ইঙ্গিত পেয়ে একপর্যায় চিৎকার করলে এলাকার লোকজনের মধ্যে জানাজানি হয়ে যায়। গ্রামটিতে হৈচৈ পড়ে যায়; কে বা কারা আলেয়ার ঘরে ঢুকেছিল... ! 

সকাল থেকেই গ্রামবাসীর মুখে মুখে আলেয়া'কে ঘিরে যত ইয়া-ইয়া, ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ রব পড়ে যায়।

গ্রামবাসীর সবাই বিশ্বাসে সহিত ভাবতে থাকে আলেয়া অসুস্থ স্বামীর সুযোগ নিয়ে মেয়েটি এই জঘন্যতা করতে পারলো ? ছিঃ ছিঃ ছিঃ। 

ঠিক তাঁর পরের দিন-ই মাতাব্বর এলাকার সামাজিক বৈঠকে ঘোষনা দেয় "আলেয়া নষ্টা" !! সাথে সাথে এও আলেয়া'কে বলে দেওয়া হয়- আগামী একমাসের মধ্যেই তাদের এই গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হবে। শুধু তাই নয়, গ্রাম থেকে কেউ কোনো প্রকার আলেয়া'কে সাহায্য সহযোগিতা করতে পারবে না। মাতাব্বরের নির্দেশ গ্রামবাসী সেটাই মেনে নেয়। 

মাতাব্বরের সর্বশেষ বিচারের রায় - আজ থেকে আলেয়া "সমাজ বন্ধক"।

উপস্থিত আলেয়া গ্রামবাসীর অন্যায়ের কাঠগড়ায় চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকে, এ অন্যায় এ অন্যায় এ অন্যায়....  

আমি কোনো পাপ করিনি; আমাকে এ শাস্তি দিবেন না...। দোহাই লাগে। আমার প্রতি আপনারা অবিচার করবেন না। 

সেসময় চারদিকটা আকাশ বাতাস আলেয়ার আর্তনাদে কেঁপে উঠলেও তবু নিষ্ঠুর গ্রামবাসীর এতোটুকুও মায়া হয়নি; সেদিন তাতে গ্রামবাসীর কাহারো কিছুই যায় আসেনি। আলেয়ার অসহায়ত্ব আর্তনাদ কেউ শোনেনি সেদিন।
 
আলেয়া সমাজের অবিচারে মর্মাহত হয়ে ফিরে যায় আপন ঘরে। অসুস্থ স্বামী পাশ্বে বসে ছোট মেয়ে টুনিকে জড়িয়ে ধরে আবারো চিৎকার....বিলাপ করতে থাকে আলেয়া। 
                                 
পরদিন সকালেই পবিত্র ঈদ-উল-আযহা । কোরবানির ঈদ। চারদিক সবার আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। আশেপাশের সব খেলার সাথীদের মত অসহায় আলেয়ার ছোট মেয়ে টুনিরও মনে প্রানে সেই ঈদের স্বপ্ন বাঁধছে ।... নতুন জামা, ঈদ উৎযাপন.. ছুটোছুটি দৌড়াদৌড়ি আরো কত কি !  
 
টুনি বলে- মা, মা, আমাকে তুমি নতুন জামা কিনে দিবানা ?   কাল খেলার বন্ধুরা পায়েল, রুবি, তমাল, কামাল ওদের সাথে আমিও ঈদগাহে যাবো মা...। 

টুনির মা আলেয়ার কোনো জবাব নেই। নিশ্চুপ দেখেছে আবারো ডাকে টুনি.. 
মা, মা ওমা কথা বলো না...  

অসহায় মা আলেয়া কিছুই বলে না।

নিরবেই অসুস্থ স্বামীর পাশে বসে কাঁদতে থাকে আলেয়া। একটা সময় মিছে সান্তনা দিয়ে মেয়ে টুনিকে ঘুম পাড়িয়ে দেয় আলেয়া। রাত গভীর মেয়ে ঘুমিয়ে যায়, আলেয়া ঘুমাতে পারে না। আলেয়া কাঁদে আর ভাবে কাল সকালে কি করবো.. মেয়েকে কি দিয়ে বুঝাবো ? ভাবতে ভাবতে নিস্তেজ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে আলেয়াও। 
                        
নতুন সকাল সূর্যের আলো ঝলমল করে উঠেছে। 
সে তো সবার জন্য হলেও আলেয়ার জন্য নয়। এই ঝলমলের সকালটাই আলেয়ার জন্য যত আত্মসম্মানের, ভয়ের, আতংকের, লজ্জার।

এদিকে ঘরে খাবার নেই, অসুস্থ স্বামী'কে অনাহারে রাখতে হয়েছে। সমাজের নিকট এখন আলেয়া পাপী ও নষ্টা। কোনো প্রকার সাহায্যটুকুও করবে না আর কেহ । 
কোথায় যাবো ? কি করবো ? আলেয়া কিছুতেই কোন কিছু স্থির করতে পারছে না।

ছোট মেয়ে টুনি ঘুম থেকে জেগেই করে বসবে নতুন জামার বায়না। সারা ঘর জুড়ে একটি টাকাও নেই।  
কি করবে আলেয়া...? 

মা আলেয়া সেই কথা ভাবতে ভাবতেই - টুনি জেগে উঠে এবং মায়ের নিকট আবারও ডাক মা, মা, মা... 
নিরুপায় মা আলেয়া, আলেয়া বুকে মাথা গুজে গুমরে গুমরে কাঁদছে, আশাহত ছোট মেয়ে টুনি। কিন্তু মা যে কত অসহায় টুনি তো তা জানে না, বোঝে না।

সকালের টুনির ঈদে যাওয়ার আনন্দ মাটির সাথে মিশে গেলেও একটি সময় ঈদের নামাজ শেষে দলে দলে ঘরে ফিরছে পাড়া - প্রতিবেশীরা। চারদিকে শুরু হয় পশু কোরবানির আয়োজন। একটা সময় মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে টুনি তাই দেখতে যায়।

মাঠের এক কোণে টুনি চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে দেখে সেই কোরবানির উৎসব। এরিমধ্যে কোরবানির শেষে কোরবানির পশুর মাংস গ্রাম সমাজের মাঝে ভাগবাটোয়ারা শুরু। দূর থেকে টুনিও আশায় বুক বাঁধে। আর, একটি সময়ের অপেক্ষারই প্রহর গুণতে থাকে-

আজ মাংস খাবো; কি মজা হবে। ইতিমধ্যে টুনি ভুলে গেছে সকালের নতুন জামার বায়নাও। কিন্তু টুনি তো জানে না সমাজের মানুষগুলো কতটা নিষ্ঠুর । 
  
দেখতে দেখতে একটা সময় সমাজের কোরবানি পশুর মাংসের সকল বন্টন শেষে; সবাই চলে যাচ্ছে নিজ নিজ বাড়ীতে। কিন্তু সবাই মুখ ফিরিয়ে নিলো ছোট শিশুটি টুনির অপলক দৃষ্টি থেকে। শেষ পর্যন্ত একটুকরো পশুর মাংসও জুটলো না  টুনির ভাগ্যে ! হায়রে সমাজ ! 

আশাহত টুনি নিরাশ হয়ে একা একা কাঁদতে কাঁদতে রওনা হয় আবারো সেই দুঃখিনী মায়ের কাছেই। 

লেখক : এম, আর টিপু 
রচনাকাল : ১৯৯৭ সাল। 

পাঠকের মন্তব্য