বলিউডের শীর্ষ ১০ অভিনেতা-অভিনেত্রীর অঢেল সম্পদের উৎস 

বলিউডের শীর্ষ ১০ অভিনেতা-অভিনেত্রী

বলিউডের শীর্ষ ১০ অভিনেতা-অভিনেত্রী

বলিউডের অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী নিজ নিজ জায়গায় সুনাম অর্জন করেছেন। ভারতের কোটি কোটি দর্শকের মনে স্থান করেছেন তাদের অভিনয়ের মাধ্যমে। আবার কেউ কেউ এই অভিনয়ের মাধ্যমে অঢেল সম্পদ অজর্ন করেছেন। তবে, শুধু অভিনয়ের পারিশ্রমিক দিয়ে শীর্ষ ধনীর তালিকায় যেতে পারেননি কেউই। অভিনয়ের পাশাপাশি সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এমন শীর্ষ ১০ বলিউড অভিনেতা-অভিনেত্রীর কথা তুলে ধরা হলো ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের অনলাইনে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন থেকে তাদের আয়ের উৎস তুলে ধরা হলো-

শাহরুখ খান-

শাহরুখ খান নিজেকে বলিউডে কিংখান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শুধু ভারতেই নয়, এশিয়ার অন্যান্য অনেক দেশেই শাহরুখ খানের রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন দর্শকদের। সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক নেওয়া অভিনেতাও তিনি। সুপারস্টার সিনেমা দিওনার মাধ্যমেই ক্যারিয়ার শুরু করেন জনপ্রিয় অভিনেতা। কিন্তু শুধু সিনেমায় অভিনয় করেই এই বিপুল সম্পদের মালিক হননি তিনি।

তিনি নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন এসআরকে ব্র্যান্ড। এই ব্র্যান্ড থেকেই প্রতিবছর মুনাফা পান মিলিয়ন ডলার। প্রতিষ্ঠা করেছেন রেড চিলি ইন্টাটেইনমেন্ট প্রোডাক্টশন হাউস। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি মিলিয়ন মিলিয়ন আয় করছেন। এই প্রতিষ্ঠানের তিনি কো-চেয়ারম্যান।

শাহরুখ খানের আয়ের বড় একটা অংশ আসে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে। আর বলিউডের শীর্ষ ধনীদের অন্যতম এই ব্যক্তি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন সবার কাছেই।

শিল্পা শেঠি-

বলিউডের সুন্দরী নায়িকাদের মধ্যে অন্যতম শিল্পা শেঠী। সমান তালে অভিনয় করে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন একের পর এক সুপারস্টার ছবি। কোটি ভক্তের বুকে স্থান করে নিয়েছেন। বলিউডের শীর্ষ আয়ের তারকাদের মধ্যে অন্যতম তিনি। আর এই বিপুল সম্পদ শুধু অভিনয় দিয়ে অর্জন করেননি।

একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। ১৯৯৩ সালে সুপারস্টার সিনেমা বাজিকরের মাধ্যমেই সিনেমা জগতে আসেন তিনি। এসেই একের পর এক ব্যবসা সফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন।

২০০৯ সালের ভারতের অন্যতম ব্যবসায়ী রাজ কুন্দের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। আর ২০০৯ সালেই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) রাজস্থান রয়েল দলের মালিকানার অংশীদার হন। এছাড়াও তিনি প্রোডাক্টশন হাউজ চালু করেন। যদিও এ ব্যবসায় তার প্রতিষ্ঠান তেমন সুবিধা করতে পারেননি।

এছাড়া তিনি ইন্ডিয়ান চেইন অ্যান্ড স্প্যার অংশীদার। এর পাশাপাশি টেলিভিশনে বেশ কিছু জনপ্রিয় অনুষ্ঠান করেন তিনি। অভিনেত্রী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন শিল্পা শেঠি। তাই বলা যায়- তার আয়ের বড় একটা অংশ আসে নিজস্ব ব্যবসা থেকে।

সুনীল শেঠি-

১৯৯৪ ক্যারিয়ার শুরু করেন একজন অ্যাকশন নায়ক হিসেবে। একের পর এক ব্যবসা সফল সিনেমা উপহার দেন। একজন ব্যবসায়ী হিসেবেও তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। গড়ে তুলেছেন পপকন ইন্টারটেইন্টম্যান্ট প্রোডাক্টশন হাউজ। এই প্রোডাক্টশন হাউজের মাধ্যমে তৈরি করেছেন খেল, রাতের মতো ব্যবসা সফল সিনেমাগুলো।

এই প্রোডাক্টশন হাউজ ব্যবসার পাশাপাশি মুম্বাইতে গড়ে তুলেছেন রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। এই ব্যবসাতেও তিনি সফলতা পেয়েছেন। এই অভিনেতা অভিনয়ে যেমন সাফল্য পেয়েছেন উদ্যোক্তা হিসেবেও পেয়েছেন সফলতা। বলিউডের শীর্ষ অভিনেতা অভিনেত্রীদের তালিকায় তাকে নিয়ে এসছে অভিয়নের আয় ও ব্যবসার আয়ের মাধ্যমে।

টুয়েংকেল খান্না

সুপার স্টার অক্ষয় কুমারের স্ত্রী টুয়েংকেল খান্না। তার স্বামীর পরিচয়ে বিখ্যাত নন। তিনি নিজে অভিনয়ে যেমন সাফল্য পেয়েছেন। তার চেয়ে বেশি সফল ব্যবসায়ী হিসেবে। টুয়েংকেল খান্না ২০০১ সালে অক্ষয় কুমারকে বিয়ে করার আগ পর্যন্ত অভিনয় ভালোভাবেই করে যান। কিন্তু বিয়ের পর তার স্বামীর ব্যবসার অংশীদার হিসেবে কাজ শুরু করেন। তার স্বামীর ক্যান্ডেল ব্যবসায় মনোযোগী হন। আর এই ক্যান্ডেল ব্যবসা শুধু ভারতেই নয় এর বিস্তার আরও বেশ কয়েকটি দেশব্যাপী।

এছাড়াও তিনি প্রোডাক্টশন ব্যবসাতেও সফল। গড়ে তুলেছেন প্রোডাক্টশন হাউজ। এই প্রোডাক্টশন হাউজ থেকে বেশ কিছু ব্যবসা সফল সিনেমা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি নিজেকে একজন লেখক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০১৫ সালে নারী লেখক হিসেবে তার একটি বই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। তার আয়ের উৎস মুলত অভিয়ন, ব্যবসা ও লেখালেখি।

অজয় দেবগন

অজয় দেবগন ভারতের একজন জনপ্রিয় নায়ক। রোমান্টিক, অ্যাকশন সব ধরনের নায়কের খেতাব রয়েছে তার। তার ভক্তের সংখ্যা দিনের পর দিন বেড়েই যাচ্ছে। তিনি অভিনেতা হিসেবে সফল। একের পর এক সুপারস্টার সিনেমা উপহার দিয়েছেন দর্শকদের। তিনি অভিনয় দিয়ে প্রচুর আয় করেছেন।

এর পাশাপাশি তিনি নিজেকে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি গুজরাটের চাঙ্কারা সোলার প্রজেক্টের একজন উদ্যোক্তা। অজয় রোহা গ্রুপের একজন বড় উদ্যোক্তা। এছাড়াও তার একটা নিজস্ব প্রোডাক্টশন হাউজ রয়েছে। অজয় দেবগন ফিলমস‌ নামের প্রোডাক্টশন হাউজের মাধ্যমে তিনি বেশ কিছু ব্যবসা সফল ছবি তৈরি করেছেন। অজয় দেবগনের স্ত্রী কাজলও একজন সফল অভিনেত্রী।

সুস্মিতা সেন-

সুস্মিতা সেন বলিউডের একজন সফল অভিনেত্রী। যিনি মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্ব সুন্দরীর খেতাব অর্জন করেন। ১৯৯৬ সালে দস্তক সিনেমার মাধ্যমেই তার হিন্দি সিনেমায় অভিষেক হয়। এরপর একের পর এক সফল সিনেমা উপহার দেন তিনি। বিশ্ব সুন্দরী হিসেবে তার সুনাম তিনি রক্ষা করে অভিনয় করে যান।

এই অভিয়নের পাশাপাশি গড়ে তুলে প্রোডাক্টশন হাউজ। ট্যান্টটেরা ইন্টারটেইন্টমেন্ট প্রোডাক্টশন হাউজের মাধ্যমে তৈরি করেছেন ভিন্ন ধরনের সিনেমা। যা ইতোমধ্যে বেশ সাফল্য পেয়েছে। তিনি ব্যবসায়ী হিসেবে সফল। তার আয়ের বড় একটা অংশ আসে ব্যবসা থেকেই।

জন আব্রাহাম-

জন আব্রাহাম ক্যারিয়ার শুরু করেন মডেল হিসেবে। ২০০৩ সালে সিনেমায় আসেন। আর সিনেমায় এসেই বাজিমাত করেন। একের পর এক সফল সিনেমা উপহার দেন। তিনি হাউজ ফুল, রেস-২ এর মতো জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দেন বলিউডপ্রেমীদের।

সিমেনায় অভিনয়ের পাশাপাশি গড়ে তুলেন প্রোডাক্টশন হাউজ জেএ ইন্টারটেইন্টম্যান্ট। এই প্রোডাক্টশন হাউজের মাধ্যমে যেমন সুনাম অর্জন করেছেন। তেমনি তিনি এই ব্যবসা থেকে আয়ও করছেন।

বলিউডের শীর্ষ আয়ের ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি অভিনয় ও ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

কারিশমা কাপুর-

কারিশমা কাপুর নব্বই-এর দশকে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক নেওয়া ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তাকে সিনেমায় নেওয়ার জন্য ব্যস্ত থাকতো প্রযোজক-পরিচালকরা ওই সময়ে। তার সিনেমা মানেই হিট। জিগর, আনারি, রাজা বাবুর মতো জনপ্রিয় সিনেমা করেছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে তিনি শেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে পুরস্কার পান রাজা বাবু ছবিতে অভিনয় করার জন্য। এই সিনেমোয় তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন আমির খান।

কারিশমা কাপুর যখন তার ক্যারিয়ারের শীর্ষে তখন সিদ্ধান্ত নিলের বিয়ে করবেন। আর ২০০৩ সালে ভারতের ব্যবসায়ী সঞ্জয় কাপুরকে বিয়ে করলেন। তার বিয়ের খবরে লাখ লাখ ভক্তের হৃদয় ভেঙে যায়। পরে অবশ্য তার স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ ঘটে। আর ২০১৬ সালে তিনি ব্যবসা শুরু করেন। তিনি বেবি অ্যান্ড মাদার কেয়ার প্রোডাক্টস নিয়ে অনলাইন ব্যবসা করছেন। তার সম্পদের বড় একটা অংশ আসে এই ব্যবসা থেকে।

অর্জুন রামপাল

অর্জুন রামপুল ক্যারিয়ার শুরু করেন মডেল হিসেবে। পরে অবশ্য তিনি সিনেমায় নায়ক হিসেবে আসেন। আর রোমান্টিক নায়ক হিসেবে বেশ সাফল্য পান তিনি। একের পর এক রোমান্টিক সিনেমা উপহার দেন তার ভক্তদের। তবে, ওম শান্তি সিনেমায় সিনেমায় তিনি খল চরিত্রে অভিনয় করেন।

এই অভিনেতা অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসা করেন। দিল্লিতে ল্যাপ নামে একটি বিখ্যাত বার রয়েছে তার। এ বার দিল্লিতে বেশ পরিচিত ও জনপ্রিয়। এই ল্যাপ রেস্টুরেন্স অ্যান্ড বারের আসবাবপত্রের পরিকল্পনা করেন নায়ক শাহরুখ খানের স্ত্রী গৌরি খান। এছাড়াও তার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর ব্যবসাও রয়েছে। তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছে অভিনয়-ব্যবসা দিয়ে।

লারা দত্ত-

ভারতের হয়ে সুস্মিতা সেনের পরই বিশ্ব সুন্দরীর খেতাব পান লারা দত্ত। ২০০০ সালে তিনি তিনি মিস ইউনির্ভাসের খেতাব পান। তিনি ভারতের আরেকজন বিশ্ব সুন্দরী প্রিয়াংকা চুপড়ার সাথে ২০০৩ সালে প্রথম সিনেমা শুরু করেন। এই সিনেমায় তাদের সাথে অভিনয় করেন সুপারস্টার অক্ষয় কুমার। প্রথম সিনেমাতেই তিনি বাজিমাত করেন। পেয়ে যান বেস্ট ফেমেল উইমেন অ্যাওয়ার্ড। এর পরেই একের পর এক ব্যবসা সফল সিনেমা উপহার দিতে থাকেন। নো এন্টি, হাউজ ফুলের মতো ব্যবসা সফল সিনেমা উপহার দেন তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি লারা দত্ত প্রোডাক্টশন হাউজের ব্যবসার সাথে জড়িয়ে যান। তার প্রোডাক্টশন হাউজ থেকে বেশ কয়েকটি ব্যবসা সফল সিনেমা উপহারও দেয়। এছাড়াও তিনি শাড়ি ব্যবসাও খুলেছেন।

পাঠকের মন্তব্য