ভালোবেসে বিয়ে করা সেই তুষার দাস জামিনে মুক্ত 

ভালোবেসে বিয়ে করা সেই তুষার দাসের জামিনে মুক্ত 

ভালোবেসে বিয়ে করা সেই তুষার দাসের জামিনে মুক্ত 

ভালোবেসে বিয়ে করা সেই তুষার দাস জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার ৬দিন পর গতকাল বুধবার (৭ আগস্ট) গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন তুষার। এ সময় স্ত্রী সুষ্মিতা দেব নাথ অদিতি ও বাবা রঞ্জিত দাস উপস্থিত ছিলেন।

কারামুক্তির পর মোবাইল ফোনে তুষার দাস বলেছেন, ‘আমি খুশি। আমার স্ত্রী আইনি লড়াই করে আমাকে মুক্ত করেছে। আমাদের ভালোবাসার জয় হয়েছে। আজ আমার ভালোবাসা স্বার্থক।’

গত ১ আগস্ট হরিজন বর্ণের তুষার দাস হাইকোর্টে জামিন পান। একইসঙ্গে আদালত তার ২০ হাজার অর্থদণ্ড স্থগিত করেন। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ তাকে জামিন দেন।

ওইদিন শুনানিতে হাইকোর্ট বলেন, ‘এক দিকে আইন আর এক দিকে আমাদের সামাজিক বাস্তবতা। যদিও আইনে উঁচু-নিচু বর্ণে বিয়েতে কোন বাধা নেই। কিন্তু মেয়ের পরিবারের সামাজিক বাস্তবতাটাও ভাবতে হয়।  কারণ, আমাদের সমাজে অনেক সময় এরকম ক্ষেত্রে মেয়ের পরিবারকে একঘরে করা হয়।’

হরিজন বর্ণের তুষারের সঙ্গে সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি ব্রাহ্মণ অদিতির পরিবার। ভালোবেসে গাঁটছড়া বাঁধার পরেও তুষারের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা ঠুকেছিলেন অদিতির মা।

২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর তুষার দাস ও সুষ্মিতা দেবনাথ অদিতি বিয়ে করেন। শুরু থেকেই এই বিয়ে মেনে নিতে পারেনি সুস্মিতার পরিবার। দুইদিন পর অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন অদিতির মা। মামলার জবানবন্দিতে অদিতি তাকে অপহরণ করা হয়নি বরং তারা ভালোবেসে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেন।

মামলার পর আদালত সুষ্মিতাকে সেফ হোমে, আর তুষারকে পাঠায় কারাগারে। পরে বয়স বিবেচনায় শরিয়তপুরের কিশোর আদালত তুষারকে জামিন এবং সুম্মিতা সেফ হোম থেকে নিজ জিম্মায় দেন। মামলাটি পাঠিয়ে দেয়া হয় শরিয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে।

মামলার শুনানি করে শরিয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা জজ আ. ছালাম খান তুষারকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপরই তুষারকে নেওয়া হয় কারাগারে। পরবর্তীতে এই সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তুষার। এরপর থেকেই স্বামীকে কারামুক্ত করতে তিন মাসের শিশু সন্তানকে নিয়ে হাইকোর্টে আসেন সুষ্মিতা।

আদালতে তুষারের জামিনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শিশির মনির ও মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসাইন।

পাঠকের মন্তব্য