বিশ্বস্ত সচিবকে কেন চাকুরিচ্যুত করেছিলেন বেগম জিয়া ?

বেগম জিয়া

বেগম জিয়া

ফেসবুক স্ট্যাটাস : ৩রা জুন ২০০৪ । বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী । প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব এ এইচ এম নূরুল ইসলাম অফিসে গেলেন । অফিসে যাবার সঙ্গে সঙ্গেই ডাক পেলেন প্রধানমন্ত্রীর । প্রধানমন্ত্রী সাধারণত এত সকালে কার্যালয়ে আসেন না । একটু অবাকই হলেন তিনি । ছুটে গেলেন প্রধানমন্ত্রীর কক্ষে । কক্ষে ঢুকেই যেন বোমা ফেটে উঠল, বেগম জিয়া চিৎকার করে বললেন, ‘তোমার এত বড় সাহস, তুমি তারেকের বিরুদ্ধে তদন্ত করাও । তোমাকে আর আমি বাঁচাতে পারলাম না । এক্ষুণি তুমি অফিস থেকে বেরিয়ে যাও ।'

এ এইচ এম নূরুল ইসলাম তো অবাক । তিনি ঘটনা ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করলেন । বেগম জিয়া রুদ্রমূর্তি । রীতিমতো বের করে দিলেন তাঁর সচিবকে । বেচারা প্রধানমন্ত্রীর কক্ষ থেকে বেরিয়ে সোজা চলে গেলেন বাসায় । সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁর এক বন্ধু সচিব তাঁকে ফোন করে জানাল, মহামান্য রাষ্ট্রপতি তাঁর বাধ্যতামূলক অবসর সংক্রান্ত ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন । এর আধ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর বাসভবন ঘিরে ফেলল বিপুল পরিমাণ পুলিশ । অভিযোগ হলো, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গোপন কাগজপত্র তিনি সরিয়ে এনেছেন । নূরুল ইসলাম বোঝালেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যলয়ের কোনো নথি বাড়িতে আনার সুযোগ নেই । এগুলো স্ক্যান করে হার্ডডিস্কে রাখা হয়। তারপরও তাঁরা তল্লাশি চালাল । বেশ কিছুক্ষণ তল্লাশি চালিয়ে কিছু না পেয়ে তাঁরা চলে গেল । তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি তথ্য ফাঁসের মামলাও করা হলো ।

এ এইচ এম নূরুল ইসলাম, ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ছিলেন । ১৯৯৪ সাল থেকে ৯৬ পর্যন্ত তিনি ফেনীর জেলা প্রশাসক ছিলেন । ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাঁকে একান্ত সচিব করা হয় । পরে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন । দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি প্রধানমন্ত্রীর বড় ছেলে তারেকের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ পেতে থাকেন । এর মধ্যে টেলিটকের যন্ত্রপাতি ক্রয় সংক্রান্ত টেন্ডারে একটি পার্টির জন্য তদবির করছিলেন কোকো । টেন্ডারে ওই প্রতিষ্ঠানটি তৃতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা হয় । তাদের মূল্য ছিল টেলিটকের প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়েও বেশি । তখন সরকারি ক্রয় কমিটি প্রাক্কলিত মূল্য বাড়ায় । দুই বার ক্রয় কমিটি তৃতীয় দরদাতার প্রস্তাব নাকচ করে দেয় । এসময় বেগম জিয়া খুবই উদ্বিগ্ন হন । তৃতীয়বার ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে যেকোনো মূল্যে কোকোর পছন্দের কোম্পানিকে কাজ দিতে বলেন । তৃতীয় বৈঠকে ১০ সদস্যের কমিটিতে শুধু সাইফুর রহমান এবং ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন উপস্থিত থেকে কোকোর প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন দেয় । অন্যরা ভবিষ্যতের মামলার ভয়ে বৈঠকেই উপস্থিত হননি । এই বৈঠকের সার সংক্ষেপ আসে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য । প্রধানমন্ত্রীর সচিব হিসেবে নূরুল ইসলাম একটি নোট দেন । নোটে তিনি ভবিষ্যতে এ নিয়ে মামলার আশঙ্কা করেন । পরে বেগম জিয়া, সচিবকে ডেকে ক্ষুব্ধ কন্ঠে বলেন,’ আমার বিরুদ্ধে কে মামলা করবে ?’ তিনি হারিছ চৌধুরীকে নির্দেশ দেন ওই নোট ছিড়ে ফেলতে ।’ এখান থেকেই বিরোধের সূত্রপাত ।

৪ এপ্রিল ২০০৪ সালে প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অন্তত ৫০টি দুর্নীতির অভিযোগ আসে । এর মধ্যে একটি ছিল চীন সরকারের ঋণের হাজার কোটি টাকা লুটপাট । এ ধরনের অভিযোগ নিস্পত্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সুনির্দিষ্ট নিয়ম আছে । এজন্য একজন পরিচালক দায়িত্বপ্রাপ্ত । ওই পরিচালক অভিযোগ গুলোর ব্যাপারে করণীয় জানতে সচিবের দারস্থ হন । সচিব তাঁকে অভিযোগ গুলোর ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের মতামত জানার নির্দেশ দেন । ২০ এপ্রিল ২০০৪ সালে ওই কর্মকর্তা ৪ টি মন্ত্রণালয়ে তারেক জিয়ার দুর্নীতির অভিযোগ সংক্রান্ত চিঠির ব্যাপারে মতামত চেয়ে চিঠি দেন । এটা অভিযোগ নিস্পত্তির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া । কিন্তু বেগম জিয়া তাঁর ছেলেদের দুর্নীতির ব্যাপারে এতই উদার ছিলেন যে, তিনি তাঁর বিশ্বস্ত সচিবকেও কোরবানি দেন ।

ফেসবুক স্ট্যাটাস লিঙ্ক : চৌধুরী মোঃ আল- তাজির

পাঠকের মন্তব্য