ছুটির দিনেও কর্মব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রায় তিন সপ্তাহের সরকারি সফর শেষে ছুটির দিনেও দলের নেতা ও মন্ত্রী ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে কর্মব্যস্ত সময় পার করলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এসময় তিনি দলীয় নেতা ও মন্ত্রীদের কিছু বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তিনি।

শনিবার (১০ আগস্ট) গণভবনে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তাদের বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি দলের বেশ কয়েকজন নেতাদের নিয়েও বৈঠক করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব আশরাফুল আলম খোকন এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘ছুটির দিনেও অত্যন্ত কর্মব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সকাল ১০টায় গণভবনের অফিস কক্ষে আসেন। বেলা ৩টা পর্যন্ত তিনি অফিস করেন।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। প্রধানমন্ত্রী সড়ক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে মন্ত্রীর কাছ থেকে খোঁজ-খবর নেন এবং ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও সহজ করতে মন্ত্রীকে নির্দেশনা দেন। এছাড়াও ওবায়দুল কাদের আসন্ন ঈদুল আজহায় নোয়াখালীর নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করতে যাবেন বলে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে বিষয়টি অবহিত করেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি এসময় ওবায়দুল কাদেরকে ঈদে বাড়ি গিয়ে দ্রুত ফিরে আসার আহ্বান জানান এবং স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখার কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সম্প্রতি ভারত সফর থেকে ফেরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার সফরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী ঈদ জামাত ও কোরবানি যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন স্বাভাবিক থাকে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

শেখ হাসিনার সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসার সার্বিক বিষয়ে মন্ত্রীকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন।

গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও বৈঠক করেছেন তাঁর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুন, যুগ্ম-সাধাররণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবীর নানক, অসীম কুমার উকিল প্রমুখ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী ২০ জুলাই লন্ডনে ইউরোপে বাংলাদেশের দূতদের নিয়ে একটি সম্মেলনে যোগ দেন। এছাড়াও লন্ডনে কমনওয়েলথ মহাসচিব পেট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড এবং লর্ড আহমেদ অব উইম্বলডন আলাদাভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ২২ জুলাই লন্ডনের একটি হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর বাম চোখে সফল অস্ত্রোপচার হয় প্রধানমন্ত্রীর। গত বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরেন।

পাঠকের মন্তব্য