প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাতে দুর্ঘটনা কলকাতায়, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

বৃষ্টিকে ও বজ্রপাত

বৃষ্টিকে ও বজ্রপাত

বৃষ্টিকে ও বজ্রপাতের জেরে একের পর এক দুর্ঘটনা কলকাতায়। শুক্রবার ভিক্টোরিয়া চত্বরে বাজ পড়ে মৃত্যু হয় এক ব্যক্তির। এরপর বাঙুর হাসপাতালে মারা যান এক মহিলা। শনিবার সকাল থেকেও কলকাতা ও জেলা থেকে একাধিক মৃত্যুর খবর আসতে শুরু করেছে। বৃষ্টির জেরে ঘটছে একের পর এক পথদুর্ঘটনাও।

শুক্রবার রাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। নাম শুভজিৎ নস্কর। বোনকে নিয়ে যখন সোনারপুর বৈকন্ঠপুর খিরিস তলার কাছে পাড়া রাস্তা দিয়ে ফিরছিলেন সেই সময় বিদ্যুতের তারে হাত লেগে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। তাঁকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। এছাড়া একবালপুরে রাজা মল্লিক নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যুতের তার ছুঁয়ে ফেলার ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এছাড়া জেলা থেকেও একাধিক মৃত্যুর খবর এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ওই যুবকের বোন প্রথমে জলে নামতে গিয়েছিল। বোনকে বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যু হয় দাদার। এদিকে ট্যাংরাতেও প্রবল বৃষ্টির ফলে ভেঙে পড়েছে গুদামের ছাদ। ঘটনায় একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এই নিয়ে গতকাল থেকে কলকাতায় বৃষ্টির কারণে তিন জনের মৃত্যু হয়। শুক্রবার বিকেলে বজ্রপাতের কারণে ভিক্টোরিয়া চত্বরেই প্রাণ হারান সুবীর পাল নামে এক ব্যক্তি।  আহত হয়ে স্ত্রী ও মেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন৷ একই পরিস্থিতি বাঁশদ্রোণীর মণ্ডল পরিবারেও৷ সেখানে বৃষ্টির সময় বাড়ির বাগানে ছিলেন গৃহকর্ত্রী অপর্ণা৷ বজ্রপাত কেড়ে নেয় তাঁর প্রাণ৷

এছাড়া জেলা থেকেও এসেছে মৃত্যুর খবর।  পাঁচ জেলা থেকে গতকালই আট জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। পুরুলিয়ায় বাজ পড়ে মৃত্যু হয়েছে একই পরিবারের তিন জনের। শনিবার খবর পাওয়া গিয়েছে, পেয়ারা ভাঙতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে বারুইপুরের নিহাটা কল্যাণপুর কুন্দরালি গ্রামের বাসিন্দা আনন্দ নস্করের। ঝলসানো অবস্থায় তাঁর দেহ গাছের নিচ থেকে উদ্ধার হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তারা আনন্দবাবুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। 

বৃষ্টির ফলে শহরের একাধিক জায়গায় দুর্ঘটনাও ঘটে গিয়েছে। রাতে সাড়ে তিনটে নাগাদ বিবেকানন্দ রোড ও বিধান সরণির মুখে দু’টি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। বিবেকানন্দ রোড ধরে গিরিশ পার্কের দিকে যাচ্ছিল একটি গাড়ি। অন্য একটি কন্টেনার বোঝাই লরি শ্যামবাজার থেকে কলেজ স্ট্রিটের দিকে আসছিল। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুটি গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। যদিও ঘটনায় কেউ নিহত হননি। এই ঘটনার কিছু পরেই মা উড়ালপুলে সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ দু’টি গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। গাড়ি দু’টিই পার্ক সার্কাসের দিকে যাচ্ছিল। গাড়ি দু’টির পাশাপাশি সংঘর্ষ হয়। একটি গাড়ির চালক গুরুতর আহত। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। এছাড়া লাউডন স্ট্রিটের সংযোগস্থলে একটি মার্সেডিজ গাড়িতে ধাক্কা মারে একটি জাগুয়ার গাড়ি। গুরুতর আহত হয়েছেন মার্সেডিজের সওয়ারিরা। এরপর ৩ পথচারীকে পিষে দেয় জাগুয়ার গাড়িটি। পলাতক জাগুয়ারের চালক। তার বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার মঙ্গলপুর গ্রামের কমবেশি কুড়িটি বাড়ির ছাউনি ভেঙে পড়ে। ইন্দাসের বিডিও ভদ্র চক্রবর্তী, থানার ওসি বিদ্যুৎ পাল-সহ প্রশাসনিক আধিকারিকরা ওই গ্রামে যান। দুর্গত পরিবারগুলিকে স্থানীয় আইসিডিএস কেন্দ্রে থাকার ব্যবস্থা করেন তাঁরা। তবে এর ফলে কোনও প্রাণহানি হয়নি বলে জানিয়েছেন বিডিও মানসী ভদ্র চক্রবর্তী।

পাঠকের মন্তব্য