পাইকগাছায় ভারী বর্ষণে পৌর এলাকাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত 

পাইকগাছায় ভারী বর্ষণে পৌর এলাকাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত 

পাইকগাছায় ভারী বর্ষণে পৌর এলাকাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত 

পাইকগাছা পৌরসভা সহ আশে পাশের বিস্তীর্ণ এলাকা ভারী বর্ষণের কারণে প্লাবিত হয়েছে। হাজার হাজার ছোট-বড় মৎস্য লীজ ঘের ভেসে গেছে। ডুবে গেছে শতশত পুকুর। ভেঙ্গে গেছে কাঁচা ঘর-বাড়ী সহ ব্যাপক ফসলাদি গাছ। অথচ, কিছুদিন আগেও বৃষ্টি না হওয়ার কারণে মানুষের হা-হুতাশ করতে দেখা গেছে। 

পানির অভাবে কৃষকেরা ধান ফেলতে পারছিল না, আষাঢ় মাস পেরিয়ে শ্রাবণও শেষ হতে চলল বৃষ্টির দেখা নাই। সেখানে গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষায় পাইকগাছার পৌরসভাসহ অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চারিদিকে পানি আর পানি। বাড়ির উঠানে, উপজেলার অফিস পাড়া, স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, রাস্তা, ফসলের ক্ষেত, লীজ ঘের সবই বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। জনজীবন বিপর্যস্ত। স্কুল কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতির হারও অনেক কমে গেছে। উল্লেখ্য, ঈদের আগের দিন থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি এরপর পরবর্তীতে একটানা ভারী বর্ষণের ফলে এ দুরাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মুলত গত এক সপ্তাহ বৃষ্টির পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে পৌর এলাকার ৪, ৫, ৬ নং ওয়ার্ডে ব্যাপক ও অন্যান্য প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের অধিকাংশ পরিবারগুলো পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। 

জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় তলিয়ে গেছে নলকূপ। এতে অধিকাংশ পরিবারগুলোকে কোমড় বা হাঁটু সমান পানি ঠেলে দূর থেকে সুপেয় পানি এনে পান করতে হচ্ছে। তাছাড়া পায়খানা, উঠান, ঘরে মধ্যে পানি বদ্ধ, ড্রেনের দুষিত পানি একাকার হওয়ায় চরম মানবেতর অবস্থার সম্মূখীন হতে হচ্ছে পরিবারগুলোর। তার সাথে ভূক্তভোগী পরিবারগুলোর রয়েছে ছোট শিশুদের পানিতে তলিয়ে যাওয়া, সাপের আক্রমনসহ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আতংক। পাইকগাছার লতা, দেলুটি, সোলাদানা, গদাইপুর, লস্কর, গড়ইখালী ও চাঁদখালীসহ সকল ইউনিয়নের শতশত মৎস্য লীজ ঘের ভেসে যেয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। পৌরসভা ৯নং ওয়ার্ডের হিরেন্দ্র নাথ সানা ও ইমন জানান, ভারী বৃষ্টি ও শিববাটি স্লুইচ গেটের পাট নষ্ট হওয়ার কারণে জোয়ারের পানি এলাকায় প্রবেশ করে এই জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা সব কিছু জানেন, কিন্তু প্রতিকার নেই। 

এছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ডের ভূক্তভোগী বাসিন্দাররা জানান, পাইকগাছা পৌরসভা প্রথম শ্রেণীর হলেও সেবার মান অতিনিম্ন। পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই, যে ড্রেনগুলো আছে অপরিকল্পিত, ছোট, গভীরতা কম, খালে নেটপাটা দেওয়া, যত্রতত্র ঘর বাড়ি নির্মাণ যাতে অল্প বৃষ্টিতে এলাকায় জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে জনজীবনে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে পৌর এলাকা প্লাবিত হলেও দ্রুত পানি নিস্কাশনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। 

পাঠকের মন্তব্য