সাতক্ষীরায় সুবিধাভোগী মায়ের সফলতার কাহিনী

সাতক্ষীরায় সুবিধাভোগী মায়ের সফলতার কাহিনী

সাতক্ষীরায় সুবিধাভোগী মায়ের সফলতার কাহিনী

মমতা রাণী যশোর জেলার কেশাবপুর উপজেলার পাঠরা গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রায়পুর গ্রামের শরিফ সরদারের সাথে তার বিয়ে হয়। স্বামীর জমি-জমা নেই বললেই চলে। 

শরিফ সরদার রাজমিস্ত্রী কাজের পাশাপাশি দিন মজুর হিসেবেও কাজ করেন। তার স্বল্প আয়ে দু’বেলা দুমুঠো পেটের ভাত জুটানো দুরুহ ছিল। দিন যেতে থাকে। সংসারে আসে ২টি সন্তান। বাড়তে থাকে আরো অভাব-অনটন। দারিদ্র্যের কষাঘাতে তিনি যখন জর্জরিত, ঠিক তখনই ২০১৪ সালে একদিন রায়পুরে উত্তরণের আঁচল মহিলা সংগঠনের মাঠ কর্মীর এর সাথে তার পরিচয় হয়। তার দুঃখের কাহিনী শুনে ওই মাঠ কর্মী তাকে সমিতির সদস্য হতে পরামর্শ দেন। পরামর্শ মতে ২০১৪ সনে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রায়পুরে উত্তরণের আঁচল মহিলা সংগঠনের সদস্য হন এবং ঐ বৎসরেই ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতে ৮০০০/- টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। এ টাকা দিয়ে তিনি একটি গাভী কিনে তা পালন করতে থাকেন। গাভীর দুধ বিক্রিত টাকা দিয়ে তিনি নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ ও সঞ্চয় করেন। ব্যবসার আয় দিয়ে দুই ছেলের লেখাপড়াসহ সংসার চালান। এর মধ্যে সে সঞ্চয়কৃত ৩০ হাজার টাকা দিয়ে দেড় বিঘা মাঠান জমি ক্রয় করেন। 

সেই জমিতে বর্তমানে সাদা মাছ চাষের ঘের করা হয়েছে। ওই ঘের থেকে প্রতি বছরে মমতা রাণী ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাভ পাচ্ছেন। তিনি সম্পুর্ণ ঋণ পরিশোধ করে ৫ দফায় ২০১৯ সালে আবার ৬০,০০০/- টাকা ঋণ গ্রহণ করেন যা দিয়ে তিনি একটি বকনা গাভী ক্রয় করেছেন। বর্তমানে তার ৩টি গরু আছে যা দিয়ে তিনি ভবিষ্যতে খামার করার স্বপ্ন দেখেছেন। তাঁর দুই সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে সুব্রত সরদার সাতক্ষীরা সরকারী কলেজে অনার্স এ পড়ছেন। আর ছোট ছেলে সুদিপ্ত সরদার রায়পুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেণীতে লেখাপড়া করছেন। 

বর্তমানে তার সংসারে স্বচ্ছলতা এসেছে। বাড়ীতে বিদ্যুৎ, টিভি ও ফ্যান এসেছে। তিনি উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখছেন। কথাগুলি বলতে বলতেই তার চোখে অশ্রু নেমে এলো। আর এ অশ্রুই ভবিষ্যতে বিত্তহীন থেকে মধ্যবিত্ত পরিবারের স্বপ্নে বিভোর করেছে তাকে। ইতোমধ্যে তিনি বাড়ীতে উন্নত স্যানিটেশনের ব্যবস্থাসহ বাড়ীর অবকাঠামো অনেক সুন্দর করেছেন। তাঁর এ সাফল্যের জন্য তিনি এনজিও সংস্থা উত্তরণের নিকট কৃতজ্ঞ। উত্তরণের মাধ্যমে তার মত অসহায় পরিবারের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটুক তিনি এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

পাঠকের মন্তব্য